বাস বন্ধ তবু রুটি-রুজির খোঁজে ঢাকায় ছুটছে মানুষ,খরচ বেড়েছে তিনগুণ

আসাদুজ্জামান আসাদ।। নানা বিধি নিষেধ থাকলেও ঈদের আগে রাজধানী ঢাকা ছেড়ে গ্রামে আসা মানুষ গুলো আবার ফিরতে শুরু করেছে ঢাকায়।
যদিও গণপরিবহন চলছে না কিন্তু তাতে মোটেও আসা যাওয়ার পথে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়নি।সাতক্ষীরা ও বেনাপোল থেকে
মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকার গণপরিবহনের মত যাত্রী বহন করছে।রাতে গোপনে ২/১টি পরিবহনও যাতায়াত করছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

ভুক্তভোগিরা বলছেন, ঢাকামুখি পরিবহন বন্ধ হলেও যাতায়াত বন্ধ হয়নি। এতে ভোগান্তি, কষ্ট ও অর্থের অপচয় হয়েছে অন্তত তিনগুন বেশি।

শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মাইক্রোবাস প্রতিজন যাত্রীর কাছ থেকে ঢাকার ভাড়া নিচ্ছে ২ হাজার টাকা আর নন এসি মাইক্রোবাস নিচ্ছে দেড় হাজার টাকা।প্রাইভেটকার যাচ্ছে ৮ থেকে ১০হাজার টাকায়।

বেনাপোলে যাত্রীর অপেক্ষায় থাকা একটি মাইক্রোবাসে আগে থেকে চড়ে বসা একজন যাত্রী মওদুদ আহমেদের সাথে কথা হয় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের এই প্রতিবেদকের। কেন এভাবে যাচ্ছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যাওয়া তো লাগবেই। তাই য্যেমনে পারতাছি যাইতাছি। এই গাড়ি ঢাকা পর্যন্ত ক্যামনে যাইবো, সেটাই ভাবতাছি।’

‘কে লাইন পরিবহনের’ জামতলা কাউন্টারে বসে ছিলেন শার্শার বেনেখড়ি গ্রামের মাজেদুল হক। তিনি চট্রগ্রামে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার একটি কোম্পানিতে কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন। ঈদের দু’দিন আগে এসেছিলেন গ্রামের বাড়ি।
মাজেদুল বলেন, বুধবার অফিস করতে হবে তাই বিকল্প পদ্ধতিতে যাওয়ার চেষ্টা করছি। বিমানের টিকিট পাইনি। সাতক্ষীরা থেকে আসা মাইক্রোবাসে একটা সিটের ব্যবস্থা করে দিয়েছে এই কাউন্টার। অন্তত ঢাকা পর্যন্ত যায়। ওখান পৌছে চট্রগ্রামের কথা ভাববো।

মহাসড়কে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তিনচাকা চলছে। এলাকা ভিত্তিক এগুলো একটি নির্দিষ্ট দূরত্ব পর্যন্ত যাত্রী বহন করছে। গণপরিবহনের জায়গা নিয়েছে মূলত ট্রাক ও পিকআপ।তবে মাইক্রো, প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল এখন ঢাকামুখী মানুষের একমাত্র ভরসা।

এদিকে পরিবার নিয়ে নাভারন মোড়ে গাড়ির অপেক্ষায় দাড়িয়ে আছেন আশরাফুল ইসলাম।তিনি ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করেন।তিনি কিছুটা উদ্বিগ্ন। ঘণ্টা খানেক হলো দাড়িয়ে আছেন কিন্তু এখনও যাওয়ার জন্য কোন গাড়ি পাননি। পাবেন কিনা সেটাও বুঝতে পারছেন না।
আশরাফুল বলেন, আজকে ছুটি শেষ হয়ে যাচ্ছে। তাই যেতেই হবে। কাল থেকে অফিস করতে হবে। শেষ ভরসা হিসেবে অপেক্ষায় আছি কোন মাইক্রোবাসের। না হলে পিকআপে পরিবার নিয়ে যেতেই হবে।

ভোর থেকেই যশোর-সাতক্ষীরা ও যশোর-বেনাপোল মহাসড়ক জুড়ে ব্যাপক পরিমাণ প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাসের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। অনেকে ব্যক্তিগত গাড়িতে ঢাকা ফিরছেন। কেউবা প্রাইভেট কার ভাড়া করেছেন। আবার অনেকে মাইক্রোবাসের মত যানে কয়েকজন মিলে শেয়ারে ঢাকার পথ ধরেছেন। তবে এসব যানে সাধারণ সময়ের তুলনায় বর্তমানে দেড় থেকে দুই গুন পর্যন্ত বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে। অনেকে আবার মোটরসাইকেলের মত দুই চাকার যানে পাড়ি দিচ্ছেন দীর্ঘ পথ। স্বপরিবারেও অনেকে ঢাকার পথে রওনা দিয়েছেন মোটরসাইকেলে করে।

পথে কোন সমস্যা হচ্ছে কিনা এমন প্রশ্নে প্রাইভেটকার চালক জাকির হোসেন বলেন, ‘সমস্যা তো কিছু অইবোই। পুলিশি ঝামেলা থাকবোই। এরপরও যাইতে তো ওইবো। করোনায় প্রায় এক মাস বওয়া আছিলাম। পরিবহন বন্ধ থাকআই কিছু ইনকাম হইলো। আর মাইনষের কত উপকার অইলো বলেন।‘

যে করোনার জন্য এতকিছু, এত পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার, সেই স্বাস্থ্যবিধি মহাসড়কে কিছুটা উপেক্ষিত বলেই দেখা গেছে সরেজমিনে। মানুষজন অনেকটা বাধ্য হয়েই ট্রাক ও পিকআপে গায়ে গাঁ ঘেঁষে দীর্ঘ সময় যাত্রা করছে। তবে মুখে মাস্ক দেখা গেছে বেশির ভাগ যাত্রীর। অনেকের মাস্ক দেখা গেছে তাদের হাতে,পকেটে কিংবা থুতনির নীচে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *