ঠান্ডার প্রকোপে ডায়রিয়া নিয়ে আইসিডিডিআরবিতে ঘণ্টায় ৫০ শিশু

নিজস্ব প্রতিবেদক : শীতে সক্রিয় হওয়া রোটা ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। আর ঠান্ডার প্রকোপে ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশু রোগীও বেড়েছে। ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ডায়রিয়াল ডিজিজ রিসার্চ, বাংলাদেশ-আইসিডিডিআরবিতে প্রতিদিনই শিশু রোগী ভর্তি হচ্ছে। প্রায় ৬০০ শিশু প্রতিদিন এ রোগে আক্রান্ত হয়ে এ হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। অর্থাৎ প্রতি ঘণ্টায় ৫০ জন শিশু আইসিডিডিআরবিতে চিকিৎসা নিতে আসছে।

বুধবার আইসিডিডিআরবি কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে। বর্তমানে এ হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যাই বেশি। ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে অভিভাবকরা তাদের ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে প্রতিদিন এই হাসপাতালে আসছেন।

প্রায় সব অভিভাবকই বলছেন, হঠাৎ করে ঠান্ডা বেড়ে যাওয়ায় শিশুসন্তানের অতিমাত্রায় ডায়রিয়া দেখা দেয়ার কারণে আইসিডিডিআরবিতে ভর্তি করিয়েছেন। এখানে চিকিৎসকদের সুচিকিৎসায় শিশুরা সুস্থ হয়ে উঠেছে। আবার অনেক শিশুকে তিন-চার দিন ভর্তি রাখতে পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, এখানে ভর্তি থাকা শিশুদের মধ্যে দুই-তিন মাসের বাচ্চা থেকে ৬/৭ বছরের শিশুরাই বেশি। অধিকাংশের শরীরেই স্যালাইন দিয়ে বেডে শুইয়ে রাখা হয়েছে।

আইসিডিডিআরবি কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৩৫০ জন রোগী স্বাভাবিকভাবে ভর্তি হয়। কিন্তু গত এক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন গড়ে ৫৫০ থেকে ৬০০ জন ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হচ্ছে। এদর মধ্যে ৯০ শতাংশই শিশু। হঠাৎ করে শীত বেড়ে যাওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

চিকিৎসকদের মতে, বাংলাদেশে সাধারণত গ্রীষ্ম বা বর্ষায় ব্যাকটেরিয়াজনিত ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব ঘটে। আর শীতকালে দেখা দেয় রোটা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব। বড়দের ক্ষেত্রে রোটা খুব একটা দুর্বল করতে পারে না। তবে এটা মুখের মধ্য দিয়ে শিশুদের পাকস্থলীতে যায়। শিশুরা যথাসময়ে চিকিৎসা না পেলে মৃত্যুও হতে পারে।

হঠাৎ করে শীতের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় শিশুদের মধ্যে ডায়রিয়া আক্রান্ত হওয়ার হার বাড়ছে। কারণ শীতের কারণে রোটা ভাইরাস সক্রিয়। আর একারণে শিশুদের ডায়রিয়া রোগ দেখা দিচ্ছে। এ কারণে ডায়রিয়া দেখা দিলে শিশুদের বেশি বেশি স্যালাইন খাওয়াতে হবে। ৫৫ শতাংশই রোটা ভাইরাসের সংক্রমিত। ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশুদের ৫ বছরের কম বয়সীরাই বেশি। তবে ২ বছরের কম বয়সীরা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।

চিকিৎসকদের পরামর্শ, শীতের প্রকোপের মধ্যে শিশু কি খাচ্ছে, মুখে আঙুল দিচ্ছে কি না সেটি খেয়াল রাখতে হবে। আর বাইরে থেকে কেনা খাবারও যেন শিশুকে না খাওয়ানো হয় সেদিকেও জোর দিতে হবে। আর শিশু অসুস্থ বোধ করলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন্স সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের তথ্যানুযায়ী, ঢাকাসহ সারাদেশের হাসপাতালগুলিতে শীতজনিত রোগব্যাধির প্রকোপ বেড়েছে। ঠান্ডাজনিত রোগে গত দুমাসে আক্রান্তের সংখ্যা আড়াই লাখ। আর মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৫০ জনের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *