চৌগাছায় ৫০ বছরের রাস্তা বেঁধে ৯ পরিবারকে অবরুদ্ধ

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি : যশোরের চৌগাছার পাতিবিলা ইউনিয়নের নিয়ামতপুর গ্রামের ৯টি পরিবারের দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত রাস্তা আটকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গ্রামের শুকুর আলী নামে এক ব্যক্তি ৫০ বছর ধরে ব্যবহৃত রাস্তাটি বন্ধ করে দিয়েছেন বলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
লিখিত অভিযোগে গ্রামের দুদু মিয়া, মহর আলী, নেচার আলী, আসাদুল ইসলাম, মোঃ লোকমান, আবুল হোসেন, আলমগীর হোসেন, রিপন আলী ও মনিরুল ইসলাম বলেন, আমরা ৯টি পরিবার নিয়ে গ্রামের ছোট্ট পাড়াটিতে বসবাস করি। ৫০ বছর ধরে আমাদের যাতায়াতে ব্যবহৃত রাস্তাটি হঠাৎ করে গ্রামের শুকুর আলী বন্ধ করে দিয়েছে। বিকল্প রাস্তা না থাকায় আমরা পাড়াবন্দি হয়ে আছি। রাস্তাটি খুলে না দিলে আমাদের ছেলেমেয়েদের স্কুলে যাওয়া, জমির ফসল বাড়িতে নেয়া ও অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নেয়া সম্ভব হচ্ছে না।
সরেজমিনে গ্রামের ওই পাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার একপাশে একটি বিদ্যুৎচালিত মোটর রয়েছে। রাস্তার উপর আড়াআড়িভাবে চরাট (বাঁশের খুটির উপর বাঁশের মাচা) বেঁধে তার উপর পলিথিনের পাইপে মটরের পানি নেয়া হচ্ছে। পাড়াটির মানুষদের অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে বের হতে ওই মাচার নিচে দিয়ে যেতে হচ্ছে।
অভিযুক্ত শুকুর আলী বলেন, রাস্তার মাঝ দিয়ে লোকমানের জমির উপর দিয়ে একটি পানি নেয়ার ক্যানেল (ড্রেন) ছিল। লোকমান সেটি বন্ধ করে দেয়ায় আমি রাস্তার উপর চরাট দিয়ে তার উপর দিয়ে পানি নিচ্ছি। এতে পরিবারগুলোর বের হবার পথ বন্ধ হয়ে গেছে বললে তিনি বলেন গ্রামের কোন মটরের পানিই মটর মালিকের নিজের জমি দিয়ে নেয়া হয়না।
গ্রামের ইউপি সদস্য মজনুর রহমান বলেন, ঘটনাটি সত্য। মিমাংশার চেষ্টা করেছি। রাস্তা বেঁধে দেয়া ব্যক্তি কারো কথা শুনতে চাননা। অবরুদ্ধ পরিবারগুলো বলেছে জমির আইল (সীমানা) দিয়ে ড্রেন নিতে কিন্তু ওই ব্যক্তি সেটি মানবেন না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রকৌশলী এনামুল হক বলেন, একটি অভিযোগ পেয়েছি। সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) সেটি দেয়া হয়েছে ইউনিয়ন নায়েবের মাধ্যমে বিষয়টি সুরাহা করার জন্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *