কপিলমুনিতে করোনায় ফ্রি বই ও মাস্ক দিচ্ছেন সাহিত্যিক এমদাদ

জি এম আসলাম হোসেন, কপিলমুনি (খুলনা) ঃ
করোনাকালীন ফ্রি বই পড়া উদ্যোগ নিয়েছেন কপিলমুনির শিক্ষক বিশিষ্ট সাহিত্যিক গীতিকার জিএম এমদাদ। সারাদেশ যখন মহামারী করোনার স্থবির, মানুষ যখন রোগযন্ত্রণা ও রোগ আতঙ্কে জবুথবু হয়ে আছে, শিক্ষার্থীদের হাতে নেই বই, খেটে খাওয়া মানুষ দারুন নাজুক পরিস্থিতির শিকার, ঠিক সেই সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন এই মানুষটি।
নিজের লেখা বই সব বয়সের মানুষের হাতে তুলে দিচ্ছেন স্ব-উদ্যোগেই, সেই সাথে সাথে করোনা সম্পর্কে সচেতন করছেন সাধারণ মানুষকে, ফ্রী বইয়ের পাশাপাশি মাস্ক ও বিতরণ করছেন। কপিলমুনি সদর থেকে আড়াই কিঃমিঃ দূরে নিভৃত পল্লী মানিকতলায় হোমিও চিকিৎসার পাশাপাশি নিজের চেম্বারে বসে লেখালেখি ও মানব সেবা নিয়ে আছেন তিনি। এ পর্যন্ত তার ১০টি বই প্রকাশিত হয়েছে, আঞ্চলিক ইতিহাস ঐতিহ্য নিয়ে কাজ করে চলেছেন দীর্ঘদিন। সম্প্রতি খুলনার আঞ্চলিক গান নিয়ে লেখা ও সুর এর পাশাপাশি কণ্ঠ দিয়ে চলেছেন তিনি। সামাজিক মাধ্যমে তার আঞ্চলিক গানগুলো ব্যাপক সাড়া ফেলেছে বই নিয়ে তাঁর স্বপ্ন, তিনি মানুষের মনে জ্ঞানের দুয়ার খুলতে চান বইয়ের মাধ্যমে। এছাড়া এলাকার প্রায় প্রতিটি ঘরে ‘বই নীড়’ গড়ে তুলতে চান জি এম এমদাদ। স্মার্ট ফোনে ফেসবুক কম ব্যবহার করে যাতে শিক্ষার্থীরা বইয়ের প্রতি ঝুঁকে পড়েন তার জন্য নতুন প্রজন্মের মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ সৃষ্টি করার নিরন্তন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
লেখক ও উদ্যোক্তা জি এম এমদাদের নিকট বই নিতে আসা আজিজুর রহমান বলেন, ‘আমাদের এলাকায় এখান থেকে অনেক ছাত্রছাত্রী ফ্রি বইসহ বিভিন্ন জিনিস নিচ্ছেন। উনার উদ্যোগ ভাল, আমরা চাই তার উদ্দেশ্য সফল হোক।’
জানাযায়, এলাকায় শিক্ষা বিস্তারের জন্য নিজ গ্রাম রামনগরে একটি প্রাথমিক স্কুলও প্রতিষ্ঠা করেছেন এমদাদ। শুধু তায় নয়, কে আর আর মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন সে সময়। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এলাকা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে এক যুগেরও বেশি সময় সেবা দিয়েছেন তিনি। সম্পাদনা করেছেন কয়েকটি লিটল ম্যাগাজিনের, দায়িত্ব পালন করেছেন কপিলমুনি প্রেসক্লাবের সভাপতি হিসেবে। তিনি বাংলাদেশ বেতারের নিয়মিত গীতিকার ও শিল্পী।

এবিষয়ে জি এম এমদাদ বলেন, ‘সারা জীবন মানুষের কাতারে থেকে সেবা করেছি। করোনাকালীন মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি, সাহিত্য চর্চায় অগ্রসারের জন্য আমার লেখা বই, মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার ফ্রি বিতরণ করছি, সব সময় সকলের সহযোগীতা চাই।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *