আশ্রয়ণ প্রকল্পে অনিয়ম: পাঁচ কর্মকর্তা ওএসডি

নিজস্ব প্রতিবেদক : মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া উপহারের ঘর নির্মাণে অনিয়মের বিষয়ে কঠোর অবস্থানে সরকার। ঘর নির্মাণে গাফিলতির অভিযোগে সংশ্লিষ্ট উপজেলার পাঁচ কর্মকর্তাকে (ওএসডি) করা হয়েছে। আরো অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে। দায়িত্বে অবহেলা বা অনিয়ম পেলেই তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ভাবে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

আশ্রয়ণ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগে ওএসডি করা কর্মকর্তারা হলেন- মুন্সীগঞ্জ সদরের সহকারী কমিশনার শেখ মেজবাহ-উল-সাবেরিন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুবায়েত হাসান শিপলু, চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. লিয়াকত আলী সেখ, উপসচিব মো. শফিকুল ইসলাম, বরগুনার আমতলী উপজেলার ইউএনও মো. আসাদুজ্জামান। এ ছাড়া অভিযুক্ত বাকিদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সারা দেশ থেকে আসা এ ধরনের অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে, কেউ দায়ী থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসকদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

বগুড়ার শেরপুরে কায়রাখালী বাজারের কাছে খালের পাড়ে নির্মিত ঘরগুলো এখন ভাঙনের মুখে। অতিবৃষ্টির কারণে ইতোমধ্যে ৭টি ঘর ধসে পড়েছে। এই ঘরগুলো নির্মাণের সময় শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ছিলেন লিয়াকত আলী শেখ। সর্বশেষ তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পদে কর্মরত ছিলেন। তাকে ওএসডি করে গত ৪ জুলাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে।

সিরাজগঞ্জের কাজীপুরে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ঘরের হিসাবে গড়মিল পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ হিসাব দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। ভূমিহীনদের জন্য ঘর নির্মাণে ব্যবহৃত সামগ্রীও ছিল নিম্নমানের। ওই সময় কাজীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ছিলেন শফিকুল ইসলাম। পরে তিনি বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব পদে ছিলেন। গত ৪ জুলাই তাকেও ওএসডি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে।

একই অর্থবছরে বরগুনার আমতলীতে নির্মিত ঘরের গুণগত মান ঠিক হয়নি বলে তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। সুনামগঞ্জের শাল্লায় নকশাবহির্ভূত ঘর নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। হবিগঞ্জে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) মামলা হয়েছে। বগুড়ার শাহজাহানপুরে ঘর নির্মাণ করা হয়েছে নিচু জায়গায়। এ প্রকল্প এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্মিত ঘরের পিলারসহ বিভিন্ন অংশের ছোটখাটো ত্রুটি-বিচ্যুতি জরুরি ভিত্তিতে স্থানীয় প্রশাসন মেরামত করে দিচ্ছে। যেসব ঘরে বড় ধরনের সমস্যা হয়েছে তা আশ্রয়ণ প্রকল্পের কর্মকর্তাদের জানাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন। পরে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের পরিচালক অতিরিক্ত সচিব মাহবুব হোসেন বলেন, ২২টি জেলার ৩৬ উপজেলা থেকে ৩৯টির মতো অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে তদন্তে দায়িত্বে অবহেলা বা অনিয়ম পেলেই তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, এ প্রকল্পটি বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্নের প্রকল্প। দেশ-বিদেশে ইতোমধ্যে এ প্রকল্পটি মডেল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। সুতরাং এ প্রকল্পে কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অবহেলা সহ্য করা হবে না। এ ছাড়া দুর্নীতি দমনে শূন্য সহনশীলতা অনুসরণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে।

অতিরিক্ত সচিব মাহবুব হোসেন আরো বলেন, ইতোমধ্যে যাদের ঘর ভেঙে গেছে তাদের আবারো ঘর নির্মাণ করে দিতে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস বলেন, প্রধানমন্ত্রী যেটাকে ইবাদত হিসেবে নিয়েছেন সেটাতে যখন আমরা ব্যর্থ হই তখন সেটা আমাদের ব্যর্থতা,এবং আমাদের জন্য এটা একটা লজ্জার বিষয়। এ জন্যই আমাদের এখানে শৈথিল্য দেখানোর কোনো সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, পৃথিবীর শুরু থেকেই শয়তানের উপস্থিতি ছিলো তা এখনো আছে। যে শয়তান (আ.) কে ধোঁকা দিয়ে গন্দম ফল খাইয়েছে সেই শয়তান এখনো আছে। তবে শয়তানের এমন কার্যক্রম থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। আমরা সেই চেষ্টা করে যাচ্ছি এবং তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার, আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে গৃহহীন মানুষদেরকে গৃহ উপহার দিয়ে পুনর্বাসিত করা। সে জন্য ভূমিহীনদের ২ শতাংশ জমিসহ এমন আধাপাকা ২ কক্ষের ঘর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এমন ঘর পেয়েছেন ১ লাখ ২৩ হাজার পরিবার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *