টিকা কেন্দ্রই যেন সুপার স্পেডার

নিজস্ব প্রতিবেদক : করোনা থেকে জাতিকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য সরকার সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সংশ্লিষ্টদের সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে সরকারের মহৎ উদ্দেশ্য অনেকটা ভেস্তে যাচ্ছে। তাই সামনে যাতে অতীতের মতো বার বার ভুল না হয়, সেই জন্য সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে তারপর মাঠে নামার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের। ঊর্ধ্বগামী করোনার সংক্রমণ গত কয়েক দিনে নিম্নমুখী হয়েছে। করোনায় ইতোমধ্যে দেশে ২২ হাজারের অধিক মানুষের প্রাণ গেছে। তাই করোনা ঝুঁকি এবং মৃত্যু কমাতে ব্যাপকভাবে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, টিকা কেন্দ্রের ভিড় হবে। সেখানে স্বাস্থ্যবিধি ব্যাহত হবে। ফলে টিকা নিয়ে এসে অনেকেই কেন্দ্র থেকে সংক্রমিত হতে পারেন। টিকা নিতে যাওয়া আসার সময় কিংবা টিকা কেন্দ্র থেকে যাতে সংক্রমণ না ছড়ায় সেজন্য সতর্কতার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের। তারা বলছেন যথাযথ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কাজগুলো বাস্তবায়ন করা, যাতে কেউ ঝুঁকিমুক্ত হতে এসে ঝুঁকিতে না পড়েন।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ লেলিন চৌধুরী বলেন, যে কোনো প্রকার গাদাগাদি করা, জনসমাগম, ভিড় করা করোনার সংক্রমণের সহায়ক। গাদাগাদি, ভিড় করা যাবে না। যারা টিকা দেবেন এবং যারা স্বেচ্ছাসেবক থাকবেন এ ব্যাপারে তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার দরকার ছিল। আমরা দেখেছি অনেক জায়গায় টিকা কেন্দ্রই সুপার স্পেডার হিসেবে কাজ করছে। সেখান থেকে ব্যাপকভাবে করোনা ছড়িয়েছে। তাই আমাদের পরামর্শ যথাযথ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে টিকা কার্যক্রম পরিচালিত করা যেন নিজেকে রক্ষার জন্য এসে কারো জীবন ঝুঁকিতে না পড়ে।

তিনি বলেন, যারা টিকা নিতে আসবেন তাদের অবশ্যই সতর্কভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঘর থেকে বের হতে হবে। মাস্ক পরতে হবে। মাস্ক পরার বিকল্প নেই। মাস্ক ছাড়া কাউকে টিকা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে না দেওয়া যাবে না। এটা টিকা কেন্দ্রের স্বেচ্ছাসেবকদের নিশ্চিত করতে হবে।

আজ থেকে সারা দেশে ১২ আগস্ট পর্যন্ত দিনে ৩২ লাখ মানুষকে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে দেশের স্বাস্থ্য বিভাগ। শুক্রবার বিভিন্ন ইউনিয়নে মাইকিং করা হয়েছে। ইউনিনের ক্ষেত্রে ওয়ার্ড ভাগ করা হয়েছে। মাইকিং করে জানানো হয়েছে নির্ধারিত দিনে নির্ধারিত ওয়ার্ডের লোকজন যেন টিকা কেন্দ্রে যান।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে অনেক ভিড় হতে পারে। মানুষ যাতে দূরত্ব মেনে লাইনে দাঁড়ায় সেই পরামর্শ দিচ্ছেন। এছাড়া টিকা কেন্দ্রে প্রবেশের সময় হ্যান্ড স্যানিটাইজার বা সাবান দিয়ে হাত জীবাণুমুক্ত করা এবং টিকা নিয়ে কেন্দ্র থেকে বের হয়ে আবার হাত জীবাণুমুক্ত করার ব্যবস্থা রাখা।

বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার বাধাল ইউনিয়নের একজন বাসিন্দা জানিয়েছেন, শুক্রবার দুপুরে মাইকিং করে তিন ওয়ার্ডের মানুষের ইউনিয়ন পরিষদে যেতে বলা হয়েছে। তিন দিন এই তিন ওয়ার্ডের মানুষদের টিকা দেওয়া হবে। দেশের অনেক ইউনয়েন পরিষদ চত্বরের স্পেস ছোট। ফলে গাদাগাদি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই কেন্দ্র যেন উন্মুক্ত জায়গায় করা হয় সেই পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।

আইইডিসিআর-এর উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, ঝুঁকি এবং উপকারিতা দুটিই আছে। ঝুঁকির তুলনায় উপকারিতা বেশি। তাই একটু কষ্ট করে সতর্কভাবে টিকা দেওয়া এবং নেওয়া। যারা কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকবেন তারা কেন্দ্রের স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করবেন। আর যারা টিকা নিতে আসবেন, তারা আসা এবং যাওয়ার সময় সকর্কতা অবলম্বন করবেন। গণপরিবহন ব্যবহার না করে ভ্যান রিকশায় আসা ভালো। ভ্যান রিকশায় আসা অনেকটা নিরাপদ।

আইইডিসিআর-এর এক গবেষণায় দেখা গেছে টিকা নিলে করোনায় সংক্রমিত হলেও শ্বাসকষ্ট হওয়া, গুরুতর অসুস্থ হওয়া, হাসপাতালে এবং আইসিইউ সাপোর্ট কম লাগে; মৃত্যু ঝুঁকি অনেক কম। তাই বিশেষজ্ঞরা যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে টিকা কেন্দ্রে যাতায়াতের পরামর্শ দিয়েছেন।

দেশের স্বাস্থ্য বিভােেগর লক্ষ্য ছিল এক সপ্তাহে এক কোটি মানুষকে টিকা দেওয়ার। কিন্তু বিভিন্ন কারণে সেই পরিকল্পনা পরিবর্তন করেছে। ১৮ বছর থেকে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হলেও শুক্রবার ২৫ বছর থেকে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক ডা. এবিএম খুরশীদ আলম বলেন, ১৮ বছর বয়সীদের অনেকের ভোটার আইডি কার্ড নেই। এতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে। তাই টিকাদানের বয়স ১৮ না করে ২৫ নির্ধারণ করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *