পুলিশ প্রশাসন নিরব, আটক হয়নি শিশু বলৎকারী চৌগাছা ডিগ্রী কলেজের ছাত্র ফিরোজ

চৌগাছা প্রতিনিধিঃ যশোরের চৌগাছার খড়িঞ্চা গ্রামের ইমামুল হোসেনের ছেলে ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র ইয়ামিন (৭) গত শুক্রবার ৩০ আগষ্ট বলৎকারের শিকার হয় একই গ্রামে এবং পাশাপাশি বাড়ি শরিফুল ইসলামের ছেলে ও চৌগাছা সরকারি কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ফিরোজের দ্বারা।
বলৎকারের শিকার শিশুটির পরিবার সূত্রে জানা যায়, এই বিষয়ে চৌগাছা থানায় অভিযোগ দায়ের করলেও কোনো ফল হয়নি। নিরবে, নিভৃতে, আরাম-আয়েশে দিন কাটাচ্ছে শিশু বলৎকারী ফিরোজ। শিশুটিকে ঐ দিনেই চৌগাছা সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করলে রক্তক্ষরণ ও ক্ষতের সৃষ্টি হওয়ায় শিশুটিকে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল কতৃপক্ষ যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করে। সাথে সাথে পরিবারটি চৌগাছা থানায় অভিযোগ দায়ের করে। এতে বলৎকারীর পরিবার শিশুটির পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেয়। এত হুমকি-ধামকার পরে এখন শিশু বলৎকারী অনুনয়-বিনয় করে ক্ষমা চেয়ে, কাকুতি-মিনতি করছে এবং খুব আরাম আয়েশে দিন কাটাচ্ছে। পুলিশ প্রশাসন নিরব থাকায় ইসলামীক রাষ্ট্রে বসবাস করে এত বড় একটা নিকৃষ্ট, জঘন্য ও নিম্ন মানের কাজ করেও পার পেয়ে যাচ্ছে শিশু বলৎকারী চৌগাছা সরকারি কলেজের ছাত্র ফিরোজ।
এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কিছু লোকের ভাষ্য চুরি করে একটা বাল্য বিবাহ হলে এবং নিউজ হলে তা চোখে পড়লে উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ উচ্চপদসস্থ প্রশাসনের ব্যক্তিবর্গ যদি দুই বছর পর্যন্ত তা বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে পারে তবে এত বড় নিকৃষ্ট কাজে আসামী আটক হয়নি ব্যাপারটি সম্পর্কে নিউজ চোখে পড়লেও দেশের প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গকে কি বসে থাকা উচিৎ? তাহলে আমরা সাধারণেরা কাদের আশ্রয়ে দেশে বাস করবো? এই প্রশ্ন রইলো প্রশাসনের কাছে।
বলৎকারের শিকার হওয়া শিশুটির পরিবার সূত্রে জানা যায়, সাত বছরের শিশু ইয়ামিন দুপুরে তাদের বাড়ির পাশে একটি পুকুরে গোসলের জন্য যাচ্ছিলো। এসময় ফিরোজ শিশুটিকে ভালিয়েভুলিয়ে ডেকে নিয়ে মাঠে পাট ক্ষেতে নিয়ে তার উপর যৌন ক্ষুদা মেটাতে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে। এতে শিশুটির অনেক রক্তক্ষরণ হয়। এই বিষয়টি শিশুটি তার বাড়িতে ফিরে এসে মাকে বললে তারা চিকিৎসার জন্য চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক মঞ্জুরুল ইসলাম জানান শিশুটি অধিক রক্তক্ষরণ এবং শারীরিক ক্ষতের শিকার হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে যশোর মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় চৌগাছা থানায় শিশুটির পরিবারের  পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়েরের পর অভিযুক্ত ফিরোজকে আটকের জন্য চেষ্টা চলছে বলে থানা সূত্রে জানা যায়। এ ব্যাপারে চৌগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ রিফাত খাঁন রাজিব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
কিন্তু আজ চার দিন পার হলেও আসামী ফিরোজ আটক হয়নি। আরাম-আয়েশে দিন কাটাচ্ছে। আর পুলিশ প্রশাসনসহ উপজেলা প্রশাসন ঘুমাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *