সাব-রেজিস্ট্রারের দালালী করতে গিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যানের থাপ্পড় খেলেন দলিল লেখক টুকু

আলমডাঙ্গা অফিসঃ আলমডাঙ্গায় প্রতিদিন দুপুর ২ টার পর অফিসে যাওয়া সাব-রেজিস্ট্রারের দালালী করতে গিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যানের থাপ্পড় খেলেন দলিল লেখক। গত বুধবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। আলমডাঙ্গা উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মামুন বাবর দুপুরে অফিসে পৌঁছে গভীর রাত অবধি জমি রেজিস্ট্রির কাজ করেন। এতে বৃহৎ উপজেলাবাসির ভোগান্তির অন্ত নেই। এ ব্যাপারে সাব-রেজিস্ট্রারের নিকট কৈফিয়ত চাওয়ার সময় দলিল লেখক টুকু ছুটে গিয়ে সাব-রেজিস্ট্রারের পক্ষে দালালি শুরু করলে উপজেলা চেয়ারম্যান আইয়ুব হোসেন তাকে দুগালে কষে থাপ্পড় লাগান ।

জানা গেছে, আলমডাঙ্গা উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মামুন বাবর গত ৫/১২/১৭ তারিখে আলমডাঙ্গা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে যোগদান করেন। আলমডাঙ্গা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে প্রতি সপ্তায় ২ দিন করে রেজিস্ট্রির কাজ চলে। অর্থাৎ সাব-রেজিস্ট্রার সপ্তায় ২দিন অফিস করেন। যোগদানের পর থেকেই তিনি দুপুর দেড়/২টায় অফিসে পৌঁছান বলে অভিযোগ রয়েছে। আলমডাঙ্গা বৃহত উপজেলা। সপ্তায় মাত্র ২দিন রেজিস্ট্রির কাজ হয় বলে স্বাভাবিকভাবেই প্রচুর দলিলের চাপ থাকে। সাব-রেজিস্ট্রার দুপুরের পর থেকে কাজ শুরু করেন। শেষ করতে করতে গভীর রাত হয়। এতে উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে জমি রেজিস্ট্রির কাজে আসা মানুষের ভোগান্তির সীমা থাকে না। অনেকের গভীর রাতে বাড়ি ফেরা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

তাছাও আলমডাঙ্গা সাব-রেজিষ্টারের বিরুদ্ধে খারিজবিহীন জমি, জাল ডুপ্লিকেট পর্চা তৈরি করে, জমির শ্রেণী পরিবর্তনসহ নানা অনিয়মের মাধ্যমে জমি রেজিস্ট্রি লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ তুলে খোদ দলিল লেখক সমিতি তার বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে আন্দোলন করেছে। গত গত বছর ১৯ জুলাই আলমডাঙ্গা সাব- রেজিস্টার মামুন বাবরের বিরুদ্ধে নানা ধরণের দুর্নীতির অভিযোগ তুলে দলিল লেখক সমিতি কলম বিরতি পালন করে ও স্মারকলিপি প্রদান করে। অভিযোগ করা হয় – সাব-রেজিষ্ট্রার মামুন বাবর যোগদান করার পরেই লাখে ১২% হিসাবে ঘুষ নেয়ার অলিখিত প্রথা চালু করে। এ ব্যাপারে সমিতি উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের নিকট স্মারকলিপি দিয়েছিল তারা। এমনকি হুইপকেও প্রদান করছেন। সাব-রেজিস্ট্রারের প্রত্যাহার ও বিচারের দাবিতে ২৫ জুলাই দলিল লেখক সমিতি বিক্ষোভ মিছিল করে। এরই মাঝে সাব রেজিস্টার মামুন বাবরের বিরুদ্ধে ছুটির দিন গোপনে জমি রেজিস্ট্রি করার অভিযোগ উঠে। সরকারি জমি রেজিস্ট্রি, খারিজবিহী রেজিস্টি, জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে সরকারি রাজস্ব জলাঞ্জলি দিয়ে ব্যক্তিগত আর্থিক লাভের জন্য তিনি এসব অনিয়ম করছেন বলে অভিযোগ তোলা হয়। সে সময় দলিল লেখক সমিতির সভাপতি বলেন, প্রতিদিন গড়ে ১১০ টি দলিল হয়। যার ভেতর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অবৈধভাবে রেজিস্ট্রি করা হয়। প্রতিদিন সাব রেজিস্টার কয়েক লাখ টাকা অবৈধভাবে উপার্জন করেন। এ বিষয়টি সে সময় হুইপ মহোদয়কে অবহিত করা হয়। কিন্তু সাব-রেজিস্ট্রারের আচরণ ও সঠিক সময়ে অফিসে উপস্থিতি নিশ্চিত করা যায়নি।

এরই মধ্যে আলমডাঙ্গা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হলেন সৎ ও উচিতলোক হিসেবে পরিচিত আইয়ুব হোসেন। সাধারণ মানুষ সাব-রেজিস্ট্রার কর্তৃক নির্যাতনের প্রতিকার চেয়ে প্রতিনিয়ত নতুন উপজেলা চেয়ারম্যানের নিকট অভিযোগ করতে থাকেন। এরই এক পর্যায়ে কয়েক মাস পূর্বে উপজেলা কৃষি অফিসের এক অনুষ্ঠানে এমপির উপস্থিতিতে উপজেলা চেয়ারম্যান আইয়ুব হোসেন সাব-রেজিস্ট্রারকে সময়মত অফিসে পৌঁছানোর ব্যাপারে কড়া ভাষায় সতর্ক করে দেন। সে সময় সাব-রেজিস্ট্রার কিছুদিন সঠিক সময়ে অফিসে গেলেও কিছুদিন পরে আবার দুপুর পর অফিসে যাওয়া শুরু করেন। আবার জমা হতে থাকে উপজেলা চেয়ারম্যানের নিকট লাগাতার অভিযোগ। এরই প্রেক্ষিতে গত বুধবার দুপুরে উপজেলা চেয়ারম্যান সাব-রেজিস্ট্রি অফিস পরিদর্শন করতে যান। প্রত্যক্ষদর্শিরা জানান, উপজেলা চেয়ারম্যানের যাওয়ার কথা শুনে তড়িঘড়ি করে সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে ঢোকেন। সে সময় সাব-রেজিস্ট্রারকে কেন প্রতিদিন দুপুরে অফিসে আসেন জিজ্ঞেস করেন উপজেলা চেয়ারম্যান। উত্তরে সাব-রেজিস্ট্রার বলেন, তার জ্বর স্ব কারণে বিলম্ব। এ উত্তর শুনে অসন্তষ্ট উপজেলা চেয়ারম্যান বলেন, মাসের পর মাস তো জ্বর থাকে না। জ্বর আসলে ছুটি নিয়ে বাড়িতে শুয়ে থাকবে। অফিসে আসার দরকার নেই। তোমার জন্য আমি কেন মানুষের কথা শুনব? এ ধরণের কথাবার্তার মাঝে হঠাত করে ঘটনাস্থলে অভির্ভূত হন দলিল লেখক টুকু। টুকু বক্সীপুর গ্রামের মৃত আজিবরের ছেলে। তিনি উপস্থিত হয়ে সাব-রেজিস্ট্রারের পক্ষ নিয়ে কথা বলা শুরু করেন। সাব-রেজিস্ট্রারের পক্ষে দালালী করার এক পর্যায়ে উপজেলা চেয়ারম্যান টুকুর দুগালে কষে থাপ্পড় বসান।
সাব-রেজিস্ট্রারের দালালের থাপ্পড় খাওয়ায় ঘটনাস্থলের মানুষ উল্লাস প্রকাশ করে। এ সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে সকলেই উপজেলা চেয়ারম্যানকে সাধুবাদ জানান। সর্বত্র শোনা যাচ্ছে উপজেলা চেয়ারম্যানের বীরত্বের প্রশংসা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *