চৌগাছায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মরহুম জলিল সরদারের পুত্রের ইন্তেকাল

চৌগাছা প্রতিনিধিঃ যশোরের চৌগাছা উপজেলার ধূলিয়ানী ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম আব্দুল জলিল সরদারের পূত্র জয়নুর রহমান স্টোক জনিত কারণে ইন্তেকাল করেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিলো ৫৩ বছর। তিনি ছিলেন একজন মুদি ব্যবসায়ী এবং ইউনিয়নের একজন বড় পান চাষী।

পারবারিক সূত্রে জানা যায়, মরহুম জয়নুর রহমান গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকাল থেকেই অসুস্থতা অনুভব করছিলেন। রাত্রে তিনি গ্রামের বাজারে বসে অনেকের সাথে গল্প গুজব করছিলেন। রাত যত বাড়ছিলো মনে হয় ততোই যন্ত্রণা বেড়ে যাচ্ছিলো। আর ততোই যেনো শক্ত হতে প্রিয় ব্যক্তিদেরকে ফোন করে করে ডাকছিলেন।
সবশেষে তিনি যখন বেশি বুঁঝতে পারলেন তার অসুস্থতার মাত্রা বেড়ে চলেছে তখনই তিনি বলেন আমাকে হাসপাতালে নিয়ে চলো এবং রাত্রে তার নির্দেশে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও নিয়তির কাছে হেরে যান তিনি। সৃষ্টিকর্তার ডাকে সাড়া দিয়ে পরোপারে পাড়ি জমালেন। মৃত্যুকালে তিনি মা, ভাই-বোন, স্ত্রী, দুই সন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
মরহুমকে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ১১ টার সময় জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। মরহুমের জানাযায় উপজেলা ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও বিভিন্ন পর্যায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ এলাকাবাসীর অসংখ্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।
তিনি ছিলেন তার অন্যান্য ভাই-বোনেদের বাপ সমতুল্য একজন অভিভাবক। শুধু তাই নয়, তিনি অনেকের কাছেই প্রিয় ব্যক্তি ছিলেন। যার কারণে অনেকেই নিয়মিত তার ব্যবসায়ী দোকানে বসে সময় দিয়ে গল্প করতেন। সোমবারই যেনো তার জীবনে ঐ সকল প্রিয় ব্যক্তিদের সাথে সময় দেবার শেষ রাত ছিলো। যা কেউই ভুলতে পারছে না। ছোট বড় অনেকের সাথেই বসে খুব সময় করে গল্প করতেন।
পান চাষের রেশ ধরে তাইতো জাতীয় “দৈনিক দিনকাল” পত্রিকায় তার পান চাষের একটি প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছিলো। “দৈনিক দিনকালে”র সাংবাদিকের নিকট এই প্রতিবেদক যখন জয়নুর রহমানের মৃত্যুর খবর দেই তখন তিনি মৃত্যু সংবাদ শুনে খুবই কষ্ট পেয়েছিলেন।
তিনি বলেন, জয়নুর রহমানের সাথে পানের প্রতিবেদন তৈরির সুবাধে একদিনই দেখা এবং কথা। একদিনেই আমি তাকে অত্যান্ত ভালো মানুষ বলে জানি। তিনি আমাকে গল্প করে করে সমস্ত বরজ ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখিয়েছিলেন। সবশেষে আমাকে বরজের সেরা দশটি পানও তুলে দিলেন খাবার জন্য। আহা! আমি আগে থেকে শুনতে পারলে যেতাম। আল্লাহ যেনো তার পরিবারকে সহ্য করার তোওফিক দান করেন এবং তাকে বেহেশতে নসিব করেন (আমিন)।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *