শার্শার বাগআঁচড়া ইউনিয়নে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ১০ কেজি দরে চালের কার্ড বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদক : যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়ায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ১০টাকা কেজি দরের চাল বিতরনে স্থানীয় ইউপি মেম্বার ও ডিলারের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এই তালিকায় মেম্বারের চাচাতো ভাই ও ডিলারের আপন ভাই শফিকুল বিশ্বাস(৬১৯) ও তার স্ত্রী সালমা খাতুন(৫০৪), সাইফুল বিশ্বাস(৬২০), রফিকুল বিশ্বাস(৬২১), ফজলু বিশ্বাসের (৬২২) পরিবারে ৫টি, এমন ভাবে তাদের চাচা ছাত্তার বিশ্বাসের পরিবারে ৪টি ও চাচাতো ভাই সেলিম রেজার পরিবারে ৩টি কার্ড আছে। একাধিক কার্ড আছে এমন পরিবারের সংখ্যা ১৪টি, কর্তা প্রবাসে আছেন এমন পরিবারের সংখ্যা ০৯টি, স্বচ্ছল পরিবারের সংখ্যা ২৬টি ও খুজে পাওয়া যায়নি এমন পরিবারের সংখ্যা ০৯টি।
যশোরের শার্শা উপজেলার ৮নং বাগআচড়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড বাগআচড়া সাতমাইল ও পিপড়াগাছি গ্রামের মেম্বর আসাদুল ইসলাম ও ডিলার মেম্বারের চাচতো ভাই নজরুল ইসলাম বিশ্বাসের বিরুদ্ধে স্থানীয় জনগন এই অভিযোগ করেছেন।
উপজেলার বাগআঁচড়া জিবলিতলা আইসি ক্যাম্প মোড়ে আসাদুল ইসলাম মেম্বরের দোকান থেকে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ৬৮০জন দুঃস্থ অসহায় সুবিধাভোগী ও হতদরিদ্রদের মাঝে ১০টাকা কেজি দরে ৩০কেজি করে চাল বিক্রয় করা হয়।
সে নিজে মেম্বর হওয়ায় বিভিন্ন লোকের আইডি কার্ড সংগ্রহ করে তালিকায় তাদের নাম ব্যবহার করে নিজেই সেই চাল আত্মসাত করার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
তালিকার ৫৭২ নম্বর ক্রমিকে মফিজ উদ্দীন, ৫৭৩ নম্বরে আবু সাঈদ, ৫৭৮ নম্বরে ইউসুফ আলী, ৭২৬ নম্বর ক্রমিকের কার্ডধারী মোছাঃ হাছিনা, রবিউল হোসেন (৫২৫), ইস্রাফিল হোসেন (৬৭৯), ওয়াজেদ আলি (৫১৭),খালিদ হাসান অপু (৫৭০), আব্দুর রহমান, মালেকা (৫৯৩), শওকত আলি(৬৫০), মফিজ উদ্দিন মোল্লা (৫৩১), বরকতুল্যা সরদার(৫৩১), সিরাজুল ইসলাম (৫১৭), ফজের আলি (৬১৭) অভিযোগ করে বলেন, ১০টাকা কেজি দরের চালের কার্ডে তাদের নাম আছে, ‘সেটা তারা জানতেন না।’ চার বছর ধরে ওই তালিকার চাল কাউকে না জানিয়ে মেম্বর নিজে আত্নসাত করেছেন।
বাগআঁচড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইলিয়াছ কবির বকুল বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বররা স্ব স্ব ওয়ার্ডে  যাচাই-বাছাই করে এই তালিকা চূড়ান্ত করেন। তালিকা মোতাবেক তাদের নামে কার্ড বণ্টন করা হয়। ডিলাররা ওই কার্ড অনুযায়ী চাল বিতরন করেন। এখানে ডিলার মেম্বরের আত্নীয় হওয়ায় এই অনিয়মের সুযোগ পেয়েছেন। পুনরায় এর ভিতরে কোন অনিয়ম থাকলে সেটি সংশোধন করে দিতে বলা হলে সে ১৬টি নাম পরিবর্তন করে দিয়েছে। পরে বিষয়টি তদন্ত করে আমার কাছে ৫৮টি ক্ষেত্রে অনিয়ম ধরা পড়েছে।
ওএমএস কার্ডে বিত্তবানদের নাম তোলার ব্যাপারে জানতে চাইলে ডিলার নজরুল ইসলাম বলেন, “এ বিষয়ে আমি সৎ পথে রয়েছি। আমার জানা মতে আমি কোনো ভুল করিনি। নামের তালিকা করে মেম্বার। সেখানে আমার কোন হাত নেই।”
বাগআচড়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড মেম্বর ও ডিলার আসাদুল ইসলাম বলেন,আমার ভুল হয়েছে। আমাকে ক্ষমা করে দেন।
শার্শা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ইন্দ্রজিৎ রায় বলেন,প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় হতদরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষ,যারা কোনো সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনির অর্ন্তভুক্ত নন, তাদের জন্য বিশেষ ওএমএস সুবিধা চালু করা হয়েছে।
বাগআঁচড়া খাদ্য গুদামের কর্মকর্তা হাসানুজ্জামান বলেন, ৬৮০জন উপকার ভোগীর জন্য আসাদুল মেম্বর গত ১৭মে রবিবার বাগআঁচড়া খাদ্য গুদাম থেকে ২০ হাজার ৪০০কেজি চাল উত্তোলন করেছেন।
খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় দুঃস্থ অসহায় সুবিধাভোগী ও হতদরিদ্রদের মাঝে এই চাল উত্তোলনের এক সপ্তাহের মধ্যে বিতরন করার নিয়ম থাকলেও  ২৭মে বুধবার তার দোকান থেকে চাল সরানোর সময় স্থানীয় জনগন তাকে আটকে দেয়।
এ ব্যাপারে শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পুলক কুমার মন্ডল বলেন, আমি এমন একটি অভিযোগের কথা শুনেছি। এটি সংশোধন করার জন্য রোববার পর্যন্ত সময় দিয়েছি। অভিযোগ পাওয়া গেলে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে তদন্ত করা হবে।তদন্তে দোষী প্রমানিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *