দিনাজপুরে ধুমধামে ব্যাঙের বিয়ে

দিনাজপুর প্রতিনিধি : চারদিকে উলুধ্বনি। কলা গাছ ও ফুল দিয়ে সাজানো স্টেজে বসে আছে বর-কনে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিধি মেনে ছায়ামণ্ডপ, পুষ্পমাল্য, গায়ে হলুদ, আশীর্বাদের ধান-দূর্বা, খাওয়া-দাওয়াসহ সব আয়োজন। সিঁদুর দান ও পুরোহিতের মন্ত্র উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গে সাত পাকে বাঁধা বর-কনে। শুধু তাই নয়, বিয়েতে আমন্ত্রিতরা দম্পতিকে দিয়েছেন টাকাসহ বিভিন্ন উপহার সামগ্রী। তবে মানুষের বিয়ের মতো সব আয়োজন থাকলেও বর ও কনে আসলে ব্যাঙ। শুনতে অবাক মনে হলেও গত রোববার রাতে দিনাজপুরের রাজবাড়ী চত্বরের হীরা বাগান রক্ষাকালী মন্দিরে হয় এ বিয়ে।

আয়োজকরা জানান, শ্রাবণ মাসের ১০ দিন। কিন্তু বৃষ্টি নেই। জমিতে পানি নেই। আমন চারা রোপণ করা যাচ্ছে না। আবার যে জমিগুলোতে চারা রোপণ করা হয়েছে, সে জমিগুলো পানির অভাবে ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। অনেকে শ্যালো মেশিন দিয়ে খেতে পানি দিচ্ছেন। এ কারণে যাতে বৃষ্টি আসে সে জন্য ব্যাঙের বিয়ের আয়োজন করা হয়। তারা জানান, গত সাত দিন ধরে চলে বিয়ের প্রস্তুতি। রাজবাড়ীতে বসবাসকারী পরিবারের শিশুরা সাত দিন আগ থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে নেচে-গেয়ে টাকা, চাল, মরিচ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা ও তেল ইত্যাদি সংগ্রহ করে। এ সময় প্রতিটি বাড়িতে বিয়েতে আসার দাওয়াত দেওয়া হয়।

রোববার সন্ধ্যা থেকে মানুষ বিয়ের অনুষ্ঠানে আসতে থাকে। কলাগাছ ও ফুল দিয়ে সাজানো বিয়ের স্টেজে রাত ৮টার দিকে বরকে নিয়ে সুলেখা সরকার ও কনেকে নিয়ে চন্দনা সরকার অনুষ্ঠানে হাজির হন। রঙ-কাদা মেখে শুরু হয় নাচ-গান। পাশেই চলে বড় বড় হাঁড়িতে রান্না। উপস্থিত অতিথিরা বর-কনেকে দেখে উপহার দিয়ে খিচুড়ি খেয়ে বিয়ের অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। ১০১ টাকা প্রতীকী পণে বিয়ে পড়ান হীরা বাগান রক্ষাকালী মন্দিরের পুরোহিত তোপন কুমার গোস্বামী।

তিনি এ সময় বলেন, অনাবৃষ্টি ও খরা থেকে মুক্তি পেতে প্রথমে শিশুরা এ ব্যাঙের বিয়ের উদ্যোগ গ্রহণ করলেও পরে সেটি উৎসবে রূপ নেয়। আমাদের বিশ্বাস এ ব্যাঙের বিয়ের মধ্য দিয়ে অনাবৃষ্টি ও খরা কেটে যাবে।

বর-কনের মা বলেন, খরা থেকে মুক্তি পেতে এবং বৃষ্টির আশায় এ আয়োজন। অনাবৃষ্টির কবলে পড়লে তারা বৃষ্টির জন্য ব্যাঙের বিয়ে দিয়ে থাকেন। আর এই রীতি শতবর্ষ আগে থেকেই চলে আসছে। হিন্দুদের ধর্মগ্রন্থ রামায়ণে বর্ণিত বৃষ্টির দেবতাকে খুশি করার জন্য সেই সময় থেকে ব্যাঙের বিয়ের প্রচলন হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *