মাদ্রাসা ছাত্র আবির হত্যা মামলায় মাদ্রাসার সুপারকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে

 আলমডাঙ্গা অফিসঃ  আলমডাঙ্গার মাদ্রাসাছাত্র আবির হুসাইনকে বলাৎকার ও মাথা কেটে বিচ্ছিন্ন করে হত্যা মামলায় মাদ্রাসা সুপার মুফতি আবু হানিফকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

আবু হানিফ জামায়াতের একজন সক্রিয় কর্মী বলে  পুলিশ জানিয়েছে।

গতকাল  শুক্রবার বিকেলে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ঘটনার দিন মঙ্গলবার থেকে ওই শিক্ষক পুলিশ হেফাজতে ছিলেন। গত চার দিন টানা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান পিপিএম (বার)।

তিনি শুক্রবার বিকেলে গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, বলাৎকারের ঘটনা যাতে ফাঁস না হয় এ জন্য তাকে পরিকল্পিতভাবে গলাটিপে হত্যা করা হয়। হত্যার ঘটনাটি ভিন্ন খাতে দেওয়ার জন্যই সুকৌশলে শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। যাতে করে খুব সহজে ছেলেধরা গুজব বলে চালিয়ে দেওয়া হয়।

তিনি আরো জানান, গত চার দিনে আমরা চাঞ্চল্যকর এ মামলাটি নিয়ে খুব সতর্কতার সঙ্গে তদন্ত করেছি। কারণ মামলাটি ছিল খুব স্পর্শকাতর।

অন্য চার শিক্ষককে হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রেখেছে পুলিশ।

আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ আসাদুজ্জামান মুন্সি জানান, মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণির ওই ছাত্রকে বেশ কিছুদিন বলাৎকার করে আসছিল মাদ্রাসার সুপার আবু হানিফ।

বিষয়টি ওই ছাত্র অন্যদের জানিয়ে দেওয়ার কথা বললে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে মাদ্রাসা সুপার। পরিকল্পনার অংশ হিসাবে মাদ্রাসার অদূরে একটি আম বাগানে নিয়ে ঠান্ডা মাথায় গলাটিপে খুন করা হয় আবির হুসাইনকে। এরপর হত্যার ঘটনাটি ধামাচাপা শরীর থেকে মাথাটি বিচ্ছিন্ন করে পাশের একটি পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়।  এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেখ মাহবুবুর রহমান জানান, মাদ্রাসা সুপার আবু হানিফ জামায়াতের একজন সক্রিয় কর্মী। ২০১৩ সালে দামুড়হুদায় পুলিশের ওপর ভয়াবহ হামলা মামলার এজাহারনামীয় আসামি ছিল হানিফ। সাম্প্রতিক সময়ে ছেলেধরা গুজবে ভাসছে দেশ। মাদ্রাসার ওই ছাত্রকে হত্যার ঘটনার জন্য আবু হানিফ ঠিক এ সময়টিকে বেছে নেন। ঠান্ডা মাথায় খুন করে গুম করা হয় মাথা। যাতে সারা দেশে গুজব ছড়িয়ে নিজেকে আড়াল রাখা যায়।

আবির হুসাইন মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর নিখোঁজ হয়।

পরদিন সকালে মাদ্রাসার অদূরে একটি আম বাগানের ভেতর থেকে তার মাথাবিহীন লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটনে ঘটনার দিনই মাদ্রাসার সুপার মুফতি আবু হানিফসহ পাঁচ শিক্ষককে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে।

গতকাল শুক্রবার আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ আসাদুজ্জামান সহ পুলিশের উর্ধতন কতৃপক্ষ এই মামলার আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে। উল্লেখ্য আবিরের মাথা উদ্ধারের পর থেকে আলমডাঙ্গা বাসি পুলিশ,র্্যাব সহ সকল সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *