আলমডাঙ্গায় সিআইডি পুলিশ অসিমের হাতে শ্বাশুড়ি খুন, স্ত্রী ও শ্যালক রক্তাক্ত জখম

আলমডাঙ্গা অফিসঃ আলমডাঙ্গা মাদ্রাসা পাড়ায় মেয়েকে বাঁচাতে জামাইয়ের হাতে খুন হলেন শাশুড়ী।গতকাল রাত ২টার দিকে জামাই চুয়াডাঙ্গা সিআইডি পুলিশ অসিম এই খুন করেছে।

জানাগেছে, বেশ কিছুদিন ধরে স্ত্রীর সাথে পারিবারিক কলহের জের ধরে জামায় সিআইডি পুলিশের ড্যাগারের কোপে শ্বাশুড়ি খুন হয়েছে। রক্তাক্ত জখম হয়েছেন স্ত্রী ও শ্যালক। তাদেরকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে। ৮ জুন রাত ২ টার দিকে আলমডাঙ্গা শহরে ভয়াবহ ওই খুনের ঘটনা ঘটে।

নিহত শ্বাশুড়ি আলমডাঙ্গার মাদ্রাসাপাড়ার সদানন্দ অধিকারীর স্ত্রী শেফালী অধিকারী। আহতরা হলেন, খুনি সিআইডি পুলিশের স্ত্রী ফাল্গুনী অধিকারী ও শ্যালক আনন্দ অধিকারী।

পরিবার ও পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, প্রায় ৮ বছর আগে ফাল্গুনীর সাথে খুলনার দৌলৎপুরের অসীম ভট্টাচার্যের বিয়ে হয়। তাদের আরাধ্য নামের ৫ বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। বছর দুয়েক হল অসীম চুয়াডাঙ্গায় বদলী হওয়ায় বাসা ভাড়া নেয় আলমডাঙ্গায় শ্বশুর বাড়ির পাশের একটি বাড়ি। সেখানেই এই রক্তারক্তি কান্ড ঘটায় ওই সিআইডি।

পরিবারের একমাত্র অক্ষত ব্যক্তি শ্বশুর সদানন্দ অধিকারী জানান, তার মেয়ে ফাল্গুনীর সাথে অন্য কোন ছেলের পরকীয়া সম্পর্ক আছে এই সন্দেহ করতো অসীম। সে ফাল্গুনীর মোবাইল খুটিয়ে খুটিয়ে দেখতো। এই নিয়ে রাত ১ টার দিকে অসীম ফাল্গুনীকে মারধর করে। খবর পেয়ে স্হানীয় মন্দির কমিটির সদস্য উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য পরিমল কুমার কালু ঘোষ ঘটনা স্হলে উপস্হিত হয়ে তাদেরকে সান্ত থাকতে বলেন,এবং আগামি কাল সকালে বসাবসি করে এর সমাধান করা হবে মর্মে জানি চলে যান,কিন্ত খুনি জামাই অসিম সে কথা উপেক্ষা করে পুঃনরায় তার স্ত্রীকে মারধর করতে থাকে,এ সময় রাত ২টার দিকে ফাল্গুনী দৌড়ে বাবার বাড়ির গেইটে এসে ডাকাডাকি করে ঘরের ভেতর ঢোকে। তার স্বামি নামের পশু অসীমও ড্যাগার হাতে পিছু পিছু এসে হানা দেয়। মেয়েকে রক্ষা করতে তার মা শেফালী অধিকারি এগিয়ে গেলে প্রথমে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে শ্বাশুড়ি শেফালী অধিকারীকে।শেফালী ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এরপর বাঁধা দিতে আসে শ্যালক আনন্দ। তার পেটেও ড্যাগার ঢুকিয়ে দেয়। এরপর ধরে স্ত্রী ফাল্গুনীকে। তাকে রক্তাক্ত জখম করে অসীম পালিয়ে যায়।

জানা গেছে, অনেক সময় ধরে কোপাকুপি ও জীবন বাঁচাতে আর্তচিৎকার শোনা গেলেও প্রতিবেশীদের কেউ বাড়ির গেইট খুলে তাদেরকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেনি। এই সুযোগে নির্বিচারে কুপিয়ে খুন করে পালিয়ে যায় অসীম।পরে স্হানীরা এসে তাদের উদ্ধার করে আহতদের শেফা ক্লিনিকে নিয়ে যান,কর্তব্যরত চিকিৎসক শেফালী অধিকারিকে মৃত ঘোষনা করেন।অন্য ২জন বেশি অসুস্হ হয়ে পড়ায় তাদের কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে রেফার করে।আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ খবর পেয়ে প্রথমে শেফা ক্লিনিকে যান,পরে শেফালী অধিকারি মৃত জেনে থানায় নিয়ে আসেন।গতকাল তাকে থানা পুলিশ পোষ্ট মটেম করার জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছে।

চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কলিমুল্লাহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে পারিবারিক কলহের জেরে হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। ঘাতক অসীমকে আটকের চেষ্টা ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। তাকে আটক করার পর আসল ঘটনা জানা যাবে।

শেফালী অধিকারির ফাইল ছবি।উপরে থানায় লাশের ছবি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *