শার্শার সামটা মাদরাসায় শোক দিবসে আলোচনা ও দোয়া-মোনাজাত অনুষ্ঠিত

মুহাঃ আসাদুজ্জামান ফারুকী : শার্শার সামটা ছিদ্দিক্বীয়া ফাজিল (বি.এ) মাদরাসায় ১৫ আগষ্ট শোক দিবসের অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ আলোচনা ও দোয়া-মোনাজাত অনু্ষ্ঠিত হয়।

মাদরাসার অধ্যক্ষ আলহাজ্ব মোঃ মোমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- মাদরাসার গভর্নিং বডির সভাপতি সাপ্তাহিক গ্রামের সংবাদ এর প্রধান সম্পাদক শিক্ষাবিদ মোহাঃ আসাদুজ্জামান আসাদ। অনুষ্ঠানে সাংবাদিক প্রভাষক মুহাঃ আসাদুজ্জামান ফারুকীর উপস্থাপনায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মাদরাসার উপাধ্যক্ষ মোঃ মাহবুবুর রহমান, সহকারি অধ্যাপক কবি হেলাল আনওয়ান, প্রভাষক ইকবাল হোসাইন, সহকারি মাওলানা আলহাজ্ব রহমাতুল্লাহ প্রমুখ।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাদরাসার গভর্নিং বডির সদস্য শাহিদুল ইসলাম, বাবর আলী, সহকারি অধ্যাপক মাওলানা আব্দুর রশিদ, ইতিহাস প্রভাষক মাওলানা হাবিবুর রহমান, প্রভাষিকা ফাতেমা নুসরাত আইরিন ও জান্নাতারা। লাইব্রেরিয়ান হাজি সেলিম, সহকারি শিক্ষক মাওঃ সাইফুল্লাহ, নুর হাসান, খাদিজা খাতুন, শরিফুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম, কম্পিউটার শিক্ষক মোজাম্মেল হক, অফিস সহকারি আবুল হাসান প্রমূখ।

প্রধান অতিথি মোহাঃ আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন- জাতীয় ইতিহাসে এটি একটি কলঙ্কময় অধ্যায় ও পৃথিবীর বুকে সৃষ্ট একটি অমানবিক বিরল ঘটনা। এ দিন বাঙালি জাতি শুধু জাতির জনককেই নয়, হারিয়েছে একজন মহান জনদরদি, সংবেদনশীল, বলিষ্ঠ ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতাকে। তিনি আরও বলেন, জাতীয় শোক দিবসে জাতির পিতাকে হারানোর শোককে আমাদের আত্মবিশ্বাস ও শক্তিতে রূপান্তরিত করতে হবে। বঙ্গবন্ধু যেমন নিঃস্বার্থভাবে দেশ ও দেশের মানুষকে ভালোবাসতেন ঠিক তাঁর মতো বাংলাদেশ ও দেশের মানুষকে ভালোবাসার জন্য আমাদের নতুন প্রত্যয় নিতে হবে। জাতির পিতার স্বপ্ন ছিল ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার। তাঁর স্বপ্নে অনুপ্রাণিত হয়ে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ ও বাঙালির মর্যাদা উঁচু রাখার জন্য আমাদের দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে একটি অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।

সকাল ৯টায় জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করার মধ্য দিয়ে জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচির সূচনা হয়। পরে বক্তাদের বক্তব্যে বঙ্গবন্ধুর জীবন তথা জন্ম, শিক্ষাজীবন, বিয়ে, রাজনীতি, ছয় দফা, ১৯৭০ সালের নির্বাচন, ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন, স্বাধীনতার পর দেশ নিয়ে বঙ্গবন্ধুর চিন্তা ভাবনা সব ফুটে উঠেছে। তাঁর লালিত স্বপ্ন ও অনুপ্রেরণায় ১৯৭১ সালে গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী কণ্ঠকে স্তব্ধ করে দিলেও ঘাতকচক্র তাঁর চেতনা, নীতি-আদর্শ ও তার সোনার বাংলার শাশ্বত স্বপ্নকে হত্যা করতে পারেনি। আলোচনা শেষে দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করেন ক্বারী শামছুদ্দীন সাহেব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *