বাঘারপাড়ায় কোটি টাকা নিয়ে ব্যাংকের এজেন্ট উধাও আমানতের টাকা ফেরতের দাবিতে গ্রাহকদের মিছিল

সাঈদ ইবনে হানিফ ঃ (বাঘারপাড়া) যশোর ঃ যশোরের বাঘারপাড়ায় ব্যাংক (এশিয়ার) এজেন্ট জাহিদ হাসানের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সে উপজেলার জহুরপুর ইউনিয়নের হলদা গ্রামের বাসিন্দা। এ ঘটনায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বাদি হয়ে তার বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন বলে জানা গেছে।
৩০ জুন (বুধবার) ব্যাংক এশিয়ার যশোরের রিলেশনশিপ কর্মকর্তা লিকু আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে মঙ্গলবার সকালে মেয়াদি আমানতের টাকা ফেরতের দাবিতে প্রতারণার শিকার ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা চতুরবাড়িয়া বাজারে এজেন্ট আউটলেট ঘেরাও করে মিছিল-সমাবেশ করে।

প্রাপ্ত সূত্রে জানায়, গত তিন বছর আগে বাঘারপাড়া উপজেলার (উত্তর-পশ্চি) সীমান্তবর্তী চতুরবাড়িয়া বাজারে ব্যাংক এশিয়ার এজেন্ট আউটলেটটি উদ্বোধন করা হয়। এখানে নিয়োগ পান জাহিদ হাসান। আউটলেটটিতে সঞ্চয় স্কিম (ডিপিএস), মেয়াদি আমানত ও সঞ্চয়ী হিসাব মিলে প্রায় এক হাজার গ্রাহক লেনদেন করতেন। এর মধ্যে বেশির ভাগই মেয়াদি আমানতের গ্রাহক ছিলেন। এছাড়া আউটলেটটি থেকে বিদেশ থেকে পাঠানো আয় (রেমিটেন্স) বিতরণ করা হতো। আবার প্রতি মাসে দুই হাজারেরও বেশি গ্রাহক এখানে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেন। এই অঞ্চলের অধিকাংশ পরিবারের কর্তা প্রবাসী হওয়ায় তাদের স্বজনদের টার্গেট করেন জাহিদ হাসান। ব্যাংকিং নীতিমালা উপক্ষো করে উচ্চ হারে লাভের প্রলোভন দেখিয়ে তার মাধ্যমে টাকা জমা রাখতে প্রলুবব্ধ করেন। অতি মুনাফার আশায় অনেক মানুষ টাকা জমা রাখেন। তবে এজেন্ট জাহিদ হাসান নিজের ছাপানো ভুয়া রশিদ ব্যবহার করে গ্রাহকদের টাকা সংগ্রহ করেন। সম্প্রতি কিছু গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া আসতে শুরু করলে তাঁরা খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, বিলের টাকা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে জমা হয়নি। বিদ্যুৎ বিলের ঘাপলার কারণে ধীরে ধীরে আমানতের টাকার হিসাবও বের হতে থাকে। যে কারণে গত রোববার থেকে আউটলেটটি বন্ধ রেখে গা-ঢাকা দিয়েছেন এজেন্ট জাহিদ হাসান। এ ঘটনায় মঙ্গলবার প্রতারণার শিকার ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা টাকা ফেরতের দাবিতে চতুরবাড়িয়া বাজারে মিছিল-সমাবেশ করে।

এ ব্যাপারে ব্যাংক এশিয়ার চতুরবাড়িয়া এজেন্ট’র কাস্টমার সার্ভিস কর্মকর্তা মনির হোসেন সাংবাদ কর্মীদের জানান, তিনি অনিয়মিত অফিসে বসতেন। তাঁর মা অসুস্থ থাকায় প্রায়ই তাকে নিয়ে ভারতে যাওয়া আসা করতে হতো। গত বছরের ডিসেম্বরে চাকুরি ছেড়ে দিয়েছেন। এজেন্ট, জাহিদ হোসেন মেয়াদি আমানত ও ডিপিএসের টাকা গ্রাহকের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সংগ্রহ করতেন। যে কারণে গ্রাহকের এজেন্ট আউটলেটে আসতে হতো না।

চতুরবাড়িয়া বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) আমির হোসেন আমু বলেন, ‘কেউ ৪ লাখ, কেউ ৭ লাখ টাকা জমা দিয়েছে। আবার কেউ বা দিয়েছে ১০ লাখ টাকা। এ রকম অনেক মানুষ উচ্চ লাভের প্রলোভনে টাকা জমা দিয়েছে। তবে জাহিদ গ্রামের এসব সহজ-সরল মানুষকে বোকা বানিয়ে ভুয়া রশিদ দিয়ে টাকা সংগ্রহ করেছে। এখন সে টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছে।’এ ব্যাপারে

জানতে চাইলে বুধবার বিকেলে ব্যাংক এশিয়ার যশোরের রিলেশনশিপ কর্মকর্তা লিকু আহমেদ বলেন, ‘আমরা গ্রাহকের কাছ থেকে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পেয়েছি। মঙ্গলবার ঢাকা থেকে ব্যাংকের দু’জন নিরীক্ষক এসেছেন। তাদের সাথে সরেজমিনে তদন্ত করে এ পর্যন্ত প্রায় ৪৪ লাখ টাকার হিসাব পেয়েছি। তবে গ্রাহকরা এজেন্ট ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার কোন রশিদ দেখাতে পারেননি।’

লিকু আহমেদ বলেন, ‘এ ঘটনায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বাদি হয়ে জাহিদ হাসানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে গতকাল মঙ্গলবার (২৯ শে জুন) বাঘারপাড়া থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। এখনো পর্যন্ত তার খোঁজ মিললেও এজেন্ট আউটলেটটি বর্তমানে দেখভাল করছেন ব্যাংক এশিয়া যশোর ব্রাঞ্চ।’

এ ব্যাপারে বুধবার বিকেলে বাঘারপাড়া থানার ওসি ফিরোজ উদ্দীন, সাংবাদ কর্মীদের বলেন, ‘ব্যাংক কর্তৃপক্ষ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছে। জাহিদ হাসানকে খুঁজে বের করতে ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে পুলিশ।’

এবিষয়ে সংবাদ কর্মীরা বিভিন্ন মাধ্যমে চেষ্টা করে ও অভিযুক্ত এজেন্ট জাহিদ হাসানের সাথে যোগাযোগ করতে পরেনি। । তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *