করোনা ঠেকাতে যশোরের শার্শা উপজেলায় কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ

বিশেষ প্রতিনিধি : করোনা ভাইরাসের সামাজিক সংক্রমন ঠেকাতে যশোরের শার্শা উপজেলায় কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

সম্প্রতি গ্রামের সংবাদ পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে “যশোরের সিমান্ত উপজেলা শার্শায় হঠাৎ বেড়ে গেছে কোভিড উপসর্গের রোগী” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর উপজেলা প্রশাসন করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন।

মঙ্গলবার এক ‘গণ বিঞ্জপ্তি’ জারি করা হয়েছে। বিকেল পাঁচটার পর সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশনাসহ ১২ দফা কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন ওই ‘গণ বিঞ্জপ্তিতে’।

যশোরের সীমান্তবর্তী শার্শা উপজেলায় সর্দি-কাশি-জ্বরে আক্রান্ত রোগী হঠাৎ বেড়ে গেছে। এসব রোগীদের মধ্যে জ্বর নিয়ে ভীতি থাকলেও করোনাভাইরাস পরীক্ষায় তেমন আগ্রহ দেখা নেই। এমন কী সাধারণ মানুষকে জ্বর সর্দি কাশি নিয়ে বাজার-ঘাটে অবাধে ঘোরাঘুরি করতে দেখা গেছে।

করোনার সংক্রমন ঠেকাতে উপজেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও জনপ্রতিনিধিরা কঠোর অবস্থানে থাকলেও মাঠ পর্যায়ে তার প্রভাব না পড়ায় বাধ্য হয়ে কঠোর বিধি নিষেধ আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সিরাজুল হক মঞ্জু।

শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর আলিফ রেজা বলেন, উপজেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক এই কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।এখন থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ঘরের বাইরে এবং জনসমক্ষে সকলকে বাধ্যতামুলক মাস্ক পরিধান করতে হবে।গণপরিবহন বন্ধ থাকবে।বিকেল পাঁচটার পর সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে হবে। মোটরসাইকেলে একজন ও ইজিবাইকে দুই জনের বেশি যাত্রী বহন করা যাবে না।সকল প্রকার গনজমায়েত, সভা সমাবেশ, মিছিল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। হোটেল রেস্তোরাঁয় বসে খাওয়া যাবে না এবং চায়ের দোকানে বেঞ্চ, কেরামবোর্ড ও টেলিভিশন রাখা যাবে না।বিনা কারনে সন্ধা ৬টার পরে ঘরের বাইরে আসা যাবে না।

প্রতিদিন কোভিড-১৯ পজেটিভ রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে জানিয়ে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ইউসুফ আলি জানান, মঙ্গলবার শার্শা উপজেলায় ৩০টি নমুনার মধ্যে ২২জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। সোমবার ৫৫নমুনায় পজেটিভ হয়েছে ১৭টি এবং রোববার ৩৭টি নমুনায় পজেটিভ হয়েছে ১৯টি। এ পর্যন্ত উপজেলায় ৬২১জন করোনা রোগী পাওয়া গেছে, যাদের হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে।

উপজেলার কোথাও সরকারের স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না কেউ। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নিয়মের বালাই নেই। লকডাউন ঘোষণার পরও বেনাপোল, শার্শা, নাভারন ও বাগআচড়া এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়েনি। আগের মতোই প্রায় স্বাভাবিকভাবেই সব কার্যক্রম চলছে।

উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) রাসনা শারমিন মিথি গ্রামের সংবাদকে বলেন, মানুষকে সচেতন করার জন্য গণ বিঞ্জপ্তি জারি করা হয়েছে। উপজেলা পরিষদের পক্ষে বিভিন্ন ইউনিয়নে মাইকিং করা হচ্ছে। মাস্ক সচেতনতার জন্য আমি ও ইউএনও স্যার প্রতিদিনই বেরুচ্ছি। মাঠ পর্যায়ে মানুষকে সচেতনতার কাজ করছি।

“তারপরও বিধিনিষেধ অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *