সরকারকে নয়, ভয় পায় মানুষ পুলিশকে : ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে ক্ষমতা দখল করেছে রেখেছে। সরকারকে এখন মানুষ ভয় পায় না। মানুষ ভয় পায় পুলিশকে। পুলিশ তো এখন বলে- “দেশের মালিক আমরা। আমরাই সরকার টিকিয়ে রেখেছি। তাহলে সরকার কিভাবে পুলিশকে দেশে চলমান ধর্ষণ-গণধর্ষণ, নারী নির্যাতন, অন্যায়-অবিচার, মাদক কারবারি নিয়ন্ত্রণ করতে বলবে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে নারী ও শিশু অধিকার ফোরাম আয়োজিত এক মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ফখরুল বলেন, আমাদের এ আন্দোলন কর্মসূচি প্রেসক্লাবের সামনে শুধু সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। সারাদেশে আমাদের এই আন্দোলন ছড়িয়ে দিতে হবে। বাংলাদেশের মানুষ শুধু নারী ও শিশুদের রক্ষার জন্য নয়, নিজেদের অধিকার ও দেশকে রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। এ দেশের মানুষ কখনও অন্যায়ের কাছে মাথা নত করে না। বাংলাদেশের মানুষ কখনও অত্যাচারী স্বৈরাচারী সরকারের কাছে মাথা নত করেনি। ইতিহাস কথা বলে। দেশের মানুষ বারবার স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে, সংগ্রাম করেছে।

তিনি বলেন, আজকে জাতি মহাসঙ্কটের মধ্যে রয়েছে। এই সংকট তাদের অস্তিত্বের সংকট। এই সংকট এদেশের মানুষের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন ধ্বংস করে দেয়ার সংকট। আমরা অনেক আগেই লড়াই শুরু করেছিলাম আমাদের অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য। আমাদের মা-বোনেরা সেই লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। আমরা দেখেছি ব্রিটিশ আমলে নারীরা কিভাবে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সাহসী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। আমাদের দেশেও এর অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে। অতীতেও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আমাদের দেশের নারীরা, বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা লড়াই করেছেন। স্বাধীনতাযুদ্ধে অনেক নারী আছেন যারা লড়াই-সংগ্রাম করেছেন, তাদের সম্ভ্রমহানি হয়েছে কিন্তু তারা কখনও মাথা নত করেননি। এই যে শুরু থেকেই লড়াই করছেন আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। একজন নারী হয়েও তিনি লড়াই করছেন এদেশের মানুষের গণতন্ত্রের অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য, স্বাধীনতা রক্ষা করার জন্য, সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার জন্য। আমি বিশ্বাস করি, এ লড়াইয়ে আমরা জয়ী হবো। আমাদের এই লড়াইয়ে পরাজিত হবে কর্তৃত্ববাদী স্বৈরাচার সরকার।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা দেখলাম, জাতিসংঘের মহাসচিব বাংলাদেশের যে নারী নির্যাতনের হার বেড়ে গেছে, বাংলাদেশের ধর্ষণের সংখ্যা বেড়ে গেছে, সেটা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে তিনি একটা স্টেটমেন্ট দিয়েছেন। তার এই স্টেটমেন্টে বাংলাদেশের মানুষের সম্মান মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। এই স্টেটমেন্টে দেশের মানুষের শান্তি ও সম্মান নষ্ট হয়ে গেল।

তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এই ধর্ষণের দায় তারা এড়াতে পারেন না। আমি বলি কি, তারা যে সরকার তৈরি করেছেন, এই সরকারের সঙ্গে জনগণের কোনো সম্পর্ক নেই। বাংলাদেশের মানুষ লড়াই করে যে অধিকার অর্জন করেছে আপনারাও গায়ের জোরে, বন্দুক ধরে, আগের রাতে ভোট চুরি করে, সে অধিকার হরণ করেছেন। ন্যূনতম যে গণতান্ত্রিক অধিকার সে অধিকার বাংলাদেশের মানুষের নেই। এই সরকারের বিরুদ্ধে একটা কথা বললেও জেল হয়। সরকার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করেছে। সরকারের বিরুদ্ধে যে কিছু একটা বলতে চায়, তাকেই ধরে নিয়ে কারাগারে ঢুকিয়ে দেয়া হয়।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ও বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিপুন রায় চৌধুরীর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, যুগ্ম মহাসচিব ও যুবদলের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না ও ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *