বেনাপোল স্থল বন্দরে আবারো শুল্ক চুরির আরেকটি চালান আটক

সোহাগ হোসেন : বেনাপোল স্থল বন্দরে অভিনব সব পদ্ধতিতে শুল্ক চুরির যে সব ঘটনা ঘটে তার একটি আবার উদঘাটিত হয়েছে এই বন্দরের ৩৪ নং পণ্যাগারে। জানা গেছে, গত ১৩ জুলাই পন্যবাহী একটি  ভারতীয় ট্রাকে ( ডব্লিউ বি-২৩-সি-৬৩৭৭)  তিন কনসাইনমেন্টে ডাইস পাউডার (ক্যামিক্যাল) পণ্য  নিয়ে বন্দরের উল্লেখিত পণ্যগারে প্রবেশ করে। আমদানিকৃত ট্রাকে এই চালানে  একই ধরনের  তিন কনসাইনমেন্ট পণ্য আসে। যার দুটি কনসাইনমেন্টের কাগজ থাকলেও আরেকটির নেই। প্রথমটিতে ৪৮০ ড্রাম দ্বিতীয়টিতে ৭ ড্রাম এবং তৃতীয়টিতে ৪০ ড্রাম  । ৪০ ড্রামের কোন কাগজপত্র নেই। তবে ভারতীয় রপ্তানি কারক তিন নামে একই রপ্তানি কারক প্রতিষ্ঠান এবং ট্রান্সপোর্ট । তবে বাংলাদেশের ৪০ ড্রামের কাগজ এর চালানে কোন আমদানি কারক নেই।  প্রশ্ন উঠেছে রপ্তানি কারক একই । একই গাড়িতে তিন কনসাইনমেন্ট পণ্য। যার একটিতে আমদানি কারক এর নাম নেই কেন? এটা কি শুল্ক চুরির একটি অভিনব কৌশল নয়? মজার ব্যপার হলো এই তিন কনসাইনমেন্ট পন্য একটি আমদানি কারকরক পেইন্ট হিবগঞ্জ  এর পক্ষে বেনাপোল এর এস, জে, এস নামক  সিএন্ডএফ আনলোড করে। আরেকটি কনসাইনমেন্ট আমদানি কারক ফকির এন্টার প্রাইজ ঢাকা এর পক্ষে সোমা এন্টারপ্রাইজ সিএন্ডএফ  আনলোড করে।  যার মেনিফেস্ট নং যথাক্রমে ১৩৯৭৭-এ তাং ১১.০৭.২০ ও ১৩৯৭৭ বি তাং ১১.০৭.২০। অন্য চালানটির মেনিফিষ্ট নাম্বার নেই। কেন নেই ? একই রপ্তানিকারক। একই ধরনের পণ্য। দুটোর কাগজ থাকে একটির থাকে না কেন? এটা কি কৌশলে শুল্ক চুরি নয়? অন্য আমদানি পণ্য এই আমদানি কারক ছাড়া অন্য কোন আমদানি কারক হতে পারে।
৩৪ নম্বর পণ্যাগারের ট্রাফিক পরিদর্শক  নাজমুল হক জানান, ট্রাক থেকে তিনটি চালানই আমার শেডে নামানো হয়েছিল । তৃতীয় চালানটির কোন সুনির্দিষ্ট কাগজপত্র না থাকায় ওই ৪০ ড্রাম  পণ্য আবার ভারতীয় গাড়িতে উঠিয়ে দেওয়া হয়। ভারতীয় ট্রাক চালক গনেশ ঘোষ বলেন, কপালের ফের। আমার মালিক স্বপন চক্রবর্তী তিনটি চালান দিয়েছেন ভারতের বনগাঁও থেকে। কিন্তু কোনটা ম্যানিফিস্ট  কোনটি সিএন্ডএফ আমি কিছুই জানি না। আমার হাতে আছে শুধু তিনটি ট্রাক চালান। কবে এই ঝঞ্জাট থেকে মুক্ত হতে পারব ওপরওয়ালা জানেন।
জানা গেছে, এই ঘটনাটি বন্দর উপ পরিচলাক মামুন কবির তরফদারকে অবহিত করার পরও তিনি রহস্যজনক ভাবে এই বিষয়টি নিয়ে নিশ্চুপ রয়েছেন। তিনি কেন বিষয়টি নিয়ে কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে লিখিত জানাননি কিংবা কোন পদক্ষেপও গ্রহন করেননি কেন? তবে কাস্টমস এর সহকারী কমিশনার উত্তম কুমার চাকমা জানিয়েছেন যথাযথ কাগজপত্র না থাকায় ওই ৪০ ড্রাম পন্য (ডাইস) আটক করা হয়েছে।
বেনাপোল বন্দরের একটি সুত্র জানায় এ ভাবে অহরহ কাগজপত্র বিহীন বেনাপোল বন্দরে অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীদের সহযোগিতায় ভারত থেকে পণ্য প্রবেশ করে। যে পণ্যর সরকারী শুল্ক ফাঁকি দেওয়া হয়। মাঝে মধ্যে দুই একটি পণ্য ধরা পড়লেও  বড় অংশ চলে যায় শুল্ক ফাঁকি দিয়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *