মণিরামপুরে যৌথ মালিকানার নৌকা-জাল কেটে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর অপকৌশল

স্টাফ রির্পোটার:- যৌথ মালিকানার নৌকা-জাল কেটে ভাগ করে নিয়ে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর অপকৌশলের অভিযোগ পাওয়া গেছে সাধন কুমার বিশ্বাস নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে যশোরের মনিরামপুর উপজেলার ঝাঁপা বাওড় সংলগ্ন রামপুর রাজবাড়ি গ্রামে। সাধন ওই গ্রামের মৃত কার্তিক বিশ্বাসের ছেলে।
সরেজমিন জানাযায়, গত ৩ বছর ধরে সোনার বাংলা মৎস্য সমবায় সমিতি ঝাঁপা বাওড় পরিচালনা করে আসছে। সাধন ওই সমিতির সদস্য থাকলেও রাতে কারেন্ট জাল দিয়ে বাওড় থেকে মাছ চুরিসহ নানা অভিযোগে সমুদয় পাওনা মিটিয়ে অনেক আগেই তাকে সদস্য থেকে অব্যহতি দেয়া হয়। এ কারনে ক্ষিপ্ত হয় সাধন। এদিকে যৌথ মালিকানায় সাধনসহ ওই গ্রামের তারাপদ বিশ্বাসের ছেলে বিষ্ণু কুমার বিশ্বাস, রঞ্জন বিশ্বাসের ছেলে সবুজ বিশ্বাস ও একই গ্রামের হরিপদ বিশ্বাসের ছেলে কৃষ্ণ কমুার বিশ্বাস মিলে নৌকা ও জাল তৈরী করে। যা দিয়ে বাওড় থেকে রানী ( বাওড়ে ছাড়া মাছ বাদে) মাছ ধরতো। কয়েকদিন আগে সাধন গভীর রাতে কারেন্ট জাল দিয়ে বাওড়ে মাছ ধরতে গেলে বাওড়ের পাহারাদাররা জাল ধরে তাকে উঠিয়ে দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিশোধ নিতে ফন্দী আটতে থাকে সাধন।
এদিকে চার অংশিদারের নৌকা ও জাল কেটে ভাগ করতে মরিয়া হয়ে উঠে সাধন। বাকী অংশিদাররা কিনে নিতে চাইলেও বিক্রি করতে রাজি হয়নি সাধন। এক পর্যায় পার্শ্ববর্তী হাকিমপুর নলতা গ্রামের রাজু মিস্ত্রিকে ডেকে এনে নৌকা কেটে মাঝের অংশ ভাগ করে নেয় সাধন। এরপর নৌকা-জাল কেটে দিয়েছে মর্মে মিথ্যা অভিযোগ এনে প্রতিপক্ষ সোনার বাংলা মৎস্য সমিতির সভাপতি-সম্পাদকসহ পাহারাদারদের ফাঁসাতে কুটকৌশলের আশ্রয় নেয় সাধন।
মিস্ত্রী মিস্ত্রী রাজু জানায়, সাধন ও তার ছেলে গৌরাঙ্গ এবং বিষ্ণু তাকে ডেকে এনে নৌকা চার খন্ডে ভাগ করতে বলে। তাদের কথামতো পারিশ্রমিকের বিনিময়ে নৌকা চারখন্ড করলে সাধন মাঝের অংশ নিয়ে বাড়ি চলে যায়। এবং আমার পারিশ্রমিক ২শ টাকার মধ্যে ৫০ টাকা সাধন দিয়ে দেয় এবং বাকী ১৫০ টাকা ঐ তিন জনের কাছ থেকে নিতে বলে।
বিষ্ণু জানায়, নগদ টাকায় কিনে নিতে চাইলেও বিক্রি করতে রাজি হয়নি সাধন। শুধূ তার এক ঘুয়েমির কারনেই ভাল নৌকা কাটতে হয়। অপর দুই অংশিদার সবুজ ও কৃষ্ণ জানায়, তাদের কিছু না বলেই সাধন নৌকা ও জাল কেটে ভাগ করে নিয়েছে।
এ বিষয়ে সাধন বিশ^াস জানায়, আমি বাওড়ের মালিক সদস্য থেকে বাওড়ে মাছ ধরতে আসলে পাহারাদাররা আমাকে মাছ ধরতে মানা করে। এবং বাওড় থেকে উঠে যেতে বলে। সেই দু:খে আমি শেয়ারের নৌকা ও জাল কেটে ভাগ করে নিয়েছি।
এদিকে স্থানীয় বীরমুক্তিযোদ্ধা মশিয়ার রহমান, রনজিৎ, চিত্র বিশ্বাস, প্রভাষ বিশ্বাস, লাল্টু, দাউদ গাজীসহ একাধিক স্থানীয়রা জানায়, সাধন নিজেই মিস্ত্রী ডেকে এনে নৌকা কেটেছে এবং জাল কেটে ভাগ করে নিয়েছে।
সোনার বাংলা মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সম্পাদক দুলাল বিশ্বাস বলেন, জেলে পল্লীর শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করতে ও অশান্তি সৃষ্টি করতে এক শ্রেণির কু-চক্রমহল মরিয়া হয়ে উঠেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *