৫৪তম বিশ্ব ইজতেমা : শর্ত মেনে প্রস্তুতি চলছে

আগামী শুক্রবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হচ্ছে চার দিনব্যাপী তাবলীগ জামাতের ৫৪তম বিশ্ব ইজতেমা। সেজন্য টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে চলছে বিশ্ব ইজতেমার মাঠ প্রস্তুতির কাজ। আনুষ্ঠানিক আমবয়ানের মধ্য দিয়ে ১৫ ফেব্রুয়ারি শুরু হবে বিশ্ব ইজতেমা, ১ম পর্বের আখেরি মোনাজাত হবে শনিবার এবং ২য় পর্বের আখেরি মোনাজাত হবে সোমবার।

আগামী ১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারি ইজতেমার কার্যক্রম পরিচালনা করবেন মাওলানা জোবায়েরের অনুসারীগণ। ১৭ ও ১৮ ফেব্রুয়ারি ইজতেমার কার্যক্রম পরিচালনা করবেন সাদপন্থী ওয়াসিফুল ইসলামের অনুসারীগণ।

ইজতেমা আয়োজক কমিটির শীর্ষ মুরব্বিরা জানিয়েছেন, আগাগী বুধবারের মধ্যে মাঠের সকল প্রস্তুতি কাজ শেষ করবেন। ১০ জন সূরা সদস্যের তত্বাবধানে বিভিন্ন জামাতে বিভক্ত হয়ে মাঠ প্রস্তুতের কাজ চলছে। প্রায় ২০ হাজার তাবলিগ জামাতের সাথি স্বেচ্ছাশ্রমে মাঠ প্রস্তুতের কাজ করছেন।

রোববার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ইজতেমা ময়দানে বিশাল এলাকা জুড়ে প্যান্ডেল, খুঁটি ও মাঠের ভিতরে রাস্তার মেরামত কাজ চলছে। স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে দল বেধে খুঁটি, চট দিয়ে সামিয়ানা টানাচ্ছেন, বিদ্যুতের তার টানাচ্ছেন, ময়দান পরিষ্কার করছেন, মাইক লাগাচ্ছেন এবং বিদেশী মেহমানদের জন্য আলাদা মঞ্চসহ বয়ানমঞ্চ প্রস্তুত করছেন। এসময়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে নিরাপত্তার জন্য ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা স্থাপন করতে দেখা গেছে। তবে মাঠ প্রস্তুত কাজে শুধু মাওলানা জোবায়েরের অনুসারীগণের উপস্থিতি লক্ষ্য কার যায়।

৬০ শতাংশ মুসুল্লীর এবারের ইজতেমায় অংশগ্রহণ অনিশ্চিত:

ভিসায় শর্ত আরোপ করায় অনেক মুসল্লির এবার বিশ্ব ইজতেমায় যোগ দেয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন তাবলীগ মুরব্বিরা। বিশেষ করে ভারতীয় ৬০ শতাংশ মুসল্লি এবার এ ইজতেমায় অংশ নিতে পারবেন না।

ইজতেমার প্রস্তুতি কমিটির মুরুব্বী ইঞ্জিনিয়ার মো. মাহফুজুর রহমান জানান, ইজতেমার বিদেশি মুসল্লিদের ভিসা দেয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন শর্ত আরোপ করা হয়েছে। এতে অল্প সময়ে সকল শর্ত পূরণ করে মুসল্লিদের টঙ্গী ইজতেমায় অংশগ্রহণ প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ভারতীয় নাগরিকদের ক্ষেত্রে যারা নিজামউদ্দিন/সা’দ সাহেব বিরোধী তাবলীগ মুসল্লিদের বোম্বের (নেরুল) মার্কাজ এবং দিল্লীর (ফয়েজ-ই এলাহী) মার্কাজের শর্ত সাপেক্ষে ভিসা দেবার কথা সভায় আলোচনা হলেও সিদ্ধান্তে তা দেয়া হয়নি। ফলে ৬০ শতাংশ ভারতীয় মুসল্লিরা তাবলীগ ভিসা পাবেন না। কারণ ৬০ শতাংশ ভারতীয় তাবলীগ মুসল্লি উক্ত দুই মার্কাজের সঙ্গে যুক্ত।

এ ছাড়া কোন মুসল্লি টুরিস্ট ভিসায় ইজতেমায় অংশ গ্রহণ করতে পারবে না। ইজতেমায় যোগ দিতে বিদেশী মুসল্লিদের শর্ত সহজীকরণ না করলে মুসল্লি সংখ্যা কমে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

তিনি আরও জানান, বিভিন্ন দেশ থেকে যারা অন-অ্যারাইভাল ভিসা পাবেন তাদেরকে তাবলীগের ক্ষেত্রে যে সকল শর্ত দেয়া হয়েছে তা শিথিল করলে তাবলীগের মেহমান অনেক বেড়ে যাবে।

১০ শর্তে বিশ্ব ইজতেমা:

এবারের বিশ্ব ইজতেমায় ১০টি শর্ত মেনে ইজতেমা ময়দানের প্রস্তুতি কাজ শুরু করা হয়েছে। শর্তগুলো হলো-

১। আগামী ১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারি মাওলানা জোবায়েরের অনুসারীরা ইজতেমা শুরু করে ১৬ ফেব্রুয়ারি মাগরিবের আগে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ করে চলে যাবেন।

২। মাওলানা সা’দ অনুসারীগণ ১৭ ফেব্রুয়ারি ফজরের নামাজের পর ইজতেমা মাঠে প্রবেশ করবেন এবং ইজতেমার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করবেন। ১৮ ফেব্রুয়ারি সা’দপন্থী ওয়াসিফুল ইসলাম অনুসারীগণ ইজতেমা মাঠে প্রবেশ করে তাদের দুইদিনের ইজতেমার কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

৩। মাওলানা জোবায়ের অনুসারীরা বুধবার থেকে ইজতেমা মাঠ প্রস্তুতি কাজ শুরু করবেন।

৪। মাওলানা জোবায়ের পন্থীরা ১৬ ফেব্রুয়ারি বাদ মাগরিব আখেরি মোনাজাত শেষ করে মাঠ ছেড়ে চলে যাবেন।

৫। জোবায়ের পন্থী লোকজন প্রশাসনের উপস্থিতিতে সা’দ পন্থীদের কাছে মাঠ বুঝিয়ে দেবেন।

৬। দুই পক্ষের ইজতেমা শেষে ইজতেমা মাঠের প্রস্তুতি কাজে লাগানো সরঞ্জামাদীর বিষয়ে দুই পক্ষের মুরুব্বীরা বসে সিদ্ধান্ত নেবেন।

৭। ইজতেমা শেষে ময়দানে মুসল্লিদের ব্যক্তিগত মালছামানা ছাড়া বাকি সকল মালামাল স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্বে থাকবে।

৮। মাওলানা জোবায়ের অনুসারী বিদেশি মেহমানরা দুইদিন ইজতেমা শেষে উত্তরা হাজী ক্যাম্পে অবস্থান করবেন।

৯। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মাওলানা সা’দ বিশ্ব ইজতেমায় অংশগ্রহণ করবেন না।

১০। ইজতেমা চলাকালীন উভয় পক্ষের তাবলীগ অনুসারী মুসল্লিরা টঙ্গীর আশপাশ এলাকার মসজিদে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করবেন।

মাত্র ৮ দিন আগে ইজতেমা মাঠের কাজ শুরু:

প্রতি বছর ইজতেমা অনুষ্ঠানের তিন মাস আগে থেকে মাঠের প্রস্তুতি কাজ শুরু করা হয়ে থাকে। কিন্তু এ বছর দু’পক্ষের গণ্ডগোলের কারণে মাত্র ৮ দিন আগে ইজতেমা মাঠ প্রস্তুতির কাজ শুরু করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *