ফাঁস হলো বিশ্বের প্রথম করোনা রোগীর তথ্য, ছিলেন মাছ বিক্রেতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : করোনাভাইরাসের উৎপত্তিস্থল চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান শহর থেকে তা ছড়িয়ে পড়ে সারাবিশ্বে। এ ভাইরাসটি এখন গোটা বিশ্বের আতঙ্ক। শনিবার সকাল পর্যন্ত করোনায় নিহতের সংখ্যা ২৭ হাজার ৩৫২ জন এবং আক্রান্তের সংখ্যা ৫ লাখ ৯৬ হাজার ৭২৩ জন। তবে ভাইরাসটিতে বিশাল সংখ্যক মানুষ সংক্রমিত হলেও প্রথম কে এটিতে আক্রান্ত হয়েছিল তা জানতে গবেষকদের কৌতূহলের শেষ ছিল না। এটি জানানোর জন্য চীনকে বারবার বলা হলেও তা জানায়নি। অবশেষে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম সেই ব্যক্তির তথ্য ফাঁস হয়েছে।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চীনের উহান শহরেরই এক নারী সবার আগে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হন। তার নাম উই গুইশিয়ান, বয়স ৫৭ বছর। উহানের হুনান মার্কেটে বাগদা চিংড়ি বিক্রি করতেন।

বন্যপ্রাণী বিক্রির বাজারে তার দোকান ছিলো বলেও সম্প্রতি ফাঁস হওয়া নথিতে বেরিয়ে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই নারী গত বছরের ১০ ডিসেম্বর অসুস্থ হয়ে পড়েন। ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯ সালে তাকে উহান হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু ততদিনে হুনানের অনেকের শরীরেই তার মতো লক্ষণ দেখা দেয়া শুরু হয়। ঠান্ডাজনিত সমস্যা ভেবে প্রথমে তিনি স্থানীয় ক্লিনিকে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। এরপর আবারো চিংড়ি বিক্রি শুরু করেন। সে সময়েই তার মাধ্যমে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে।

চীনের একটি সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিককে ওই নারী বলেন, আমি ক্লান্ত হয়ে পড়ছিলাম। আমি এর আগেও এরকম ক্লান্তি অনুভব করেছি। তিনি আরো জানান, প্রত্যেক শীতে তিনি ফ্লুতে আক্রান্ত হন। সে কারণে তিনি ভেবেছিলেন এটা সাধারণ ফ্লু। আটদিনের মাথায় অবশ্য তাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। হাসপাতালে ভর্তির পর তার অবস্থা আরো খারাপের দিকে যায়।

উই গুইশিয়ান বলেন, চিকিৎসকরা বুঝতে পারছিলেন না, আমার সঙ্গে কী ঘটেছে। একপর্যায়ে আমাকে কিছু ইনজেকশন লিখে দিয়ে হাসপাতাল থেকে রিলিজ দেয়া হয়।

এরপর তিনি আবারো হাসপাতালে যান এবং বাড়তি ইনজেকশন চান। তিনি দাবি করেন, তার শরীরে কোনো অ্যালার্জি ছিলো না। ডিসেম্বরের শেষের দিকে তাকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়। ৩১ ডিসেম্বর যে ২৭ জনকে পরীক্ষা করে দেখা হয়, তাদের একজন ছিলেন উই গুইশিয়ান। এছাড়াও যে ২৪ জনের হুনান মার্কেটের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ছিল, তার মধ্যেও তিনি ছিলেন একজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *