ঘুমন্ত নারীকে মারপিট, ৯৯৯ ফোন করায় পুলিশের হুমকির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি : যশোরের চৌগাছায় রাতে অতর্কিতভাবে ঘরে ঢুকে লিপিকা সুলতানা (৫৫) নামে এক বৃদ্ধা নারী ও রিয়াদ হোসেন নামে তার ছেলেকে মারধর ও তাদের বাড়ির আসবাবপত্র ভাংচুর করে দূর্বৃত্তরা। ঘটনার পর ওই পরিবারের পক্ষ থেকে জাতীয় পরিষেবা ৯৯৯ ফোন করা হয়। পরে চৌগাছা থানা পুলিশের এসআই গিয়ে উল্টো তাদেরই হুমকি দেয় ‘আপনারা ওদের (সন্ত্রাসীদের) সাথে আর গোলযোগ করবেন না। ওরা আপনাদের আর মারবে না। আর আপনারা কেউ বাড়াবাড়ি করবেন না। তাহলে কিন্তু সমস্যা আছে।’
এমন অভিযোগে বুধবার দুপরে চৌগাছা প্রেসক্লাবে ওই নারী সংবাদ সম্মেলন করে সাংবাদিকদের কাছে জানতে চান ৯৯৯ এ পুলিশ সাহায্য নেয়া কি আমার অপরাধ হয়েছে। আর আমার বাড়ি ভাংচুর, লুটপাট এবং আমাকে ও আমার ছেলেকে মারধরের ঘটনা তদন্তে এসআই কাওসারের সন্ত্রাসীদের পক্ষে অবস্থানের কারণ কি? এসময় তার সাথে ছোট ছেলে রিয়াদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে ওই নারী বলেন আমি লিপিকা সুলতানা স্বামী মিজানুর রহমান, উপজেলার নারায়নপুর ইউনিয়নের বাদেখানপুর গ্রামে বসবাস করি। আমি একজন কৃষকের গৃহবধূ। আমি আমার স্বামী ও ২ সন্তান রুবেল হোসেন ও রিয়াদ হোসেনকে নিয়ে গ্রামে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করি। গত ১৯ অক্টোবর সোমবার রাত দশটার দিকে আমি বারান্দায় ঘুমিয়ে ছিলাম। এমন সময় ঘুমের মধ্যেই লাঠির আঘাতে আমার ঘুম ভেঙে যায়। দেখি গ্রামের হায়দারের ছেলে আক্তার ও মতিয়ারের ছেলে মুক্তারসহ ১৩/১৪ জন লাঠি ও রামদাসহ আমার বাড়িতে আক্রমণ করেছে। তারা ঘরে প্রবেশ করে আমার ছোট ছেলেকে (রিয়াদ হোসেন) বেধড়ক মারপিট করে।
তিনি আরো বলেন সন্ত্রাসীরা চলে যাওয়ার পর দেখি আমার ছোট ছেলে অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে। সন্ত্রাসীরা চলে যাওয়ার সময় আমার আপন ছোট দেবরের ছেলে সন্ত্রাসীদের গতিরোধ করলে সন্ত্রাসীরা তাকেও মারধর করে। এ ঘটনায় আমার বড় ছেলে (রুবেল হোসেন) রাত ১০.৪৫ মিনিটে ৯৯৯ এ কল করে। এরপর রাত ১১.২৭ মিনিট, ১১.৩২ মিনিটে (৯৯৯) সাহায্যের জন্য কল করে। পরে চৌগাছা থানার এসআই (উপ-পরিদর্শক ও ২য় কর্মকর্তা) আমার বাড়িতে আসে। এসআই কাওসার বাড়ির বাইরে দাড়িয়ে বলে বাড়িতে এতো লোক কেন? তখন তাকে বাড়ির ভিতরে আসতে বললে তিনি বাড়িতে প্রবেশ করে ঘরের ভিতর কিছু একটা খুঁজতে লাগে। তারপর সন্ত্রাসীদের ফেলে যাওয়া একজোড়া জুতা, একটি মোবাইল ফোন ও একটি রামদা জব্দ করে বাড়ি থেকে চলে যান। যাওয়ার সময় এসআই কাওসার বলে গেলেন, ওদের সাথে (সন্ত্রাসীদের সাথে) আর গোলযোগ করবেন না। ওরা আপনাদের আর মারবে না। আর আপনারা কেউ বাড়াবাড়ি করবেন না। তাহলে কিন্তু সমস্যা আছে।
লিখিত বক্তব্যে তিনি প্রশ্ন রেখে আরো বলেন আমি আপনাদের কাছে জানতে চাই ৯৯৯ এ পুলিশ সাহায্য নেয়া কি আমার অপরাধ হয়েছে। আর আমার বাড়ি ভাংচুর, লুটপাট এবং আমাকে ও আমার ছেলেকে মারধরের ঘটনা তদন্তে এসআই কাওসারের সন্ত্রাসীদের পক্ষে অবস্থানের কারণ কি? আমি এ ঘটনার সুষ্ঠ বিচার চাই।
এ বিষয়ে চৌগাছা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কাওছার আলম বলেন, ‘স্যারের (ওসি) সাথে কথা বলেন।’
ওই নারীর বড় ছেলে রুবেল হোসেন জানান এ ঘটনায় তারা মঙ্গলবারই (২০ অক্টোবর) চৌগাছা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। যার তদন্তের দায়িত্বে রয়েছেন উপ-পরিদর্শক (এসআই) এমদাদ হোসেন।
জানতে চাইলে উপ-পরিদর্শক (এসআই) এমদাদ হোসেন বলেন ‘ওই পরিবারের লিখিত অভিযোগটি আমার কাছে আছে। আজ (বুধবার) সময় না পাওয়ায় তদন্তে যাওয়া হয়নি। আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) যাবো।’
চৌগাছা থানার ওসি রিফাত খান রাজীব প্রথমে বলেন ‘এ বিষয়ে ওই পরিবারের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ করা হয় নি।’ তবে এসআই এমদাদের বক্তব্য জানালে তিনি বলেন ‘অনেক অভিযোগই তো আসে, সেসময় আমার মনে ছিল না। অভিযোগ হলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ তিনি আরো বলেন ‘হুমকি দেয়ার কোন ঘটনা ঘটেনি। মিমাংশা করার জন্য উভয় পক্ষকেই গোলযোগ করতে নিষেধ করা হয়েছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *