আমতলা খানজাহান আলী আলিম মাদ্রাসার সুপারের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক : সাতক্ষীরা সদরের আমতলা খানজাহান আলী আলিম মাদ্রাসার সুপার একাধিক নাশকতার মামলার আসামী মোতাছিম বিল্লাহর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এব্যাপারে পুলিশ সুপার, দূর্নীতি দমন কমিশন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, জেলা পরিষদ কর্তৃক বরাদ্ধকৃত ২ লক্ষ টাকার মধ্যে নামে মাত্র কাজ করে প্রকল্পের কাজ শেষ দেখানো হয়েছে। তাছাড়া এডিবি কর্তৃক বরাদ্ধকৃত ৩ লক্ষ টাকার মধ্যে লক্ষাধিক টাকার কাজ করা হয়েছে। এব্যাপারে এলাকাবাসীরা জানান, বছর খানেক পূর্বে মাদ্রাসায় চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগে ডোনেশন বাবদ ৫ লক্ষ টাকা নিয়ে সুপার পরে ঐ টাকা থেকে লক্ষাধিক টাকা মাদ্রাসা সংস্কারের কাজ করে বাকি টাকা সুপার (মোতাছিম বিল্লাহ) হজম করে ফেলেছে। এছাড়া একই মাদ্রাসার কম্পিউটার শিক্ষক হাবিবুর রহমান জাল সার্টিফিকেট নিয়ে সুপারের সাথে যোগ সাজস করে বহল তবিয়তে চাকুরী করে যাচ্ছে। মাদ্রাসার একাধিক সহকারী শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান ঐ কম্পিউটার শিক্ষক হাবিবুর আমাদের শিক্ষকদের টাকায় পরিচালিত শিক্ষক কল্যাণ ফান্ডের টাকা হিসাব না দিয়ে তালবাহানা করে আসছে। আর তাতে সহযোগিতা করে আসছে দূর্নীতিবাজ সুপার মোতাছিম বিল্লাহ। প্রবীন এক মুক্তিযোদ্ধা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ২০১৩ সালে বল্লী ইউনিয়ন জামায়াত শিবির ঐ মাদ্রাসা থেকে সুপারের নির্দেশ মতো নাশকতা কর্মকান্ডে অংশগ্রহন করতো, তার নামে আদালতে একাধিক মামলাও আছে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোতাছিম বিল্লাহর কাছে প্রকল্পের টাকা কাজ না করে আত্মসাৎ এর বিষয় জানতে চাইলে উত্তরে জানান সবই করেছে ঠিকাদার এবং আরো জানান চতুর্থ শ্রেনির কর্মচারী নিয়োগে ডোনেশন বাবদ কোনো টাকা নেওয়া হয়নি মূলত চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ওয়ার্ড মেম্বরের আত্মীয় তাই সে নিজেই ডোনেশন বাবদ ৩ লক্ষ ২০ হাজার টাকার কাজ করেছে। তাছাড়া আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা মিথ্যা। এব্যাপারে কম্পিউটার শিক্ষক হাবিবুরের নিকট জাল সার্টিফিকেটের বিষয়ে জানতে চাইলে জানান কিছুদিন পূর্বে আমার বিরুদ্ধে কে বা কারা থানায় অভিযোগ করেছিল। সেই সময় সুপারকে সাথে নিয়ে আমার ডকুমেন্ট সদর ওসির নিকট জমা দিয়েছি। এলাকাবাসীরা জানান জেলা পরিষদ ও এডিবি কর্তৃক বরাদ্ধে কাজের ঠিকাদারকে আমরা মাত্র একদিন দেখেছি। সে সুপারের কথামতো কাজ না করে নামে মাত্র সুপার ও প্রকল্প কমিটির মাধ্যমে জোকসাজস করে সামান্যতম কিছু কাজ করেছে। মূলত সুপার ঠিকাদারের কাছ থেকে দায়িত্ব নিয়ে সামান্য কিছু কাজ করে পুরা টাকা আত্মসাৎ করেছে। এলাকাবাসীরা আরো জানান বর্তমান সরকার দূর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষনা করেছে অথচ ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করেও বহাল তবিয়তে আছে ওই সুপার। এলাকার সচেতন মহল প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎসহ জালিয়াতি সার্টিফিকেট দিয়ে চাকুরী কল্যাণ ফান্ডের টাকা আত্মসাৎ এর বিষয়ে সুষ্ঠ তদন্তপূর্বক দুদকসহ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *