গ্রন্থমেলার উদ্বোধন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক : করোনার মধ্যেই নির্ধারিত সময়ের চেয়ে প্রায় দেড় মাস পরে অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০২১ শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ মার্চ) মেলার উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে মেলায় আগত ক্রেতা-দর্শনার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। আজ বিকেল ৪টার দিকে গণভবন থেকে ভার্চ্যুয়ালি অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। আগামী ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত বইমেলা চলবে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘করোনার কারণে এবার নির্ধারিত সময়ের পর বইমেলা অনুষ্ঠিত হলো। কিন্তু মার্চ মাসও আমাদের জাতির জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ৭ মার্চের ভাষণ, ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন এবং এ বছর স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালিত হচ্ছে। সব মিলিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়েই মেলা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আসুন সবাই মিলে আমরা বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলি। আমাদের আগামী প্রজন্মকেও যেন উৎসাহিত করি।’

মেলায় সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নিজেকে সুরক্ষিত করা মানে অন্যকেও সুরক্ষিত করা।’

অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু রচিত ও বাংলা একাডেমি প্রকাশিত ‘আমার দেখা নয়াচীনের’ ইংরেজি অনুবাদের মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এবারের বইমেলার মূল থিম ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী’। বইমেলা প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। তবে ছুটির দিন মেলা শুরু হবে সকাল ১১টা থেকে। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ১৫ লাখ বর্গফুট জায়গাজুড়ে এবারের বইমেলার আয়োজন করা হয়েছে।

বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক শামসুজ্জামান খানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন- সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. বদরুল আরেফীন এবং স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী।

অনুষ্ঠানে ‘বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার-২০২০’ দেওয়া হয়। এবার কবিতায় মুহাম্মদ সামাদ, কথাসাহিত্যে ইমতিয়ার শামীম, প্রবন্ধ/গবেষণায় বেগম আকতার কামাল, অনুবাদে সুরেশরঞ্জন বসাক, নাটকে রবিউল আলম, শিশুসাহিত্যে আনজীর লিটন, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গবেষণায় সাহিদা বেগম, বিজ্ঞান/কল্পবিজ্ঞানে অপরেশ বন্দ্যোপাধ্যায়, আত্মজীবনীতে ফেরদৌসী মজুমদার এবং ফোকলোর বিভাগে মুহাম্মদ হাবিবুল্লা পাঠান এ পুরস্কার পেয়েছেন।
উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা বাইমেলা ঘুরে দেখেন। তার কিছুক্ষণ পরই সাধারণ দর্শনার্থী, লেখক ও পাঠকদের জন্য বইমেলার দুয়ার খুলে দেওয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *