প্রথিতযশা সাংবাদিক শহীদ শামছুর রহমানের ২১ তম হত্যাবার্ষিকীতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ কালো ব্যাচ ধারণ, শোক র‌্যালি, শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া মাহফিলের মধ্য দিয়ে যশোরে পালন করা হয়েছে প্রথিতযশা সাংবাদিক শহীদ শামছুর রহমান কেবলের ২১ তম হত্যাবার্ষিকী। এ সব কর্মসূচি থেকে ঘাতকদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে প্রেসক্লাব যশোরে সাংবাদিকরা উপস্থিত হয়ে কালো ব্যাজ ধারণ করেন। পরে শোক র‌্যালি নিয়ে যশোর শহরের কারবালা কবরস্থানে গিয়ে শহীদের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুনের নেতৃত্বে প্রেসক্লাব যশোর নেতৃবৃন্দ প্রথমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

পরে সভাপতি একরাম-উদ-দ্দৌলা ও সাধারণ সম্পাদক মবিনুল ইসলাম মবিনের নেতৃত্বে যশোর সংবাদপত্র পরিষদ, সভাপতি ফারাজী আহমেদ সাঈদ বুলবুল ও সাধারণ সম্পাদক এইচ আর তুহিনের নেতৃত্বে যশোর সাংবাদিক ইউনিয়ন (জেইউজে), সভাপতি এম আইয়ুব ও সাধারণ সম্পাদক আকরামুজ্জামানের নেতৃত্বে সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোর, সভাপতি শেখ দিনু আহম্মেদের নেতৃত্বে যশোর জেলা সাংবাদিক ইউনিয়ন, সভাপতি মনিরুজ্জামান মনিরের নেতৃত্বে যশোর জেলা ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন ও বার্তা সম্পাদক মিজানুর রহমান মুনের নেতৃত্বে দৈনিক স্পন্দন পরিবার। এছাড়া সাংবাদিক সংগঠন ৬টির সাবেক নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন পত্রিকা ও মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। শ্রদ্ধা নিবেদনের পরে শহীদ সাংবাদিক শামছুর রহমান কেবলের রূহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

আদালত সূত্র জানায়, ২০০০ সালের ১৬ জুলাই রাতে সাংবাদিক শামছুর রহমান খুন হবার পর ২০০১ সালে সিআইডি পুলিশ এই মামলায় ১৬ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। পরে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসার পর বর্ধিত তদন্তের নামে এই মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীকে বাদ দিয়ে সাক্ষী করা হয় আসামিদের ঘনিষ্টজনদের। এতে একদিকে মামলার বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়; অন্যদিকে দুর্বল হয়ে যায় চার্জশিট। এরপর বিতর্কিত ওই বর্ধিত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর ২০০৫ সালের জুন মাসে যশোরের স্পেশাল জজ আদালতে এই মামলার চার্জ গঠন হয়। ওই বছরের জুলাই মাসে বাদীর মতামত ছাড়াই মামলাটি খুলনার দ্রুত বিচার আদালতে স্থানান্তর করা হয়। এ অবস্থায় মামলার বাদী শহীদ শামছুর রহমানের সহধর্মিণী সেলিনা আখতার লাকি বিচারিক আদালত পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ২০০৫ সালের সেপ্টেম্বরে হাইকোর্টে আপিল করেন। আপিল আবেদনে তিনি বলেন, মামলার অন্যতম আসামি খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী হিরক পলাতক রয়েছে। হিরকসহ সংশ্লিষ্ট মামলার অন্যান্য আসামিদের সাথে খুলনার সন্ত্রাসীদের সখ্যতা রয়েছে। ফলে তার (বাদী’র) পক্ষে খুলনায় গিয়ে সাক্ষী দেয়া খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। বাদীর এই আপিল আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট মামলাটি কেন যশোরে ফিরিয়ে দেয়া হবে না তার জন্য সরকারের উপর রুলনিশি জারি করেন। এরপর মামলায় বর্ধিত তদন্তে সংযুক্ত আসামি ফারাজী আজমল হোসেন উচ্চ আদালতে একটি রিট করেন। সেই রিটের নিষ্পত্তি না হওয়ায় মামলার সমস্ত কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *