আফগানিস্তানে মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা জাতিসংঘের কী হতে যাচ্ছে আফগানিস্তানে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আফগানিস্তানে তালেবানের অগ্রযাত্রার মুখে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাচ্ছেন হাজারো মানুষ। একই সাথে অনাহারে থাকা মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকায় ‘মানবিক বিপর্যয়’- এর আশঙ্কা করছে জাতিসংঘ।

আফগানিস্তানে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ শহর দখল করছে তালেবান। তাদের আক্রমণ ঠেকাতে না পেরে ভেঙে পড়ছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। আফগানিস্তানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর কান্দাহার, তৃতীয় বৃহত্তম শহর হেরাত এবং লস্কর গাও তালেবান সদ্যই দখল করেছে। তালেবানের হাতে আফগানিস্তানের অধিকাংশ শহর ও গ্রামাঞ্চল পতনের পর বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এসব প্রশ্নের উত্তর পরিস্থিতি বুঝতে সাহায্য করতে পারে।

গত এক সপ্তাহে আফগানিস্তানের ৩৪টি প্রাদেশিক রাজধানীর ১৭টি দখল করেছে তালেবান। দেশটির উরুজগান প্রদেশের রাজধানী তারিন-কোত দখল করেছে তালেবান। আগামী এক থেকে তিন মাসের মধ্যে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল তালেবানের নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তালেবানের আক্রমণ জোরালো হওয়ায় মার্কিন গোয়েন্দাদের ধারণার চেয়েও অনেক আগে কাবুল সশস্ত্র এই গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এই শঙ্কায় ইতোমধ্যে পশ্চিমা দেশগুলোর দূতাবাস আফগানিস্তান থেকে তাদের কর্মীদের সরিয়ে নিতে সেনা পাঠাচ্ছে। যদিও জাতিসংঘ বলেছে, তাদের ৩২০ জন কর্মী দেশটিতে থাকবে।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার মুখপাত্র সাবিয়া মান্তু পরিসংখ্যান দিয়ে বলেছেন, আফগানিস্তানে গত মে মাস থেকে ২ লাখ ৫০ হাজারের বেশি মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। এদের ৮০ শতাংশই নারী ও শিশু।

কাবুলে একটি মসজিদের বাইরে আশ্রয় নিয়েছেন ঘরবাড়ি হারা লোকজন – ছবি ইন্টারনেট

অন্য একজন কর্মকর্তা জাতিসংঘের মানবিক ত্রাণ বিষয়ক সমন্বয় কার্যালয়ের মুখপাত্র জেনস লার্কে বলেন, তালেবানের হামলার মুখে হাজার হাজার মানুষ পল্লী এলাকাগুলো থেকে পালিয়ে রাজধানী কাবুল ও অন্যান্য শহর এলাকায় চলে যাচ্ছে আশ্রয়ের খোঁজে। তারা খোলা আকাশের নিচে, পার্কে, জনসমাগম এলাকায় ঘুমাচ্ছে। তাদের জন্য একটি আশ্রয় খুঁজে বের করাই এ মুহূর্তে সবচেয়ে বড় চিন্তার বিষয়।

জাতিসংঘে এক ব্রিফিংয়ে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থম্পসন ফিরি বলেন, আমরা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটা এবং বিপুল সংখ্যক মানুষ অচিরেই ক্ষুধাপীড়িত হওয়ার আশঙ্কা করছি…পরিস্থিতি যা দেখা যাচ্ছে তাতে সামগ্রিকভাবে মানবিক বিপর্যয়ের আলামতই পাওয়া যাচ্ছে।

এদিকে পলায়নপর আফগানদের জন্য প্রতিবেশী দেশগুলোকে সীমান্ত উন্মুক্ত রাখার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। কাবুলের উপকণ্ঠে অস্থায়ী শিবির স্থাপন করা হয়েছে। আফগানিস্তানে অভ্যন্তরীনভাবে উদ্বাস্তু হওয়া অনেকেই রাজধানী কাবুলকে নিরাপদ আশ্রয় মনে করে সেখানে উপস্থিত হচ্ছে।

পরিস্থিতি যা দেখা যাচ্ছে তাতে সামগ্রিকভাবে মানবিক বিপর্যয়ের আলামতই পাওয়া যাচ্ছে। এই অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র ও অন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দ্রুত তালেবান ও আফগান সরকারকে কোনো ধরনের চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য চাপ দিচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *