ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদে পুলিশে চাকরি : ১৪ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে যশোরে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদে পুলিশে চাকরি নেয়ার অভিযোগে যোগদানের কয়েক বছর পর ১৪ জন কনস্টেবলের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ লাইনের আরওয়াই এম মশিউর রহমান বাদী হয়ে সোমবার কোতোয়ালি মডেল থানায় পৃথক তিনটি মামলা করেছেন। আসামিরা হলেন, যশোরের অভয়নগর উপজেলার নাউলি গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক ফকিরের ছেলে মিনাজ হোসেন (সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের কনস্টেবল নম্বর ৮৭৩), যশোর সদরের আন্দোলপোতা গ্রামের আফজাল মোল্যার ছেলে (গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কনস্টেবল নম্বর ১১৬৫) সালাউদ্দিন, যশোর সদরের বলরামপুর-মাথাভাঙ্গা গ্রামের নূর মোহাম্মদের ছেলে (খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কনস্টেবল নম্বর ৬০৫৯) নাসির উদ্দিন, যশোর সদরের নরসিংহকাঠি গ্রামের সাধন বিশ্বাসের ছেলে (ঢাকার এসপিবিএন কনস্টেবল নম্বর ১৩৪৯২) দেবাশীষ কুমার বিশ্বাস, যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার নরসিংহপুর গ্রামের দিপন বিশ্বাসের ছেলে (খুলনা আরআরএফ পুলিশ কনস্টেবল নম্বর ১৬৩) নব কুমার বিশ্বাস, যশোর সদরের এনায়েতপুর গ্রামের কওছার আলীর মেয়ে (নড়াইলের কনস্টেবল নম্বর ৫০৫) সোনিয়া খাতুন, যশোর সদরের ঘোপ ছাতিয়ানতলার সাইফুর রহমানের ছেলে (ঢাকার এন্টিটেরোরিজম ইউনিটের কনস্টেবল নম্বর ৮২১) রানা হাসান, যশোরের চৌগাছা উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামের মোজাম্মেল হকের ছেলে (খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কনস্টেবল ৬১৬৮) মনিরুজ্জামান, যশোর সদরের সুড়া গ্রামের সাধন সিংহের ছেলে (ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ৩৬০৬৭) বিপদো সিংহ, যশোর সদরের নরসিংহকাঠি গ্রামের অজিত বিশ্বাসের ছেলে (ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ৩৬১৬০ নম্বর কনস্টেবল) অমিত কুমার বিশ্বাস, যশোর সদরের আন্দোলপোতা গ্রামের বাশারত হোসেনের ছেলে (নড়াইলের কনস্টেবল নম্বর ৬১৭) আশিকুর রহমান, যশোর সদরের সুড়া গ্রামের কুমারেশ সিংহের ছেলে (ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কনস্টেবল নম্বর ৩৭২৪৭) সুজল সিংহ, যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার সাইটখালি গ্রামের আহাদ আলীর ছেলে (ঝিনাইদহের কনস্টেবল নম্বর ১৪৬৫) বাপ্পি মাহমুদ এবং যশোরের চৌগাছার কোটালিপুর গ্রামের আব্দুস সাত্তার বিশ্বাসের ছেলে (ঝিনাইদহের কনস্টেবল নম্বর ১২২৪) আলিম উদ্দিন।
একটি গোপন সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টার দিকে যশোর পুলিশ লাইন মাঠে পুলিশ কনস্টেবল পদে লোক নিয়োগ করা হয়। নিয়োগ বিধির ৪ নম্বর কলামে নিয়োগকৃতরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বলে কাগজপত্র দাখিল করে। পুলিশের হেডকোয়ার্টারের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দেয়া প্রতিবেদনে জানা যায় তাদের দাখিলকৃত কাগজপত্র ভুয়া। সে কারণে কনস্টেবল মিনাজ হোসেন, সালাউদ্দিন ও নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে প্রতারণামূলক কাগজপত্র দিয়ে চাকরি নেয়ার অভিযোগে এ মামলা করেন। অপর একটি মামলায় একই অভিযোগে ২০১৪ সালের ২৫ মার্চ যশোর পুলিশ লাইনে নিয়োগকৃত দেবাশীষ কুমার বিশ্বাসের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করা হয়। পাশাপাশি ২০১৩ সালের ১ জুন নিয়োগ দেয়া হয় নব কুমার বিশ্বাস ও সোনিয়া খাতুনের বিরুদ্ধে অপর একটি মামলা দেয়া হয় একই অভিযোগে। এছাড়া রানা হাসান, মনিরুজ্জামান, বিপদো সিংহ, অমিত কুমার বিশ্বাস, আশিকুর রহমান, সুজল সিংহ, বাপ্পি মাহমুদ এবং আলিম উদ্দিনকে ২০১৫ সালের ৩ ডিসেম্বর যশোর পুলিশ লাইন মাঠে নিয়োগ দেয়া হয়। নিয়োগকৃতদের একই ধরণের অভিযোগ রয়েছে। এ মামলা করা পর্যন্ত সকলেই নিজ নিজ কর্মস্থলে রয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *