সেতু নয় যেন স্বপ্ন জয়ের পূর্ণতা

নিজস্ব প্রতিবেদক : আর কল্পনায় নয়, প্রমত্তা পদ্মার বুকে এখন দৃশ্যমান স্বপ্নের পদ্মা সেতুর মূল কাঠামো। দেশের অন্যতম এই উন্নয়ন প্রকল্প ঘিরে জল কম ঘোলা হয়নি। শেষ পর‌্যন্ত নিজেদের অর্থায়নে এগিয়ে চলছে এই সেতুর নির্মাণ। যে কারণে সেতুর সবশেষ স্প্যান বসানোকে ঘিরে মানুষের মনে বিরাজ করছে বাড়তি উম্মাদনা ও উচ্ছ্বাস। সেতু নয় যেন স্বপ্ন জয়ের পূর্ণতা।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার পর পদ্মা সেতুর ১২ ও ১৩ নম্বর পিয়ারে সবশেষ স্প্যানটি বসানো হয়। এতে পুরোপুরি দৃশ্যমান হয় সেতুর উপরিভাগ। ৬.১৫ কিলোমিটারের এই সেতু দৃশ্যমান হওয়ার মধ্য দিয়ে পদ্মার দুই পাড়ের কোটি মানুষের সঙ্গে পুরো দেশবাসীর মনে আনন্দ বয়ে যায়।

মুহূর্তে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে পদ্মা সেতুর ছবি। যে যেভাবে পেরেছেন উল্লাস প্রকাশ করেছেন।

তবে শেষ স্প্যান বসানোর পর পুরো পদ্মা সেতু দৃষ্টিসীমার মধ্যে চলে এলেও সেতুটি চালুর জন্য অপেক্ষা করতে হবে ২০২২ সালের জুন পর‌্যন্ত।

পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান আব্দুল কাদের বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে নয়টার পর ১২ ও ১৩ নম্বর পিয়ারের ওপর স্প্যান বসানোর কার্যক্রম শুরু হয়। পুরোপুরি কাজ শেষ হয় সকাল সোয়া ১১টার দিকে। আর এর মধ্যে দিয়ে দৃশ্যমান হয় সেতুর ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার। স্প্যানটি বসানোর মধ্যে দিয়ে রচিত হয় এক নতুন মাইলফলক।

জানা গেছে, শেষ স্প্যানটি পাঠানোর আগে কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে তৈরি হয় আনন্দঘন মুহূর্ত। স্প্যানটি সাজানো হয় বাংলাদেশ ও চীনের পতাকা দিয়ে। স্প্যানের গায়ে বাংলা, ইংরেজি, চাইনিজ ভাষায় লেখা বিশেষ বার্তায় বলা হয়েছে, ‘বহু বছরের প্রচেষ্টায় দেশি-বিদেশি শ্রম শক্তির মাধ্যমে স্বপ্নের পদ্মা সেতু বাস্তবায়নের পথে’

অনেকে ইতিহাসের সাক্ষী হতে কুয়াশায় মোড়ানো পথ পারি দিয়ে সকাল সকাল চলে যান মাওয়ায়। নানা শ্রেণি পেশার মানুষের সঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীদেরও এ নিয়ে ছিলো বাড়তি উম্মাদনা। সবগুলো টেলিভিশন চ্যানেলে সকাল থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা হয় পদ্মা পারের সার্বিক অবস্থা।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেতুর এমন অগ্রগতি নিয়ে অসংখ্য মানুষ নিজেদের অনুভূতির কথা তুলে ধরেছেন। কেউ আবার বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা নেড়ে জানিয়ে দিয়েছেন দেশের সক্ষমতার কথা। শেষ স্প্যান বসানোর ছবিকে এবছরের বর্ষসেরা ছবি বলে আখ্যা দিয়েছেন!

দুর্নীতির অভিযোগ তুলে অর্থায়ন থেকে বিশ্বব্যাংক সরে যাওয়ার পরও সেতু নির্মাণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ়তার প্রশংসাও করেছেন অনেকে। অনেকে নিজেদের মতো পদ্মা সেতুর নামকরণও করে ফেলেছেন!

সেতু পুরোপুরি চালু হলে দক্ষিণাঞ্চলে নির্বিঘ্নে যাওয়া যাবে তাই ওই এলাকার মানুষকেও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা গেছে।

দেলোয়ার রিপন নামের একজন পদ্মা সেতুর ছবি দিয়ে ফেসবুকে লিখেছেন, এটি শুধু একটি সেতুই নয় এটি একটি স্বপ্নের বাস্তবায়ন। জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলার রূপকার, যিনি স্বপ্ন দেখেন, স্বপ্ন দেখান, স্বপ্নের বাস্তবায়ন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সাংবাদিক মাহফুজ মিশু লিখেছেন, ব্যক্তি বা রাষ্ট্র, সবখানেই জেদ আর আত্মসম্মানটা বাঁচিয়ে রাখা সবচে জরুরি। হিসেব করে দেখলাম, আমাদের সবার জীবনেই এক বা একাধিক বিশ্ব ব্যাংক আছে, যারা অবজ্ঞা করে, দোষারোপ করে। চাইলে তাদের বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো কিন্তু সম্ভব, সময়ের ব্যাপার মাত্র।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *