কৃষকের মাথায় হাত ; বগুড়ায় কাঁচা মরিচ ৫ টাকা কেজি

বগুড়া প্রতিনিধি : বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মহাস্থান হাটে বিক্রি করার জন্য নিয়ে আসা কাঁচা মরিচ নিয়ে বিপাকে পরেছে কৃষক। পানির দামে বিক্রি হচ্ছে কাঁচা মরিচ। প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৫ টাকায়। হাটে পর্যাপ্ত কাঁচা মরিচ আমদানি হওয়ার তেমন ক্রেতা নেই ফলে কৃষক হতাশ হয়ে পরেছেন এবং ৫ টাকা কেজিতে বিক্রয় করছেন। জানায়ায়, শিবগঞ্জের কাঁচা ও লাল মরিচের খ্যাতি দীর্ঘ দিনের। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় উপজেলায় কাঁচা মরিচের বাম্পার ফলন হয়েছে। দেশি মরিচের ঝাল বেশি হওয়ায় এই এলাকার কাঁচা মরিচের দেশজুড়ে চাহিদা থাকলেও করোনার প্রভাব পড়ে এবার এর দাম অস্বাভাবিক কমে গেছে।

পাইকারি বাজার গুলোতে ৫ টাকা কেজি দরে মরিচ বিক্রি হচ্ছে। তাই উপজেলার মরিচ চাষীরা পড়েছেন চরম বিপাকে। লাভের আশায় বেশি করে জমিতে মরিচ চাষ করে এবার লোকসান গুণছেন কৃষকরা। উৎপাদন খরচ তো দূরের কথা, ক্ষেত থেকে মরিচ তুলে হাটে নিয়ে যাওয়ার খরচও উঠছেনা। কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়, বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় চলতি মৌসুমে মরিচের চাষ হয়েছে ৩৫০ হেক্টর জমিতে। উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের হিসেব মতে, এ অঞ্চলে মরিচ উৎপন্ন হয়েছে ১ হাজার ৫’শ মেট্রিক টনেরও বেশি। এবার মরিচ চাষের উপযোগী আবহাওয়া মরিচের ফলন বেশি হয়েছে । প্রতি বিঘায় ৪০ মণেরও বেশি মরিচ উৎপাদন হচ্ছে।

হাটে কাঁচা মরিচ বিক্রি করতে আসা কৃষক লুৎফর রহমান জানান, গত বছর বন্যার কারনে ফসল নষ্ঠ হয়েছে তাই লাভের আশায় তিনি দুই বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করেছিলেন।। এবার ফলন অনেক ভালো হয়েছে। কিন্তু হাটে পরযাপ্ত আমদানি হয়েছে সেই তুলনাই ক্রেতা নেই। মরিচের দাম নেই। ক্ষেত থেকে মরিচ তুলতে যে খরচ লাগছে সেটাও তিনি পাচ্ছেন না। এ কারণে ক্ষেতের মরিচ ক্ষেতেই লাল হয়ে ঝরে যাচ্ছে। তিনি দুঃখ করে আরও বলেন, মরিচ এখন আমাদের গলার ফাঁস।

মহাস্থান হাটের পাইকারী ব্যবসায়ী জুয়েল মিয়া জানান, গত দু’সপ্তাহ ধরে বগুড়ায় কাঁচা মরিচের দাম অস্বাভাবিক কমে গেছে। গত বছর একই সময়ে মরিচের দাম ছিল ৭০/৮০ টাকা কেজি, সময়ের ব্যবধানে একশ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এ হাট থেকে মরিচ ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, পিরোজপুর, মেহেরপুরসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলে যাচ্ছে যে পরিমান চাহিদা তার চেয়ে বিশি উতপাদন। প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ ট্রাক করে মরিচ সরবরাহ হচ্ছে অন্য জেলায়। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আল মোজাহিদ সরকার জানান, গত বছরের তুলনায় এ মৌসুমে অধিক জমিতে আবাদ ও ভালো ফলন হয়েছে। দর পতনের বিষয়ে তিনি ব্যবসায়ীদের উদ্যোগ নেওয়া দরকার বলে মনে করেন ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *