যেভাবে গ্রেফতার করা হলো ডা. সাবরিনাকে

নিজস্ব প্রতিবেদক : ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরী জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক। শুধু তাই নয়, সরকারি চাকরিজীবী হয়েও তিনি জেকেজির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছিলেন। তবে সাবরিনা নিজেকে জেকেজির ‘চেয়ারম্যান নয়’ বরং প্রতিষ্ঠানটির ‘কোভিড-১৯ বিষয়ক পরামর্শক’ বলে পুলিশের কাছে দাবি করেন। কিন্তু ওই দাবির কোনো ধরনের প্রমাণ না মেলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আগামীকাল আদালতের মাধ্যমে তাকে রিমান্ডে আবেদন করা হবে। রিমান্ডে এনে আরো জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র এমনটা জানা গেছে।

সূত্রমতে, রবিবার (১২ জুলাই) দুপুরে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক ডা. সাবরিনা আরিফকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তেজগাঁও বিভাগীয় উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) কার্যালয়ে ডাকা হয়। এ সময় কয়েক ঘন্টা তাকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। কিন্তু তার বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগগুলো অস্বীকার করেন তিনি। জিজ্ঞাসাবাদে বারবারই অস্বীকার করছিলেন যে তিনি জেকেজির চেয়ারম্যান নন। এক পর্যায়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গত ২৩ জুন তেজগাঁও থানায় দায়েরকৃত মামলায় (মামলা নং ২৩, ধারাঃ ১৭০, ২৬৯, ৪২০, ৪০৬, ৪৬৬, ৪৭১, ৩৪ দন্ডবিধি) ছয় জন আসামিকে গ্রেফতার হয়। তারা অর্থের বিনিময়ে করোনা টেস্ট এর নামে ভুয়া করোনা রিপোর্ট সরবরাহের কাজে জড়িত ছিল। তারা প্রত্যেকেই জেকেজি গ্রুপের সাথে জড়িত যাদের মধ্যে জেকেজি গ্রুপের সিইও আরিফুল চৌধুরীও ছিল।

আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বেশকিছু তথ্য পাওয়া যায়। বিস্তারিত তদন্তে ও গ্রেফতারকৃত আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে জেকেজি গ্রুপের চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরীর ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়। জেকেজি গ্রুপের চেয়ারম্যান থাকাকালীন তার জ্ঞাতসারেই করোনা উপসর্গ থাকা রোগীদের নিকট থেকে নমুনা সংগ্রহ করে কোনো ধরণের ল্যাব পরীক্ষা ছাড়াই ভুয়া রিপোর্ট প্রস্তুতপূর্বক তা রোগীদের কাছে সরবরাহ করা হত।

এছাড়া প্রথম আসামি হুমায়ুন কবীরকে গ্রেফতারের পরপরই তড়িঘড়ি করে ব্যাকডেটে ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরীসহ আরো দুই জন আসামিকে জেকেজি গ্রুপ থেকে অপসারণ করা হয়- যা তদন্তে বেরিয়ে এসেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *