করোনায় জুলাই মাসের চিত্র : এক মাসে এত মৃত্যু ও শনাক্ত হয়নি আগে

নিজস্ব প্রতিবেদক : শুধু জুলাই মাসে দেশে করোনায় মারা গেছেন ৬ হাজার ১৮২ জন। এছাড়া ৩ লাখ ৩৬ হাজার ২২৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর আগে কখনো এক মাসে এত মৃত্যু বা শনাক্ত হয়নি। এর আগে সর্বোচ্চ মৃত্যু হয় চলতি বছরের এপ্রিলে; ২ হাজার ৪০৪ জনের। সেই তুলনায় এ মাসে ৩ হাজার ৭৭৮ জন বেশি মারা গেছেন। এর আগে সর্বোচ্চ শনাক্তও এপ্রিলে হয়; ১ লাখ ৪৭ হাজার ৮৩৭ জন। সেই তুলনায় ১ লাখ ৮৮ হাজার ৩৮৯ জন বেশি শনাক্ত হয়েছে। এপ্রিলের পর বেশি মারা গেছে এবং শনাক্ত হয়েছে চলতি বছরের জুন মাসে। জুনে শনাক্ত হন ১ লাখ ১২ হাজার ৭৭৮ জন, মারা যান ১ হাজার ৮৮৪ জন। জুনের তুলনায় জুলাই মাসে ২ লাখ ২৩ হাজার ৪৪৮ জন বেশি শনাক্ত এবং ৪ হাজার ২৯৮ জন বেশি মারা গেছেন। সংক্রমণ প্রায় তিনগুণ এবং মৃত্যু প্রায় সোয়া তিনগুণের বেশি বেড়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, করোনা শুরু পর জুন মাসে ৯ লাখ ১৩ হাজার ২৫৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়। মারা যান ১৪ হাজার ৫০৩ জন। আর জুলাই পর্যন্ত ১২ লাখ ৪৯ হাজার ৪৮৪ জনের শনাক্ত হন। মারা ২০ হাজার ৬৮৫ জন।

চলতি বছরের ৩০ জুন মারা যান ১১৫ জন। মৃত্যুর হার ছিল ১.৫৯ শতাংশ। মোট জনসংখ্যার ভিত্তিতে প্রতি ১০ লাখে ৮৫.১৬ জনের মৃত্যু হয়। ৩১ জুলাই মারা যান ২১৮ জন। মৃত্যুর হার ছিল ১.৬৬ শতাংশ। মোট জনসংখ্যার ভিত্তিতে প্রতি ১০ লাখে ৮৬.২৯ জনের মৃত্যু হয়। একমাসে শনাক্ত হিসেবে মৃত্যুর হার বেড়েছে .০৭ শতাংশ এবং জনসংখ্যার হিসেবে ১.১৩ শতাংশ। ৩০ জুন ৩৫১০৫ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৮৮২২ জনের শনাক্ত হয়। শনাক্তের হার ছিল ২৫.১৩ শতাংশ। ৩১ জুলাই ৩৫১০৫ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৯৩৬৯ জনের শনাক্ত হয়। শনাক্তের হার ৩০.২৪ শতাংশ। ৩০ জুনের তুলনায় ৩১ জুলাই শনাক্তের হার ৫.১১ শতাংশ বেশি। ৩০ জুন শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ছিল ৮৯.৩৮ শতাংশ। মোট জনসংখ্যার ভিত্তিতে প্রতি ১০ লাখে সুস্থতার হার ছিল ৪৭৯২.৮৩ জন। ৩১ জুলাই শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ছিল ৮৬.২৯ শতাংশ। মোট জনসংখ্যার ভিত্তিতে প্রতি ১০ লাখে সুস্থতার হার ছিল ৬৩৭৫.৮ জন। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতা কমেছে ৩.০৯ শতাংশ। তবে জনসংখ্যার ভিত্তিতে সুস্থতা বেড়েছে ১৫৮২.৯৭ জন।

৩০ জুন মৃত ১১৫ জনের মধ্যে পুরুষ ৭২ জন। অর্থাৎ ৭১.১৯ শতাংশ। নারী ৪৩ জন অর্থাৎ ২৮.৮১ শতাংশ। এ পর্যন্ত মোট ১০৩২৫ জন পুরুষ এবং ৪১৭৮ জন নারীর মৃত্যু হয়। ৩১ জুলাই মৃত ২১৮ জনের মধ্যে পুরুষ ১৩৪ জন। অর্থাৎ ৬৭.৭০ শতাংশ। নারী ৮৪ জন অর্থাৎ ৩২.৩০ শতাংশ। এ পর্যন্ত মোট ১৪০০৩ জন পুরুষ এবং ৬৬৮২ জন নারীর মৃত্যু হয়। ৩ হাজার ৬৭৮ জন পুরুষ মারা গেছেন। নারী মারা গেছেন ২৫০৪ জন। পুরুষের মৃত্যুর হার ৩.৪৯ শতাংশ কমে নারীর মৃত্যুর হার ৩.৪৯ শতাংশ বেড়ে গেছে। প্রতিদিন গড়ে ১১৮ জন করে পুরুষ এবং ৮০ জন করে নারী মারা গেছে। নারী পুরুষ মিলেয়ে দিনে গড়ে ১৯৯ জনের বেশি মারা গেছে। ওই দিন ১৭ জনসহ ৩০ জুন পর্যন্ত ঢাকা বিভাগে মারা গেছে ৭৫৭৯ জন; ৫২.২৬ শতাংশ। চট্টগ্রামে ২৩ জনসহ মোট মারা গেছে ২৭৫০ জন; ১৮.৯৬ শতাংশ। রাজশাহী ২৩ জনসহ মোট মারা গেছে ১০৩৪ জন; ৭.১৩ শতাংশ। খুলনায় ৩০ জনসহ মোট মারা গেছে ১২৬৫ জন; ৮.৭২ শতাংশ। বরিশালে ২ জনসহ মোট মারা গেছে ৪২৩ জন; ২.৯২ শতাংশ। সিলেটে ৩ জনসহ মোট মারা গেছে ৫২৭ জন; ৩.৬৩ শতাংশ। রংপুর ১১ জনসহ মোট মারা গেছে ৬০৮ জন; ৪.১৯ শতাংশ। ময়মনসিংহে ৬ জনসহ মোট মারা গেছে ৩১৭ জন; ২.১৯ শতাংশ। ৩১ জুলাই দিন ৬৭ জনসহ ঢাকা বিভাগে মারা গেছে ৯৪৮১ জন; ৪৫.৮৪ শতাংশ। চট্টগ্রামে ৫৫ জনসহ মোট মারা গেছে ৩৮৬১ জন; ১৮.৬৭ শতাংশ। রাজশাহী ২২ জনসহ মোট মারা গেছে ১৫৯৬ জন; ৭.৭২ শতাংশ। খুলনায় ২৭ জনসহ মোট মারা গেছে ২৭৫৩ জন; ১৩.৩১ শতাংশ। বরিশালে ১০ জনসহ মোট মারা গেছে ৬৫৬ জন; ৩.১৭ শতাংশ। সিলেটে ৯ জনসহ মোট মারা গেছে ৭৬২ জন; ৩.৬৮ শতাংশ। রংপুর ১৬ জনসহ মোট মারা গেছে ১০২৫ জন; ৪.৯৬ শতাংশ। ময়মনসিংহে ১২ জনসহ মোট মারা গেছে ৫৫১ জন; ২.৬৬ শতাংশ।

জুলাই মাসে ঢাকায় মারা গেছে ১৯০২ জন, চট্টগ্রামে ১১১১ জন, রাজশাহী ৫৬২ জন, খুলনায় ১৪৮৮ জন, বরিশালে ২৩৩ জন, সিলেটে ২৩৫ জন, ৪১৭ জন, ময়মনসিংহে ২৩৪ জন।

জুন মাসের তুলনায় মোট মৃত্যুর হারের দিক থেকে জুলাই মাসে ঢাকায় কমেছে ৬.৪২ শতাংশ, চট্টগ্রামে কমেছে ০.২৯ শতাংশ, রাজশাহী বেড়েছে ০.৫৯ শতাংশ, খুলনায় বেড়েছে ৪.৫৯ শতাংশ, বরিশালে বেড়েছে ০.২৫ শতাংশ, সিলেটে বেড়েছে ০.০৫ শতাংশ, রংপুরে বেড়েছে ০.৭৭ শতাংশ, ময়মনসিংহে ০.৪৭ শতাংশ বেড়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, এর আগে কখনো এত শনাক্ত হয়নি। এত মারা যায়নি। কঠোর বিধিনিষেধ না থাকলে সামনে শনাক্ত এবং মৃত্যুর হার বেড়ে যাবে। ১৬ মাসে মারা গেছে সাড়ে ১৪ হাজার আর এক মাসে মারা গেল ৬ হাজারের অধিক। তাই আমাদের আরও অনেক বেশি সচেতন হতে হবে। মাস্ক পতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *