যশোরে সংঘর্ষে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে তিন বন্দি বালককে হত্যা

যশোর প্রতিনিধি :  যশোরে দুই পক্ষের তুমুল  সংঘর্ষে যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে তিন বালক  নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে অন্তত ১৪ জন। বৃহস্পতিবার দুপুর দুই টার দিকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের অভ্যন্তরে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রায় ৪ ঘণ্টা গোপন রেখে সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার পর দেড় ঘণ্টার ব্যবধানে রাতে  নিহত বালকদের মরদেহ ৩টি যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়।

নিহত বালকরা  হচ্ছে, বগুড়া জেলার  শিবগঞ্জ উপজেলার তালিবপুর পূর্ব পাড়ার নান্নু প্রামাণিকের ছেলে নাঈম হোসেন (১৭), খুলনার দৌলতপুরের রোজা মিয়ার ছেলে পারভেজ হাসান রাব্বি (১৮) ও শেরপুর জেলার বগুড়া এলাকার বাসিন্দা রাসেল হোসেন ওরফে সুজন (১৮) নিহতদের মধ্যে নাঈম হোসেন ধর্ষণ এবং পারভেজ হত্যা মামলায় শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে ছিল।
যশোর পুলিশের ডিএসবির পরিদর্শক ডিআই ওয়ান এম মশিউর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে তিনজন নিহত হয়েছে। শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের কর্মকর্তারা সন্ধ্যায় মরদেহ হাসপাতাল মর্গে নিয়ে এসেছেন। কী কারণে এবং কখন এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তৌহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাস্হলে  পুলিশ রয়েছে। বিস্তারিত পরে জানাতে পারবো।
সংঘর্ষে তিনজন নিহত হওয়ার পর যশোরের জেলা প্রশাসক মো. তমিজুল ইসলাম খান, পুলিশ সুপার মোঃ আশরাফ হোসেন শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন।
এদিকে, দুপুরে ঘটনা ঘটলেও শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ দীর্ঘসময় পর সন্ধ্যা সাতটায় রাব্বি, সুজন ও নাঈমকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক অমিয় দাস বলেন, দেড় ঘণ্টার ব্যবধানে তিনটি মরদেহ আসে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্র থেকে। সন্ধ্যা ৬টা ৩৮ মিনিটে নাইম হাসান, সাড়ে ৭টায় পারভেজ হাসান এবং রাত ৮টায় আসে রাসেলের মরদেহ। এ চিকিৎসক বলেন, এক জনের মাথায় ভারী কোনো বস্তু দিয়ে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। অন্যদের শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন এখনও শনাক্ত হয়নি। এদিকে, তিন কিশোরের মরদেহ হাসপাতাল মর্গে রয়েছে বলে খবর পেয়ে সেখানে সংবাদকর্মীরা ভিড় জমান। কিন্তু হাসপাতালে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের কাউকে পাওয়া যায়নি। শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক আব্দুল্লাহ আল মাসুদের নাম্বারে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে বক্তব্য নেওয়ার জন্য সশরীরে উন্নয়ন কেন্দ্রে যাওয়া হলেও কর্তব্যরত আনসার সদস্যরা জানান, ভেতরে পুলিশ ছাড়া অন্য কারো প্রবেশ নিষেধ।
প্রসঙ্গত, বালকদের জন্য দেশে দুটি শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র আছে। যার একটি গাজীপুরের টঙ্গিতে, অন্যটি যশোর শহরতলীর পুলেরহাটে। কিশোর অপরাধীদের জেলখানায় না পাঠিয়ে সংশোধনের জন্য এই উন্নয়ন কেন্দ্রে রাখা হয়। সমাজসেবা অধিদপ্তর এই কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রক। যশোর কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে প্রায়ই অঘটন ঘটে। লাশ উদ্ধার, মারপিটের ঘটনা এর আগেও ঘটেছে। সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বে অবহেলা, দুর্নীতির কারণে প্রতিষ্ঠানটিতে অনিয়ম জেঁকে বসেছে। এর আগে একটি ঘটনার প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটি এই তথ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি সুষ্ঠুভাবে চালানোর জন্য একগুচ্ছ সুপারিশ করেছিল। কিন্তু অবস্থার যে উন্নতি হয়নি; বরং অবনতি হয়েছে, তিন লাশ উদ্ধারের মাধ্যমে তা প্রমাণিত হলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *