দীর্ঘ দেড় বছর বন্ধ থাকার পর ফের শিক্ষার্থীদের প্রিয় আঙ্গিনা খুলছে

স্টাফ রিপোর্টার : করোনা মহামারীর কারনে দীর্ঘ দেড় বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার পরে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর খুলে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে বিভিন্ন নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে। দীর্ঘ দিন পরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার খবরে খুশিতে আত্মহারা কোমলমতি শিশুরা। এদিকে শিক্ষার্থীদের বরণে প্রিয় প্রাঙ্গণও সেজেছে ।

আজ বুধবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছ শ্রেণি কক্ষগুলো পরিস্কার করা হচ্ছে, চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।

দীর্ঘ দেড় বছর বন্ধ থাকার পর ফের শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শিক্ষার্থীদের বরণ করতে অপেক্ষায় প্রিয় প্রাঙ্গণ। এতোদিন পরে শিক্ষার্থীদের আনাগোনা হবে এতে আবেগে আপ্লুত শিক্ষক কর্মচারীরা। স্বাস্থ্য বিধি মানার জন্য কি কি পদক্ষেপ নেওয়া যায় সে বিষয়ে আলাপ-আলোচনা ও মিটিং করছে কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান। এদিকে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে মাস্ক, হ্যান্ডসেনিটাইজারের ব্যবস্থা করেছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। তাপমাত্রা মাপার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কারো শরীরে অতিরিক্ত তাপমাত্রা থাকলে তাকে বাসায় ফেরত পাঠানো হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ঘোষণা আসায় কর্মচারী ও পরিচ্ছন্নকর্মীরা শ্রেণিকক্ষ পরিস্কার করতে ব্যস্ত রয়েছেন। আর মাত্র তিনদিন বাকি থাকায় শেষ মুহুর্তে তাদের যেন দম ফালানোর সময় নেই। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দেখা যায় শিক্ষক কর্মচারীদের আনাগোনা। অনেক শিক্ষক শ্রেণি কক্ষে বসে খাতা দেখায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।

রাজধানীর সনটেক, দনিয়া, যাত্রাবাড়ী অগ্রদূত বিদ্যানিকেতন হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক তালুকদার বব্দুল মান্নাফ বলেন, স্বাস্থ্য বিধির বিধির বিষয়ে সরকারের যেসকল নির্দেশনা রয়েছে তা মেনেই প্রতিষ্ঠান পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছি। প্রবেশ পথে শিক্ষার্থীদের মাস্ক নিশ্চিত করা হবে এছাড়া হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখা হবে। ভিতরে হাত ধোঁয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। যাদের মাস্ক না থাকবে তাদের জন্য ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি বলেন, দীর্ঘ দিন যাবৎ শিক্ষকতা করছি প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলে কি যে বিড়ম্বনা সেটা বলে বুঝাতে পারবোনা। আমাদের বাসায় ভালো লাগে না, ক্লাস রুমেই ভালো লাগে। এখন আবার সেই আগের পরিবেশ ফিরে পাচ্ছি। এখন আমাদের মধ্যে উৎফুল্লতা শিহরণ কাজ করছে। এই স্কুলে নিয়োগ হওয়ার পরে এখন পর্যন্ত কোন ছাত্র ছাত্রীদের দেখতে পাইনি। মাঝে মাঝে মনে হয় প্রতিষ্ঠানে ঘণ্টা পিটানো ভুলে গেলো নাকি।

রাজধানীর শনিরআখড়ার বর্ণমালা স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ ভূঁইয়া আব্দুর রহমান বলেন, ক্লাস না হলেও আমাদের অফিসের কার্যক্রম সবসময় চলে। ক্লাস পরিচালনা করার সকল প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। সরকার যে নির্দেশনা দিয়েছে তা মেনেই আমরা প্রতিষ্ঠান চালাবো। এই করেনা থেকে মানুষের অনেক শিক্ষার বিষয় রয়েছে বলেও যোগ করেন তিনি।

স্কুল-কলেজ খোলার পর মাস্ক ছাড়া কেউ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করতে পারবে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। আর সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে স্কুল-কলেজে প্রাত্যহিক সমাবেশ বা অ্যাসেম্বলি আপাতত করা হবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সুত্র– বিডি২৪লাইভ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *