করোনার কারণে মানবশূন্য নড়াইল

নড়াইল প্রতিনিধি ॥ একদিকে করোনার আতংক অপরদিকে পুলিশের তৎপরতায় জনবহুল জেলা শহর নড়াইল এখন পুরোটাই বিরান হয়ে পড়ে আছে। সব সময়ের ব্যস্ত থাকা এ শহরটি ১০ দিনের ছুটিতে খাঁখাঁ করছে।
বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার (২৬, ২৭ মার্চ) নড়াইল শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুওে এ চিত্রই দেখা যায়। ঈদেও ছুটিতে বেশিরভাগ মানুষ বাড়ি চলে গেলে যতোটা ফাঁকা হয়, এখন নড়াইল তার চেয়েও জনশূন্য, নিস্তব্ধ। খুব প্রয়োজনীয় জিনিজপত্র ছাড়া বন্ধ সবকিছুর দোকান। নেই কোনো যানবাহনও।
সব মিলিয়ে এ যেন এক যুদ্ধাবস্থা। থমথমে চারপাশ। এ যুদ্ধ প্রাণঘাতী করোনার বিরুদ্ধে। এতে জয়ী হতে হলে বাইওে নয়, ঘওে অবস্থান করাই অতি জরুরি। যে যার যার ঘওে অবস্থান নিয়েই নিশ্চিত করতে হবে সামাজিক বিচ্ছিন্নতা। কভিড-১৯ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় ডাক্তারী মতে এটিই উত্তম পথ।
স্বাধীনতা দিবস হলেও সকাল থেকে শুরু করে বেলা ৪টা পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কোথাও তেমন জনসমাগম চোখে পড়েনি। খুব জরুরি দরকার ছাড়া কেউ বেরোচ্ছে না ঘর থেকে। তবে এই কড়াকড়ির আওতামুক্ত আছে কেবলমাত্র জরুরি সেবাগুলো। আর বিশেষ কাজে বের হওয়া গুটিকয় গাড়িগুলোর চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে পুলিশ। রুপগঞ্জ বাজার ও সদও হাসপাতাল মার্কেট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, যেখানে প্রতিদিন হাজার-হাজার মানুষের ভিড়, সেই এলাকা শুনশান পড়ে আছে। কোথাও কেউ নেই। বন্ধ সব দোকান। একই অবস্থা শহরের অন্যান্য স্থানেও।
এদিকে করোনা প্রতিরোধে বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের পক্ষ থেকে মাইকিং করেও মানুষজনকে ঘওে অবস্থানের কথা প্রচার করা হচ্ছে।এ প্রসঙ্গে পুলিশের কুইক রিসপন্স টিমসহ ডিবি পুলিশের টিমের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া এই সময় সবাইকেই ঘওে অবস্থান করতে হবে। কঠোরভাবে তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এদিকে নিত্যপণ্যেও বাজাওে কমেছে ক্রেতাসমাগম।বুধবার ও বৃহস্পতিবার নড়াইল ও লোহাগড়ার এশাধিক বাজার ঘুওে মানুষের কম উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।সম্ভাব্য লকডাউন আতঙ্কে গত কয়েকদিন ধওে চাহিদার কয়েকগুণ বেশি চাল, ডাল, তেল, লবণ, পেঁয়াজ, চিনি, শিশুখাদ্যসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য কিনছিলেন সাধারণ মানুষ। এই সুযোগে জিনিসপত্রের বাড়তি দাম নেন কিছু অসাধু ব্যবসায়ী।নিত্যপণ্যেও সংকট নেই জানিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বারবার সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত হয়ে নিত্যপণ্য বেশি পরিমাণে না কেনার আহ্বান জানানো হয়। তবে এতেও কাজ হয়নি।বৃহস্পতিবার সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন বাজার ঘুওে দেখা গেছে, প্রত্যাশা অনুযায়ী ক্রেতা না থাকায় নিত্যপণ্যেও দাম নতুন কওে আর বাড়েনি। তবে আগের বাড়তি দাম এষনও বহাল রেখেছেন ব্যবসায়ীরা। বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওষুধের দোকান, খাবারের দোকান খোলা রয়েছে। খোলা রয়েছে সবজির বাজার, মাছের বাজারসহ বিভিন্ন ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যেও দোকান। সবজি ও মাছের বাজার চড়া থাকলেও চাহিদা কমে যাওয়ায় ও সরবরাহ প্রচুর হওয়ায় কমেছে পেঁয়াজের দাম। বাজার ঘুওে দেখা গেছে, পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ কেজি দরে। করোনার কারণে লকডাউন আতঙ্কে এই নিত্যপণ্যটির দাম উঠেছিল ৬০ থেকে ৭০ টাকায়।রশুন বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৮০টাকা দরে।
তবে চালের দাম এষনও বাড়তি রয়েছে। অপ্রতুল সরবরাহের দোহাই দিয়ে বাড়ানো হয়েছে প্রধান এই খাদ্যপণ্যেও দাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *