চৌদ্দগ্রামে প্রেমের টানে এক সন্তানের জননী উধাও!

চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি : চৌদ্দগ্রামে প্রেমের টানে ওমান প্রবাসী সাবেক প্রেমিকের হাত ধরে পালিয়ে গেছে সৌদি প্রবাসীর স্ত্রী ও এক সন্তানের জননী উম্মে রোম্মান নিশাত (২১)। এসময় ফাতেমা আক্তার (৪) নামে একমাত্র কন্যাকেও সাথে নিয়ে যায় নিশাত।

এ ঘটনায় নিশাতের শাশুড়ি ও তার আপন ফুফু খোদেজা আক্তার চৌধুরী (৫৫) বাদী হয়ে পুত্রবধু উম্মে রোম্মান নিশাত, নিশাতের বাবা গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী, মা আফসার বেগমকে বিবাদী এবং নিশাতের সাবেক প্রেমিক জিএম শামিম ফয়সালকে ঘটনার জন্য দায়ী করে চৌদ্দগ্রাম থানায় একটি অভিযোগ (নং- ৯৩০/১৯, তারিখ: ১২.০৫.১৯ইং)দায়ের করেছেন।

চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের কান্দিরপাড় ও সাতবাড়িয়া এলাকায়। এ ঘটনায় এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও চলছে ব্যাপক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া। এ ঘটনায় বর্তমানে দুই পরিবারের মাঝে উত্তেজনাও বিরাজ করছে বলে জানা যায়। তবে অভিযুক্ত প্রেমিক শামীম ফয়সালের সাথে যোগাযোগ করলে সে ঘটনার সাথে জড়িত নয় দাবী করে বিদেশে বলে জানায়। স্থানীয় ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চিওড়া ইউনিয়নের কান্দিরপাড় গ্রামের আব্দুল কাদেরের ছেলে জিএম শামিম ফয়সালের (২৫) সাথে দীর্ঘ ৫ বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল একই এলাকার সাতবাড়িয়া গ্রামের জনৈক ব্যবসায়ীর কন্যা উম্মে রোম্মান নিশাতের।

কিন্তু প্রেমের বিষয়টি শুরু থেকেই উভয়ের পরিবার মেনে নেয়নি। ফলশ্রুতিতে বিগত ২০১৪ সালের ১৮ই অক্টোবর পাশ্ববর্তী লালমাই উপজেলার বেলঘর উত্তর ইউনিয়নের ছোট শরীফপুর গ্রামের হাজী আব্দুল গফুরের পুত্র সৌদি প্রবাসী খসরুল হায়দার আরিফের সাথে ইসলামী শরীয়াহ্ মোতাবেক নিশাতের বিবাহ সম্পন্ন হয়। হায়দার আরিফ সম্পর্কে নিশাতের আপন ফুফাতো ভাই বলে জানা যায়। বিবাহের পরে তাদের সংসার আলোকিত করে একটি ফুটফুটে কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। এর কিছুদিন পর অর্থ্যাৎ বিগত ২-৩ বছর পূর্বে প্রেমিক শামিমও জীবিকার টানে সুদূর ওমান চলে যায়।

অভিযোগ সূত্রে আরো জানা যায়, বিগত ৪-৫ মাস পূর্বে নিশাত তার একমাত্র কন্যাসহ বেড়ানোর কথা বলে পিতার বাড়িতে চলে যায়। গত ৫-৭ দিন পূর্বে পুত্রবধূকে স্বামীর বাড়িতে পাঠানোর কথা বললে নিশাত ও তার বাবা কয়েকদিন পরে যাবে বলে জানায় শাশুড়ীকে। এভাবে কয়েক দফা কালক্ষেপণ করতে থাকে সে। এর মধ্যে নিশাতের স্বামীর পরিবার লোক মারফতে জানতে পারে পূর্বের প্রেমিক শামিম ফয়সালের সাথে নিশাত সন্তানসহ পালিয়ে গেছে।

এ বিষয়ে নিশাতের শাশুড়ি খোদেজা আক্তার চৌধুরী আরও জানান, বিবাহের পর থেকেই স্বামী প্রবাসে থাকার সুযোগে নিশাত পূর্বের প্রেমিক ফয়সালের সাথে সবসময় যোগাযোগ রক্ষা করতো। তিনি আরও জানান, বয়স কম হওয়ায় বুঝ হলে হয়তো ঠিক হয়ে যাবে এ ধারনায় মেয়েটির উপর কঠোরতা আরোপ করা হয়নি কখনো। কিন্তু দিনের পর দিন তাদের যোগাযোগ বেড়ে যাওয়ায় এ নিয়ে বিভিন্ন সময় পারিবারিক কলহেরও সৃষ্টি হয়। নানা রকম দুশ্চিন্তায় দিনাতিপাত করতে হয় আমাদের সকলকে। পুত্রবধূ নিশাত পিত্রালয় সাতবাড়িয়ায় গেলে ফয়সালের পরিবারের সাথেও যোগাযোগ রক্ষা করে চলতো এবং নিয়মিত ফোনে কথা বলতো।

এসব ঘটনায় আমার ছেলে দেশে এসে ফয়সালের সাথে নিশাতের কথোপকথনের কল লিস্টও বের করে। তিনি জানান, এ ঘটনায় বাড়াবাড়ি না করতে নিশাতের বাবা বিভিন্ন মাধ্যমে হুমকি ধমকি প্রদান করতো। এদিকে সৌদি প্রবাসী হায়দার আরিফ জানান, সম্পূর্ণ পূর্বের প্রেমের কথা জেনেও নিশাত রাজী থাকায় তখন তাকে বিবাহ করি। কিন্তু বিবাহের পর পূর্বের প্রেমিক ফয়সাল আমার প্রবাসে থাকার সুযোগে নিয়মিত যোগাযোগ করতো। প্রেমিকের সাথে পালিয়ে যাওয়ার পর গত ১১ তারিখ রাতেও নিশাত ও ফয়সালের পরিবারের মধ্যে গোপন বৈঠক হয়।

বৈঠকে ২ দিনের মধ্যে মেয়েকে হাজির করে দিবে বলেও কথা দেয় ফয়সালের পরিবার। এসময় আরিফ কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, বউ গেছে তার ভাগ্য নিয়ে, কিন্তু আমার নিষ্পাপ শিশু সন্তানকে কেন নিল? এসময় তিনি একমাত্র সন্তানের জন্য কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন এবং সন্তানকে উদ্ধারে দ্রুত প্রশাসনের সহযোগীতা কামনা করেন। এদিকে নিশাতের বাবা কিবরিয়া জানান, বিষয়টি গত ৩ দিন পূর্বেও আমার নিয়ন্ত্রণে ছিল কিন্তু গতকাল (সোমবার ভোর) থেকে আমার নিয়ন্ত্রণে নেই। আমার বোন (নিশাতের শাশুড়ি) উল্টো আমার পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন।

মেয়ের বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, ফয়সালের সাথে বিবাহ হয়েছে বলে শুনেছি কিন্তু এ বিবাহ কোনভাবেই বৈধ হবেনা। আমার মেয়ে এখনও আরেকজনের স্ত্রী। যেখানে কাউকে কেউ এখনও ডিভোর্সও দেয়নি। তিনি ফয়সালের প্রতি পরামর্শ রেখে বলেন, সে (ফয়সাল) আমার মেয়েকে আমার নিকট ফেরৎ দিক। তিনমাস পার হওয়ার পর সে আমার মেয়েকে বিয়ে করুক কোন আপত্তি নেই। এছাড়া কোনভাবেই তার বিবাহ শরীয়াহ্ ও আইনিভাবে বৈধ হবেনা।

প্রবাসে আছেন দাবী করা প্রেমিক জিএম শামীম ফয়সালের সাথে যোগাযোগ করলে সে জানায়, এ অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন, আমি দেশেই যাইনি। কিন্তু ফেসবুকে গত ১০ মে তার আইডি থেকে প্রদানকৃত দেশে আসার পোষ্ট (যাতে লোকেশান শাহজালাল এয়ারপোর্ট, ঢাকা) এর স্ক্রীনশর্টটি দেখালে সে চুপ থাকে। এসময় সে উত্তর না দিয়ে দম্ভোক্তির সাথে জানায়, আমি যা বলার ফেসবুক লাইভে বলেছি আর কিছু বলতে পারবো না। আপনারা (সাংবাদিকরা) যা পারেন লিখেন। এ সময় তাকে ভিসা লাগানো পাসপোর্টটি দেখাতে বললে সে ভিসার কপি তার কাছে নাই বলে জানায়। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার প্রেক্ষিতে চৌদ্দগ্রাম থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই নাছির উদ্দিন জানান, গৃহবধূ পলায়নের প্রেক্ষিতে এবং নাতনির সন্ধান চেয়ে গৃহবধূর শাশুড়ি চৌদ্দগ্রাম থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

আমরা গৃহবধূ ও কন্যা সন্তানটিকে উদ্ধারের চেষ্টা করছি। তদন্ত স্বাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে গতকাল রাতে নিশাত ‘ফাহমিদা ইসলাম’ নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে এসে নিজেকে নির্দোষ দাবী করে বলেন, সে কারো সহযোগিতা ছাড়াই নিজে নিজে বাড়ী থেকে পালিয়েছে। স্যোশাল মিডিয়ায় যাকে নিয়ে পালানোর কথা বলে গুজব ছড়ানো হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। স্বামীর বাড়ীতে বিভিন্ন অত্যাচার সইতে না পেরে সে পালিয়েছে বলে ফেসবুক লাইভে এসে জানায়। এসময় তার অবুজ সন্তানটি তার পাশেই ছিল। তবে, ধারণা করা হচ্ছে, ফেসবুক লাইভে এসে সে লিখিত বা কারো শিখিয়ে দেওয়া বক্তব্য পাঠ করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *