তিন সন্তান রেখে কোথায় গেলেন চৌগাছার গৃহবধূ রেশমা?

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি : যশোরের চৌগাছায় তিন সন্তান বাড়িতে রেখে এক সপ্তাহ ধরে রেশমা বেগম (২৬) নামে এক গৃহবধূ নিখোঁজ রয়েছেন। সম্ভাব্য সবখানে খুঁজেও না পেয়ে মঙ্গলবার গৃহবধূর দিন মজুর স্বামী চৌগাছা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। চৌগাছা থানায় জিডি নং-৩৪৩। তারিখ- ০৯.০৬.২০২০।
নিখোঁজ ওই গৃহবধূর স্বামী মোঃ মিন্টু মিয়া জানান তিনি পেশায় নির্মান শ্রমিক। খোয়াভাঙা মেশিন চালানোর সহযোগির কাজ করেন। তিনি জানান তার গ্রামের বাড়ি উপজেলার ফুলসারা ইউনিয়নের চারাবাড়ি গ্রামে হলেও কয়েকবছর ধরে চৌগাছা চৌগাছা পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের পাঁচনমনায় স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে বসবাস করেন।
চৌগাছা থানায় দায়ের করা লিখিত জিডিতে মিন্টু মিয়া জানান প্রায় ৯ বছর আগে উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের চাঁদপাড়া গ্রামের তবিবর রহমানের মেয়ে রেশমা খাতুনকে (২৬) তিনি বিয়ে করেন। তাদের সংসারে ২ ছেলে ও ১ মেয়ে রয়েছে। বড় ছেলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩য় শ্রেণিতে পড়ে, ছোট ছেলে শহরের প্রতিভা এডাস স্কুলে শিশু শ্রেণিতে আর একমাত্র মেয়ের বয়স ৩ বছর। বিয়ের পর থেকে তাদের দাম্পত্য জীবন ভালই যাচ্ছিল। গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকাল আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে কাউকে কিছু না বলে ৩ সন্তানকে বাড়িতে রেখে তার ব্যবহৃত কাপড়-চোপড় নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে আজ পর্যন্ত ফিরে আসে নি। তার পর থেকে আমার স্ত্রীর সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। আমার শ্বশুরবাড়িসহ সম্ভাব্য সকল আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে খুঁজে না পেয়ে ভবিষ্যতের জন্য জিডি করলাম। জিডিতে তিনি আরো বলেন তার স্ত্রীর গায়ের রং শ্যামলা, উচ্চতা অনুমান ৫ফুট, মুখমন্ডল গোলাকার। বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় একটি কফি রংয়ের বোরকা পরিহিত ছিল।
এ প্রতিবেদকের নিকট তিনি দাবি করেন ওইদিন খুব সকালে তিনি নিজের কাজে বেরিয়ে যান। পরে বাড়ি এসে বিষয়টি জানতে পেরে তার শ্বশুরবাড়িতে সংবাদ দেন এবং সম্ভাব্য সবখানে খোঁজ নেন। ঘটনার একদিন পর তার শ্বাশুড়ি এসে তিন বছর বয়সী মেয়েটিকে তাদের বাড়িতে নিয়ে গেছেন। ছেলে দুটি মা’কে না পেয়ে কান্নাকাটি করছে। ওদিকে নানাবাড়িতে শিশু মেয়েটিও কান্নাকাটি করছে। তিনি বলেন নিজে দিন মজুরি করে সংসার চালাই। পাঁচনমনায় একজনের জমিতে কোনরকম ঘর করে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে থাকি। কাজ করে সন্তানের খাবার জোগাড় করবো না স্ত্রীকে খুঁজে বের করব?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *