সরকার দেশকে ‘রাজনীতিশূন্য’ করতে চায়: ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক : সরকার দেশকে সম্পূর্ণভাবে ‘রাজনীতিশূন্য’ করে দেয়ার চক্রান্ত শুরু করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বলেছেন, ‘তাদের মূল উদ্দেশ্য দেশে একটি দল থাকবে, আর কোনো দল থাকবে না।’

শনিবার দুপুরে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির শতাধিক নেতাকর্মীর বিএনপিতে যোগদান উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে গাজীপুর পৌরসভার সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র মো. আব্দুল করিমসহ তার অনুসারীরা বিএনপিতে যোগদান করেন। বিএনপি মহাসচিব তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন।

ফখরুল বলেন, ‘যখন বর্তমান ফ্যাসিস্ট সরকারের কর্মকাণ্ডের রাজনীতি করা কঠিন হয়ে পড়েছে, যখন ২৬ লাখ মানুষকে আসামি করা হয়েছে, এক লাখের উপরে মামলা করা হয়েছে, যখন এই দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে আবদ্ধ করে রাখা হয়েছে, সেই সময় করিমের মতো একজন জনপ্রিয় নেতা বিএনপিতে যোগ দেয়া নিঃসন্দেহে উল্লেখযোগ্য ঘটনা। এই সময়ে তার বিএনপিতে যোগ দেয়াটা আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে। আমরা সঠিক পথে আছি, আমাদের রাজনীতি সঠিক পথে আছে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সংগঠনের বিকল্প নেই। সংগঠন থাকলে আন্দোলন, নির্বাচনে সফল হতে পারবো। এই কথা সবাইকে মনে রাখতে হবে।’

ফখরুল বলেন, ‘সরকার বিরাজনীতিকরণ করছে। দেশের মানুষ যেন রাজনীতি না করতে পারে, রাজনৈতিক দলগুলো যেন রাজনীতি না করতে পারে এজন্য একে একে সংবিধানে পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। সেই পরিবর্তন করে সরকার বাংলাদেশকে সম্পূর্ণভাবে রাজনীতিশূন্য করে দেয়ার একটা চক্রান্ত শুরু করেছে। তাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে এই দেশে এক দল থাকবে, আর কোনো দল থাকবে না। আগে তারা বাকশাল করেছিল এখন তারা আবার একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায়।’

গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি হাসান উদ্দিন সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে গাজীপুরের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে মিরপুরে অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যাওয়া ঝিলপাড় বস্তি পরিদর্শন করেন মির্জা ফখরুল। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘সর্বনিম্ন আয়ের মানুষ সর্বশান্ত হয়ে গেছে! আমি এই ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি এবং তাদের ক্ষতিপূরণের দাবি জানাচ্ছি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *