কলারোয়ার কাঠের ব্রীজটি মরণফাঁদ ! যে দাবি পূরণ হয়নি ৪৯ বছরেও

মুহাঃ আসাদুজ্জামান ফারুকী : কলারোয়া পৌর সদরের বেতনা নদীর ওপর নির্মিত জনগুরুত্বপূর্ণ দক্ষিণ মুরারিকাটি কাঠের ব্রীজটি (তারক নন্দী ব্রীজ) দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন এ ব্রীজ দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পৌর সদরের দক্ষিণ মুরারিকাটি, গোপিনাথপুর, পাথরঘাটা, জেলেপাড়া, পালপাড়া, কর্মকারপাড়া, উপজেলার ঘরচালা গ্রাম, কাশিয়াডাঙ্গা, কুমারনল গ্রামের স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ কয়েক হাজার মানুষ চলাচল করে। কাঠের পাটাতন নেই বললেই চলে। লোহার কাঠামোর অবস্থাও একই রকম। স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে কাঠের ব্রীজটির পরিবর্তে নতুন পাকা ব্রীজ নির্মাণের দাবি করা হলেও গত ৪৯ বছরে সে দাবি পূরণ হয়নি।
দক্ষিণ মুরারিকাটি এতিমখানার সভাপতি ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আনোয়ার হোসেন বলেন, দক্ষিণ মুরারিকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও এতিমখানার শতাধিক শিশু শিক্ষার্থীকে এই ঝুঁকিপূর্ণ ব্রীজ পার হয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করতে হয়। অনেক শিক্ষার্থী ভয়ে অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ায় দক্ষিণ মুরারিকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে গেছে।
কলারোয়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজিজুর রহমান বলেন, জনগুরুত্বপূর্ণ ব্রীজটি সংস্কার না করায় প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা। কিন্তু পৌর কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিচ্ছে না। ৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর কবীর জানান, ব্রীজটি দ্রুত সংস্কার করা হবে। এ বিষয়ে তিনি পৌর মেয়রকে অবহিত করেছেন বলেও জানান।
কলারোয়া পৌরসভার (ভারপ্রাপ্ত) মেয়র মনিরুজ্জামান বুলবুল জানান, এ বিষয়ে পৌরসভার মাসিক সভায় আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরএম সেলিম শাহনেওয়াজ জানান, ব্রীজটির বিষয়ে আজ আপনার কাছ থেকেই জানতে পারলাম। এ বিষয়ে পৌর মেয়রের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কলারোয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম লাল্টু জানান, এটি পৌর সদরের একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্রীজ। অতিদ্রুত সংস্কার প্রয়োজন। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে পৌর কর্তৃপক্ষকে দ্রুত এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পৌরসভার অভ্যন্তরে উপজেলা পরিষদের কাজ করা সম্ভব নয় বলে আমরা ব্যবস্থা নিতে পারছি না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *