বেনাপোল পৌর প্রবেশদ্বার মেন গেইটে মাদক সেবকদের আখড়া

সোহাগ হোসেন : দেশের দক্ষিন পশ্চিম সীমান্ত বেনাপোল পোর্ট এর সর্ববৃহৎ প্রবেশদ্বার গেইটে এখন বসছে মাদকের মেলা। বেনাপোল পৌরসভার অর্থায়নে নির্মিত এশিয়ার এই বৃহত্তম পৌর গেইটটি এখন এ অঞ্চলের মানুষের একমাত্র বিনোদন কেন্দ্র। এখানে প্রতিদিন বিকালে বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের আড্ডায় জমে উঠে । এছাড়া দুর দুরান্ত থেকে ছুটে আসে ভ্রমন পিপাসুরা। শুক্রবার ও শনিবার দুরের মানুষের সমাগম ঘটে এ প্রবেশদ্বার প্রাঙ্গনে।

বেনাপোল বাজার থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দুরে বেনাপোল পৌর মেয়রের উদ্যেগে নির্মিত হয় এ প্রবেশদ্বার। সরকারী ছুটির দিন এখানে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়ে পরিণত হয়। সীমান্ত এলাকা হওয়ায় এখানে সুযোগ মত মাদক ব্যবসায়িরা ফেন্সিডিল, গাজা ও মদ সরবরাহ করে থাকে। এখানে দুর থেকে আসা যুবক কিশোররা প্রবেশ করার আগে এখানকার মাদক ব্যবসায়িদের সাথে যোগাযোগ করে আসে। আগে থেকে তাদের ফেন্সিডিল মদ ও গাজার অর্ডার দিয়ে থাকে। এমনকি অগ্রিম বিকাশের মাধ্যেমে টাকাও পাঠিয়ে থাকে।

এখানে খোলা আকাশের নীচে কয়েকটি ফুচাকা চটপটির দোকান ও কয়েকটি পাকা দোকানে বিক্রি হয় কাবাব ঘর, আইস ক্রিম সহ কয়েকটি কপি ও চায়ের দোকান। এছাড়া আছে ফুটপাতে কিছু চানাচুর বাদাম বিক্রেতা। এসব দর্শনার্থীদের ভীড়ে মোবাইলে যোগাযোগের মাধ্যমে নির্বিঘে মাদক সেবন করে চলে যাচ্ছে মাদক সেবিরা।

বেনাপোল পৌর গেইট এলাকার একজন ব্যবসায়ি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এখানে শার্শা থানা ও বেনাপোল পোর্ট থানার সাথে সাপ্তাহিক ও মাসিক চুক্তিতে বসে বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাদকের কেনা বেচা। যশোর সহ দক্ষিনাঞ্চলের অনেক থানা এলাকার যুবকরা মোটরসাইকেল যোগে বন্ধু বান্ধব সহ আসে এখানে ফেন্সিডিল সেবন করতে। সেই সাথে অনেকের চলে গাঁজার টান।

বেনাপোল পৌরগেইট এলাকায় গিয়ে দেখা যায় গেটের বিভিন্ন পাশে যুবকরা বসে আড্ডার ছলে সেবন করছে ফেন্সিডিল। আর এসব ফেন্সিডিলের বোতল তারা সেখানে ফেলে রাখায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দেয় এখানে ভবিষ্যাতে পরিবার পরিজন নিয়ে বেড়াতে আসা যাবে না। এখানে জুপড়ি চায়ের দোকানদারাও ফেন্সিডিলের যোগান দেয় বলে নানা গুঞ্জন রয়েছে।

বেনাপোল পৌর গেইটে অনেক ভ্রমন পিপাসুরা বলেন, এখানকার পরিবেশ ঠিক রাখতে হলে প্রশাসনের নজরদারি বাড়াতে হবে। যারা মাদক সেবন করছে তারা সকলে যুবক ও কিশোর। তাই যুব সমাজকে ঠিক রাখতে হলে এখানকার আইনশৃ্খংলা বাহিনী সহ স্থানীয় প্রশাসনকে জরুরী ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে হবে। তানাহলে যুব সমাজ ধ্বংসের দ্বারে পৌছে যাবে দ্রুত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *