বৃষ্টিতেই ভেঙে পড়ছে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া উপহারের ঘর, আতঙ্ক

গ্রামের সংবাদ ডেস্ক : টানা আড়াই ঘণ্টার বৃষ্টিতে গোপালগঞ্জের মধুপুরে মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের (আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর প্রথম পর্যায়) দু’টি ঘর ভেঙে পড়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার মধুপুর গ্রামের মধুপুর প্রকল্প এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

একই ঘটনা ঘটেছে বগুড়ার শেরপুরেও। বৃষ্টিতে ভূমিহীনদের নামে বরাদ্দ দেয়া বাড়ির একপাশের মাটি খালে ধসে গেছে। ফলে বেশ কয়েকটি ঘর ভেঙে পড়েছে। এতে সুবিধাভোগীদের মাঝে দেখা দিয়েছে চরম আতঙ্ক।

ভেঙে পড়া একটি ঘরের মালিক মো. ইব্রাহীম জানান, পেশাগত কাজে বাইরে থাকায় ঘটনার সময় তার স্ত্রী-সন্তানরা ঘরে ছিল না। কাজ থেকে ফিরে এসে দেখেন বারান্দাসহ ঘরের অনেকটা অংশ ভেঙে পড়েছে। ভুক্তভোগী আরেক বাসিন্দা মাহফুজা বলেন, ওইদিন বিকালের বৃষ্টিতে বালু সরে গিয়ে আমার ঘরেরও অনেকটা অংশ ভেঙে পড়েছে।

প্রকল্পের অনেক বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেছেন, অন্য ঘরগুলোও নানা ঝুঁকিতে রয়েছে। ৫ মাস আগে তারা ঘরগুলো পেয়েছেন।এরইমধ্যে অনেক ঘরেরই দেয়াল ও মেঝে থেকে পলেস্তারা খসে পড়ছে। সামান্য বৃষ্টিতেই টিনের চালার বিভিন্ন স্থান দিয়ে পানি পড়ে বিছানাপত্র সব ভিজে যাচ্ছে। ঘরের ভেতরে পানি জমে, জানালা-দরজাও নড়বড়ে। তাই ঝড়-বাদলের এমন দিনে নানা শঙ্কা নিয়ে তারা সেখানে বসবাস করছেন।

তবে এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, অতিবৃষ্টির কারণে সেখানে দু’টি ঘরে সমস্যা হয়েছে, আর কোন সমস্যা নেই। টুকিটাকি কোন সমস্যা থাকলে এক সপ্তাহের মধ্যে ঠিক করে দেয়া হবে।

এ ব্যাপারে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রাশেদুর রহমান বলেন, ঘর দু’টি ভেঙে পড়ার বিষয়টি দুর্ঘটনা মাত্র। তাছাড়া পাশের একটি আশ্রয়ণের বৃষ্টির পানি ওই প্রকল্পের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এ কারণেই ঘর দু’টি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এদিকে শেরপুরে বেশ কয়েকটি ঘর ভেঙে পড়ার ঘটনায় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তড়িঘড়ি করে খালের কিনারায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো নির্মাণ করা হয়েছে। আবার ওই খাল থেকেই মাটি কেটে বাড়ির চারপাশে মাটি ভরাট করা হয়। তাই সামান্য বৃষ্টিতেই মাটি খালে ধসে যাওয়ায় ঘরগুলোর এই হাল হয়েছে। মূলত আশ্রয়ণ প্রকল্পের জায়গা নির্ধারণে সংশ্লিষ্টদের অদূরদর্শীতার কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *