যশোর ইটভাটার শ্রমিক রাজিয়া হত্যা মামলায় স্বামীর দায় স্বীকার

যশোর অফিস : যশোর খাজুরার জহুরপুর ইট ভাটার শ্রমিক রাজিয়া খাতুনকে হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে তার স্বামী শহিদ বিশ্বাস। রাজিয়ার প্রথম স্বামীর সাথে মোবাইলে কথা বলার জের ধরে পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে জানিয়েছে শহিদ। বৃহস্পতিবার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মঞ্জুরুল ইসলাম আসামির এ জবানবন্দি গহণ শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। শহিদ বিশ্বাস যশোর সদরের পাগলাদহ গ্রামের মোজাহার বিশ্বাসের ছেলে ও জহুরপুর মেসার্স লস্কর ব্রিকসের শ্রমিক।
শহিদ বিশ্বাস জানিয়েছে, তিনি ওয়েলডিং সপে কাজ করত। তার স্ত্রী-সন্তান আছে। বেশ কয়েক মাস আগে ঝিকরগাছার গৃহবধূ ইটভাটা শ্রমিক রাজিয়ার সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তিন মাস আগে সে রাজিয়াকে বিয়ে করে জহুরপুর মেসার্স লস্কার ভাটায় তারা দুই জন কাজ নিয়ে সেখানে থাকত। কিছুদিন যেতে না যেতে রাজিয়া তার সাবেক স্বামীর সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলা শুরু করে। বিষয়টি সে জানতে পেরে সাবেক স্বামীর সাথে কথা বলতে নিষেধ করে রাজিয়াকে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। গত ১৫ জুন রাত ১০টার দিকে রাজিয়া মোবাইল ফোনে তার সাবেক স্বাসীর সাথে কথা বলার সময় শহিদ বুঝে ফেলে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে শহিদ তাকে মারপিট করে। এরপর রাজিয়া বটি দিয়ে শহিদকে কয়েকটি কোপ দেয়। গভীর রাতে রাজিয়া আবারও তার সাবেক স্বামীর সাথে মোবাইলে কথা বলছিল। এ সময় শহিদ বুঝতে পেরে বাঁশের লাঠি দিয়ে রাজিয়াকে বেদম মরপিট করে। রাজিয়া ঘরের বাইরে যেয়ে একটি গাছে গোড়ায় বসে ছিল। পরে সে যেয়ে দেখে রাজিয়া মারা গেছে।
এ দিকে রাজিয়াকে হত্যার অভিযোগে তার পিতা মণিরামপুরের রসুলপুর গ্রামের বাসিন্দা জালাল মোড়ল বাদী হয়ে বাঘারপাড়া থানায় অপরিচিত ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। থানা পুলিশ হত্যার সাথে জড়িত সন্দেহে নিহতের স্বামী শহিদকে আটক করে বৃহস্পতিবার আদালতে সোপর্দ করে। আদালতে স্ত্রী রিজিয়াকে হত্যার কথা স্বীকার করে ওই জবানবন্দি দিয়েছে শহিদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *