বকুল সিটি পার্ক এন্ড পিকনিক কর্নারে মালিকের বিরুদ্ধে শ্রমিক নেতার অভিযোগ

ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার দোড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী, আওয়ামীলীগ থেকে বহিস্কৃত শামীম আরা হ্যাপী ও তার স্বামী মহসীন আলী বকুলের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। ঝিনাইদহ জেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয় শ্রমিকলীগের যুগ্ম আহবায়ক জাহাঙ্গীর আলম সাগর এই দম্পত্তির বিরুদ্ধে আদালতে চেক ডিজঅনারের মামলা করেছেন। শনিবার সন্ধ্যায় শহরের হামদহ বাসষ্ট্যান্ডে ট্রাক, ট্রাক্টর, কাভার্ডভ্যান ট্র্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়ন ভবনে লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, আমার এক্সকেভিটর গাড়ির ব্যাবসা আছে। প্রায় তিন বছর আগে মো. মহসীন আলী বকুল ও তার স্ত্রী মিসেস শামীম আরা হ্যাপী পাঁচলিয়া গ্রামে তাদের নিজস্ব মালিকানাধীন বকুল সিটি পার্ক এন্ড পিকনিক কর্নারে পুকুর খননের জন্য এক্সকেভিটর গাড়ি ভাড়া করে। পুকুর খননের পর্যায়ক্রমে সাত লাখ বারো হাজার টাকা পাওয়ানা হয়। অনেক প্রচেষ্টার পর তাদের কাছ থেকে তিন লাখ টাকা আদায় করতে পারি। বাদবাকি পাওনা ৪ লাখ ১২ হাজার টাকার বিপরীতে আমাকে ব্যাংকের দুইটি চেক প্রদান করে। কিন্তু নির্ধরিত তারিখে ব্যাংক থেকে টাকা না পেয়ে আমাকে হয়রানীর শিকার হতে হয়। এই দম্পতির উদাসীনতার কারণে আর্থিক ভাবে আমি চরম ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হই। পরবর্তীতে এই দম্পত্তি যোগাযোগ বন্ধ করে দিলে বাধ্য হয়ে ব্যাংক চেক দুইটি আইনগত প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হতে ডিজঅনার করিয়ে ডিজঅনার ¯িøপের মাধ্যমে মামলা করি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শ্রমিক নেতা জাহাঙ্গীর আলম সাগর বলেন, গত বুধবার বাকী টাকা প্রদানের দিন ছিল। দুই হাজার টাকা গাড়ি ভাড়া করে কোটচাঁদপুরের পাঁচলিয়া গ্রামে গিয়ে টাকা দাবী করলে আবারো ছলচাতুরীর আশ্রয় নেন। এই দম্পত্তিকে প্রতারক ও ঠকবাজ হিসেবে দাবী করে শনিবার বিকালে জাহাঙ্গীর আলম সাগর নিজের ফেসবুক পেইজে স্ট্যাটাসও দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শ্রমিক নেতা সাগর উল্লেখ করেছেন “প্রতারক, ঠকবাজ এবং জালিয়াতি চক্রের ফাঁদে যাতে কেউ না পড়েন, সেজন্যই আমার পক্ষ থেকে যোগাযোগ মাধ্যম এই ফেসবুকে লিখিত বক্তব্য দ্বারা সকলকে শতর্ক করলাম”। এ বিষয়ে জাহাঙ্গীর আলম সাগরের আইনজীবী এড. সালমা খাতুন জানান, এই দম্পতির বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী হলেও তারা ধার্য্যদিনে হাজির না হয়ে অন্যদিন জামিন নেন। তিনি বলেন, তাদের বিরুদ্ধে শুনেছি ৩ কোটি টাকার মামলাও আদালতে চলমান রয়েছে। এ বিষয়ে শামীম আরা হ্যাপী জানান, তিনি তো পাওয়ানা টাকার জন্য আদালতে মামলা করেছেন। আমরা তাকে টাকা দিয়ে দেব। তিনি নির্বাচনী গনসংযোগে ব্যস্ত থাকায় বেশি কথা বলতে পারেননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *