উৎসাহ আগ্রহে টিকা গ্রহণ : যশোরে প্রথম দিনে টিকা নিল ৫৭২২০ জন

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ কোভিড মহামারী দমনের লক্ষ্যে শুরু হওয়া গণটিকাদান কর্মসূচিতে জেলায় জেলায় মানুষ উৎসাহ ভরে টিকা নিয়েছে। শনিবার সকাল ৯টায় সারাদেশে ১৫ হাজারের বেশি কেন্দ্রে টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে। ছয় দিনে ৩২ লাখ মানুষকে টিকা দিতে চায় সরকার।

এই কর্মসূচি সিটি কর্পোরেশন এলাকায় চলবে ৯ অগাস্ট পর্যন্ত। প্রথম দিন বাদ পড়া ইউনিয়ন ও পৌরসভা পর্যায়ের ওয়ার্ডে টিকা দেওয়া হবে ৮ ও ৯ অগাস্ট। এই দিনে টিকা দেওয়া হবে দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকায়। আর ১০ থেকে ১২ অগাস্ট ৫৫ বছরের বেশি বয়সী ও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে টিকা কর্মসূচি চলবে।
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে যশোরে ওয়ার্ড পর্যায়ে গণটিকা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রথম দিনে জেলায় ৫৭ হাজার ২২০ জন নারী ও পুরুষকে টিকা প্রদান করা হয়েছে। সুশৃঙ্খলভাবে উৎসবমুখর পরিবেশে ভ্যাকসিনেশন রান টেস্ট প্রথম দিনের কর্মসূচি শেষ হয়েছে।

শনিবার সকালে যশোরের উপশহর ইউনিয়ন পরিষদের বালিকা বিদ্যালয়ের কেন্দ্রে গণটিকা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান। এদিন জেলার ৯৩টি ইউনিয়নে একটি করে তিনটি বুথ হিসেবে মোট ২৭৯টি ও আটটি পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে মোট জেলায় ৭২টি কেন্দ্রে সকাল নয়টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত টিকা কার্যক্রম চলে। প্রথম দিনে জেলায় ৫৭ হাজার ২২০ জনকে টিকা প্রদান করা হয়েছে। তবে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতি কেন্দ্রে ২শ’ টিকা বরাদ্দ থাকলেও প্রথম দিনে কিছু ইউনিয়নে কম আবার কিছু ইউনিয়নের অবস্থা বিবেচনায় কিছু কেন্দ্রে অতিরিক্ত টিকাও প্রদান করা হয়েছে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রথম দিনের নির্ধারিত টার্গেট পূরণ হয়েছে বলে সিভিল সার্জন অফিসের এমওসিএস ডা. রেহেনেওয়াজ জানিয়েছেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পরে জেলা প্রশাসক জেলার নওয়াপাড়া, চাঁচড়া, আরবপুর, দেয়াড়া, হৈবতপুর, লেবুতলা ও কাশিমপুর ইউনিয়নসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের টিকা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এ সময় তার সাথে ছিলেন সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মীর আবু মাঊদ ও ডা. আদনান ইমতিয়াজ।

ক্যাম্পেইন শেষে সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন জানান, এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগণকে ভ্যাকসিনেশনের আওতায় আনার কার্যক্রম শুরু হল। প্রথম দিনে জেলায় সর্বমোট ৫৯ হাজার ৮০১জন নারী ও পুরুষকে টিকা প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে গণটিকা কার্যক্রমের আওতায় ৫৭ হাজার ২২০ জনকে এবং নিয়মিত টিকা কার্যক্রমের আওতায় প্রথম ডোজ পেয়েছে দুই হাজার ৪৪১জন ও দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছে ১৪০ জন নারী ও পুরুষ। তিনি আরও বলেন, নিয়মিত ইপিআই টিকাদান কর্মসূচি অব্যাহত রেখে জেলার ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হবে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *