ঈদের ৪র্থ দিনেও সোনামসজিদ সহ বিনোদন কেন্দ্রে মানুষের উপচে পড়া ভিড়

নুরতাজ আলম: পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে আমের রাজধানী খ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিনোদন স্পটগুলোতে মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। বুধবার ঈদের দিন বেলা বাড়ার সাথে সাথে মানুষ পরিবার নিয়ে ঘুরতে বের হয়। জেলার প্রধান বিনোদন কেন্দ্র ঐতিহাসিক সোনামসজিদ শিশু পার্ক ও রংধনুপার্ক। আবার কেউ মহানন্দা নদীতে নৌকায় করেও ঘুরেছে। ছোট ছোট নৌকায় ঘুরেছে আপন মনে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের বিনোদন কেন্দ্র হর্টিকালচার সেন্টার, কালেক্টরেট শিশু পার্ক, শহরের অভিযাত হোটেল, ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর বীরশ্রেষ্ঠ সেতুর ওপার বারঘরিয়া চত্বর, দৃষ্টি নন্দন পার্ক, স্লুইচ গেট, খালঘাট, সি এ্যান্ডবি ঘাট, শেখ হাসিনা সেতু এলাকা, রুহুল বাঁধ, বাবু ডাইংসহ বিভিন্ন এলাকায় ছোট-বড়, যুবক-বৃদ্ধসহ সব রকম বয়সের মানুষের উপস্থিতি ছিলো চোখে পড়ার মত।
ঈদের আনন্দো ভাগাভাগি করে নিতে কেউ এসেছেন সন্তানকে নিয়ে, কেউ এসেছেন ভাই-বোনকে নিয়ে, কেউবা এসেছেন প্রেয়সীকে নিয়ে। কেউবা দল বেঁধে অটোরিক্সা, ভুটভুটি, মিশুক, বেবি ট্যাক্সি ভাড়া করে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। রিক্সার কদরও বেড়েছে যথেষ্ট। তবে ভাড়া দিতে হচ্ছে কিছুটা বেশি। একান্তভাবে সবকিছু ভুলে ঈদ উদযাপন টাই যেন মূখ্য বিষয় হয়েছিলো এ দিন।
জেলার সর্বত্রই মানুষের উপচেপড়া ভিড় ছিলো চারিদিকে। প্রতিদিন দুপুরের পর থেকে রাত ৮/৯টা পর্যন্ত ভিড় থাকছে সবচেয়ে বেশি। ঈদের প্রথম দিন থেকে ঈদের ৪র্থ দিনও এমনটা দেখা গেছে। বাদাম, ফুচকা, চটপটি, বারভাজা, মনোহারি পণ্য, পাপড়, শরবতসহ নানা দোকানের পসরা সাজিয়ে বসেছে বিক্রেতারা। এ যেন সেই গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী মেলার মত। দৃষ্টি নন্দন পার্কেও ছোট শিশুদের জন্য বসেছে নাগরদোলা।
জাহাঙ্গীর সেতুর নীচে নদীর পাড়ের সবুজ মাঠে যেন ¯্রােত নেমেছিলো মানুষের। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী আরও কয়েকদিন পর্যন্ত মানুষের ভিড় অব্যাহত থাকবে। ট্রাকে চড়ে লাউড স্পিকারে গান বাজিয়ে কেউ কেউ উল্লাস করছেন সড়কে। কিশোর ও যুবক মিনিট্রাক ও পিকআপে করে বাদ্য-বাজনা বাজিয়ে উল্লাস করতে করতে রাস্তা প্রদক্ষিণ করছে।
তবে অনেকে বাসায় বসে ছোট পর্দায় ঈদ বিনোদন উপভোগ করেছেন। আবার কেউবা শহরের একমাত্র প্রেক্ষাগৃহে সিনেমা দেখতে যাচ্ছেন। ঈদকে স্মরণীয় করতে খুশির এ আনন্দের জোয়ার আরো কয়েকদিন চলবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *