যশোরে সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১৪০ ডেঙ্গু রোগী

নিজস্ব প্রতিবেদক : গত ২৯ জুলাই ডেঙ্গু আক্রান্ত ছেলে সাব্বিরকে একরাশ দুচিন্তা নিয়ে যশোর জেনারেল হাসপাতালে আসেন বাবা আনিছুর রহমানসহ তার মা। তবে ৯ দিনের ব্যবধানে তাদের দুচিন্তা কেটেছে। গতকাল সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরেছে সাব্বির। হাতে ছাড়পত্র পেয়ে ঈদের চাঁদ দেখার মতো খুশি চোখে-মুখে ফুটে ওঠে যশোর সদর উপজেলার ইছালি গ্রামের আনিছুর রহমানের। তিনি হাসপাতালে চত্বরে দাঁড়িয়েই সেই সুখবর স্বজনদের মোবাইল ফোনে জানিয়ে দেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় সাব্বিরের মতো ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত যশোর জেনারেল হাসপাতাল, জেলার বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং বেসরকারি ক্লিনিক থেকে মোট ১৭ জন রোগী ছাড়পত্র নিয়ে ঈদের আনন্দ নিয়ে বাড়িতে ফিরেছে। আর গত ২১ জুলাই থেকে গতকাল পর্যন্ত জেলা সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান থেকে ১৪০ জন সুস্থ্য হয়ে বাড়িতে ফিরে গেছে। যশোর জেলা সিভিল সার্জন ও জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৩২ জন রোগীর শরীরের ডেঙ্গু জীবানু পাওয়া গেছে। এর মধ্যে জেনারেল হাসপাতালে ২৪ জন ও অন্যান্য সেবা কেন্দ্রে ৮ জন ভর্তি হয়েছে। সবমিলে এখন চিকিৎসাধীন রয়েছে ১০৮ জন। যাদের মধ্যে জেনারেল হাসপাতালে রয়েছে ৭৫ জন।
গত ২১ জুলাই থেকে গতকাল সকাল ১০টা পর্যন্ত যশোরে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ২৪৮ জন নারী, পুরষ ও শিশু। এর মধ্যে জুলাই মাসের মাঝামাঝিতে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে এক নারীর মৃত্যু হয়।
সিভিল সার্জন ডা. দীলিপ কুমার রায় জানিয়েছেন, ডেঙ্গু রোগীদের সুচিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী জেলায় উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঈদে যশোরের বাহিরে অবস্থানরতরা জেলায় আসলে ডেঙ্গু আশঙ্কা থাকতে পারে ভেবে পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ডেঙ্গু মোকাবেলার জন্য জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীর ছুটি সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বাতিল করা হয়েছে।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটু জানিয়েছেন, গত ২১ জুলাই থেকে ডেঙ্গুর প্রভাব জেনারেল হাসপাতালে পড়তে থাকে। এতে করে সাধারণ রোগীদের সাথে অতিরিক্ত ডেঙ্গু রোগীদের ব্যবস্থাপত্র দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক, কর্মচারীদের। তার পরও হাসপাতালের চিকিৎসক সেবিকা তাদের সর্বাত্মক সেবা দিয়ে সুস্থ্য করে তুলছেন। তিনি আশা করছেন আগামী সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা কমে আসবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *