নড়াইলে শিক্ষকের কাছ থেকে ১১ লাখ টাকার চেকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর : দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চায় মুলিয়াবাসী

নড়াইল প্রতিনিধি ॥ নড়াইলে শিক্ষকের কাছ থেকে ১১ লাখ টাকার চেকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেয়ার মূল হোতা নজরুলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চায় মুলিয়াবাসী। ঘটনার পর থেকে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে মুলিয়া এলাকায়।

নজরুল মোল্যা ও তার ছেলে রিজভীর নানা অপকর্ম ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছেন মুলিয়া বাজারের এবং বাহিরগ্রামের ব্যবসায়ীরা।মাছ কিনে জেলেদের টাকা না দেয়া, ও ষধের দোকান থেকে ওষধ কিনে টাকা না দেয়া, মুদি দোকান ও কাঁচা মালের দোকান থেকে মালামাল কিনে টাকা না দেয়ার অহরহ ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে নড়াইল পৌরসভার দক্ষিণ নড়াইলের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম মোল্যা।সন্ত্রাসী নজরুল মোল্যা ও তার ছেলে রিজভীর সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ও নানা অপকর্মের বিরুদ্ধে মুলিয়া-বাহিরগ্রাম এলাকার কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পান না।ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙ্গিয়ে হিন্দু অধ্যুষিত মুলিয়া এলাকায় জমি দখলসহ নিরীহ জনগনের উপর দীর্ঘদিন ধরে অত্যাচার নির্যাতন চালিয়ে আসছে নজরুল ও তার ছেলে রিজভী।তাদের অপকর্মের কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে দেশ ছাড়া করার হুমকি দেয়া হয়।মালামালের দাম চাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে অনেক নিরীহ ব্যবসায়ীর ব্যবসা কেন্দ্র বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দেয়া হয়েছে।নাম প্রকাশ না করার শর্তে মুলিয়া বাজারের বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী এ প্রতিনিধিকে জানান,নজরুল মোল্যা আমাদের দোকান থেকে মালামাল কিনে তার দাম পরিশোধ করেননি।অনেক দোকানদারের অর্ধেক মূল্য পরিশোধ বাকী টাকা দেননি।বাকী টাকা চাইলে নজরুল মোল্যা আমাদেরকে হুমকি দেন বলে জানান ব্যবসায়ীরা। নজরুল অভাবী ও দরিদ্র পরিবারের সন্তান হলেও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ঘটিয়ে এবং জবর দখলের মাধ্যমে এখন তিনি কোটি কোটি টাকার অবৈধ সহায় সম্পদের মালিক হয়েছেন।নজরুল ও তার ছেলে রিজভীর সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের কাছে দক্ষিণ নড়াইল থেকে শুরু করে মুলিয়া পর্যন্ত বসবাসরত লোকজন জিম্মি বলে এলাকার লোকজন জানান।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১০ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে নড়াইল পৌরসভার দক্ষিণ নড়াইল এলাকার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম মোল্যা, তার ছেলে রিজভী, সহযোগি সাধন বিশ্বাস, শামীমসহ ৯/১০জন সন্ত্রাসী মুলিয়া খেলার মাঠের উত্তর-পূর্ব পাশে নড়াইল সদর উপজেলার মুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা জেলা বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক স্কুল শিক্ষক কল্যান বিশ্বাসের পথরোধ করে ঘিরে ফেলে।সন্ত্রাসীরা তাকে শারীরিকভাবে আঘাত ও লাঞ্চিত করে হত্যার হুমকি দেয়। এক পর্যায়ে তারা অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাকে বাড়িতে ধরে নিয়ে গিয়ে বেতনের চেক বইয়ের একটি পাতায় ১১ লাখ টাকা লেখিয়ে জোরপূর্বক স্বাক্ষর করে নিয়ে যায়।এ সময় তারা বলে বিষয়টি জানাজানি করা হলে তোকে হত্যা করে চিত্রা নদীতে ফেলে দেয়া হবে।বিষয়টি তিনি ততক্ষনাৎ স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে অবহিত করেন।এ ব্যাপারে গত ২৮ সেপ্টেম্বর নড়াইল সদর থানায় তিনি এজাহার দায়ের করেন।ঘটনার পর থেকে তিনি জীবন নাশের হুমকি নিয়ে চলাফেরা করছেন বলে জানান শিক্ষক কল্যান বিশ্বাস।এ ঘটনায় জড়িত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
সূত্রে আরো জানা যায়, অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে হাড়িয়াখালী সরকারি প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক কল্যান বিশ্বাসের কাছ থেকে ১১ লাখ টাকার চেকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেয়ার প্রতিবাদে গত ২ অক্টোবর মুলিয়া বাজার এলাকায় শত শত নারী-পুরুষের অংশগ্রহণে বিশাল এক মানববন্ধনে অনুষ্ঠিত হয়। মানব বন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা নজরুল ও তার ছেলে রিজভী, সাধন বিশ্বাসসহ অন্যান্য সহযোগীদের অত্যাচার,নির্যাতন ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড থেকে রক্ষা পেতে প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ ব্যাপারে নজরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,আমি কোন সন্ত্রাসী কিংবা জবরদখলমূলক কাজের সঙ্গে জড়িত নই।রুপগঞ্জ এলাকার লিটন দত্ত তার কাছ থেকে বালির ব্যবসা জন্য ৯ লাখ টাকা নেন।লিটন পলাতক থাকায় তার চাচাতো শ্যালক কল্যানের কাছ থেকে ১১লাখ টাকা চেক নেওয়া হয়েছে।পরবর্তীতে চেকটি মুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে ফেরত দেওয়া হয়েছে।শিক্ষক কল্যানকে মারধর বা জীবন নাশের হুমকি দেওয়া হয়নি বলে তিনি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *