ইসি সচিবালয়ে স্বেচ্ছাচারিতা চলছে: মাহবুব তালুকদার

নিজস্ব প্রতিবেদক : অনিয়মের কারণে নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম প্রশ্নের সম্মুখীন বলে মনে করেন জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। তার দাবি, নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ে স্বেচ্ছাচারিতা চলে আসছে, যা এতদসংক্রান্ত সংবিধান, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় আইন ও নির্বাচন কমিশন কার্যপ্রণালী বিধিমালা সমর্থন করে না। অনেক ক্ষেত্রে সচিবালয়ের কোনও দায়বদ্ধতা নেই। কিন্তু নির্বাচন কমিশনকে প্রায় সবক্ষেত্রেই দায় বহন করতে হয়।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে এক লিখিত বক্তব্যে তিনি সাংবাদিকদের কাছে এমন মন্তব্য করেন।

মাহাবুব তালুকদার বলেন, ২৪ নভেম্বর কমিশনের এখতিয়ারের বিষয়টি নিয়ে মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশ পাওয়ায় সাংবাদিকবৃন্দ আমার বক্তব্য জানতে চান। এই প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার স্বার্থে আমার অভিমত ব্যক্ত করতে হলো। গত ১২ নভেম্বর আমি সংবাদ পাই যে, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সাম্প্রতিক কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষায় ১৩৫ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে, কিন্তু কারও বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

তিনি বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে বিশদভাবে জানোর জন্য আমি নির্বাচন কশিমন সচিবালয়ের কাছে লিখিতভাবে কিছু তথ্য ও জিজ্ঞাসার জবাব জানতে চাই। ১৪ নভেম্বর আমাকে জানানো হয় যে, হাতের লেখার অমিল বা পরিচয়পত্রের অমিলের কারণে ভাইবার সময় ওই ১৩৫ জনকে বহিষ্কার করা হয়। তাদের প্রতারণার দায়ে কী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, আমার এমন প্রশ্নের জবাবে জানানো হয় ‘মৌখিক পরীক্ষায় অকৃতকার্য দেখানো হয়েছে। কারও কারও নিকট হতে লিখিত স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়েছে।

ইসি কমিশনার বলেন, আমাকে জানানো হয়, কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষায় ৩৩৯টি শূন্যপদের বিপরীতে ৮৫ হাজার ৮৯৩ জন প্রার্থী অংশগ্রহণ নেন। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরি ও উত্তরপত্র যাচাইয়ের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষদকে ৪ কোটি ৮ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, কমিশন সচিবালয় নিয়োগ পরীক্ষা সংক্রান্ত ও অর্থ ব্যয় সম্পর্কিত কোনো বিষয়ে কমিশনকে অবহিত করেনি। বরং ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব উল্লিখিত নিয়োগ বা এতদ সংক্রান্ত ব্যয় নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার বহির্ভূত বলেও মন্তব্য করেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনারও তার বক্তব্য সমর্থন করেন। স্বাভাবিক কারণেই নির্বাচন কমিশনাররা গত ২৪ নভেম্বর প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে একটি ইউ ও নোটের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের কার্যাদির বিষয়ে কমিশনের এখতিয়ার সম্পর্কে অবহিত হতে চান।

তিনি বলেন, আমি মনে করি অভ্যন্তরীণ অনিয়মের কারণে, এই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম এখন প্রশ্নের সম্মুখীন। অনেক ক্ষেত্রে সচিবালয়ের কোনও দায়বদ্ধতা নেই, কিন্তু নির্বাচন কমিশনকে প্রায় সর্বক্ষেত্রেই দায় বহন করতে হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *