কলারোয়ায় এই প্রথম ঢাকা ফেরত যুবকের করোনা শনাক্ত

আসাদুজ্জামান নয়ন।। সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ঢাকা ফেরত যুবকের (৩৭) করোনা শনাক্ত হয়েছে। এই প্রথম কলারোয়ায় কোন ব্যক্তির করোনা পজেটিভ রিপোর্ট আসলো। শনিবার (১৬ মে) করোনা পজেটিভ রিপোর্ট আসে ওই যুবকের।
সে উপজেলার চন্দনপুর ইউনিয়নের দাড়কি গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে বাড়িতেই অবস্থান করছেন। তবে এখন পর্যন্ত তার সর্দি, কাশি, জ্বর, গলাব্যথাসহ করোনার কোন উপসর্গ নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।
এতে করোনা আক্রান্ত যুবকের বাড়িসহ আশপাশের ৮টি বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে বলে থানার ওসি শেখ মুনীর-উল-গীয়াস জানিয়েছেন।
করোনায় আক্রান্ত হওয়ার রিপোর্ট পাওয়ার সাথে সাথে কলারোয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম লাল্টু, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরএম সেলিম শাহনেওয়াজ, উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডা. জিয়াউর রহমান, থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মুনীর-উল-গীয়াসসহ সংশ্লিষ্টরা ওই যুবকের মানসিক শক্তি বাড়াতে দুপুরের পরপরই তার বাড়িতে ছুটে যান। আতংকিত না হয়ে মানবিক হয়ে সকলকে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহবান জানিয়েছেন তারা।
শনিবার বেলা ৩টর দিকে করোনা পজেটিভের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার জিয়াউর রহমান। তিনি জানান- ‘উপজেলার চন্দনপুর ইউনিয়নের দাড়কি গ্রামের ওই যুবক ও তার স্ত্রীর নমুনা ১২ মে সংগ্রহ করে ১৩ মে পরীক্ষার জন্য প্রেরণ করা হয়। আজ (১৬ মে) তার করোনা পজেটিভ রিপোর্ট এসেছে। আমরা সেখানে গিয়ে আক্রান্ত ব্যক্তির মানসিক মনোবল বৃদ্ধিসহ চিকিৎসা সেবা সংক্রান্ত তথ্য দিয়েছি। ওই ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের ৮বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে।’
তিনি বলেন- ‘এদিন পর্যন্ত ১৩৭টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। আজই প্রথম পজেটিভ রিপোর্ট আসলো।’
উপজেলা চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম লাল্টু  ‘করোনা শনাক্তকারীকে আতংকিত না হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী থাকার আহবান জানিয়ে বলেন- মনোবল শক্ত রাখ, আমরা সবাই পাশে আছি।’
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আরএম সেলিম শাহনেওয়াজ জানান- ‘স্থানীয় জনসাধারণকে সজাগ-সচেতন থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’
কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মুনীর-উল-গীয়াস জানান, ‘আক্রান্ত রোগীসহ আশে পাশের ৮টি বাড়িতে লালপতাকা তুলে লকডাউন করা হয়েছে। স্থানীয়দের সর্বোচ্চ সতর্কতায় অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। করোনা আক্রান্তকে শঙ্কিত না হয়ে মনোবল শক্ত রাখার আহবান জানানো হয়েছে। আমরা তার পাশে আছি।’
চন্দনপুর ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম মনি বলেন- ‘দাড়কি গ্রামের ওই যুবক স্ত্রীকে নিয়ে সম্প্রতি ঢাকা থেকে বাড়িতে আসেন। আমি সংবাদ পেয়ে মোবাইল ফোনে তাকে করোনা টেস্টের জন্য নমুনা দিতে কলারোয়া যেতে অনুরোধ করি। সেই মোতাবেক নমুনা দিয়ে আসার পর আজ তার পজেটিভ রিপোর্ট এসেছে বলে হাসপাতাল থেকে আমাকে জানিয়েছে। আমরা তার সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের বাড়ি লকডাউন করেছি। সার্বিক সহযোগিতায় তাদের পাশে থাকবো।’
এদিকে, মোবাইল ফোনে করোনা আক্রান্ত যুবক জানান- ‘সে ঢাকার একটি বায়িং হাউসে চাকরি করেন। স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন সাভারে। গত ১০ মে গ্রামের বাড়ি দাড়কি আসেন। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান তাকে করোনা টেস্ট করাতে বললে স্ত্রীসহ তিনি ১২ মে কলারোয়া হাসপাতালে গিয়ে নমুনা দেন। আজ (১৬ মে) চেয়ারম্যান তাকে ফোনে জানিয়েছেন আমার করোনা পজেটিভ রেজাল্ট এসেছে।’
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গত ৩/৪দিন বিভিন্ন সময়ে করোনা শনাক্ত যুবককে তার বাড়ির পাশেই হিজলদী বাজারসহ আশপাশে ঘুরতে দেখা গেছে। এমনকি তার সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিরা কিংবা বাড়ির আশপাশের লোকজন হিজলদী বাজার, পাড়া ও হিজলদী কমিউনিটি ক্লিনিকসহ বিভিন্ন স্থানে গিয়েছেন। এতে ওই এলাকার প্রায় সকলেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *