বাকড়ার একটি সংখ্যালঘু পরিবারের নিকট জমি বিক্রয়ের প্রতারণা

আনিছুর রহমান:।। ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া ইউনিয়নের একটি সংখ্যালঘু পরিবারের নিকট জমি বিক্রয়ের ক্রমাগতই প্রতারণা করার অভিযোগ উঠেছে। এই বিষয়ে সংখ্যালঘু পরিবারটি কোন দিশা খুঁজে পাচ্ছে না। সংখ্যালঘু পরিবারটি হল হাজিরবাগ ইউনিয়নের সোনাকুড় গ্রামের একটি সংখ্যালঘু পরিবারের সদস্য বীরেন্দ্রনাথ চৌধুরীর ছেলে শ্রী বিশ্বনাথ চৌধুরী।
বিশ্বনাথ চৌধুরী জানান, বাঁকড়া ইউনিয়নের বাঁকড়া গ্রামের মৃত বাবর আলী মোড়লের ছেলে মফিজুর রহমান (৫৫) ও মফিজুর রহমানের ছেলে রোকনুজ্জামান (২৮) তার খুবই পরিচিতি ব্যক্তি। আর পরিচিত হওয়ার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মফিজুর রহমান আমার কাছ থেকে বাঁকড়া মৌজায় ৫ শতক জমি ক্রয় বাবদ ষ্ট্যামে স্বাক্ষর করে ১০ লক্ষ ৫০হাজার টাকা গত ২৭ জুলাই ২০২০ তারিখে। ১২ জুলাই ২০১৯ তারিখ উক্ত জমি রেজিষ্ট্রেরি করে দিবে এবং জনতা ব্যাংক লিমিটেড বাঁকড়া শাখার একটি চেকে ধার হিসাবে ১০ লক্ষ ৫০হাজার টাকা গ্রহন করে। পরবর্তীতে মফিজুর রহমান জমি রেজিষ্ট্রেরি না করে নানা প্রকার তালবাহানা করে।
এমতাবস্থায়  গত  5 আগস্ট ২০২০ ইং তারিখ বিকাল অনুমানিক ৩ টার সময় আমার মোবাইল ফোনে মফিজুর রহমান ফোন করিয়া জানায় যে উক্ত ষ্ট্যামটি সঙ্গে নিয়ে তাহার বাড়ীতে গিয়ে টাকা আনতে বলে। তার কথার ভিত্তিতে একই দিন বিকাল সাড়ে ৩টার সময় আমি (বিশ্বনাথ চৌধুরী) সহ আমার স্ত্রী ও সন্তানকে সাথে নিয়ে মফিজুর রহমানের বসত বাড়ীতে গেলে মফিজুর রহমান আমার কাছ থেকে ষ্ট্যামটি নিয়ে ফটোকপি করা কথা বলে তার ছেলে রোকনুজ্জামানের নিকট দেন।
রোকনুজ্জামান ষ্ট্যামে ফটোকপি করার পূর্বে নিজ হাতে ষ্ট্যামের প্রতি পৃষ্ঠার শেষের দিকে ১০এপ্রিল ২০২০ তারিখে ৮ লক্ষ টাকা প্রদান করেছে বলে লিখে নিজেই স্বাক্ষর করে। ষ্ট্যামের পিছনে প্রতারণা পূর্বক ৮ লক্ষ টাকা পরিশোধ দেখিয়া কারণ জানতে চাইলে মফিজুর রহমান ও রোকনুজ্জামান আামাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ সহ বিভিন্ন প্রকার হুমকি-ধমকি দেয়। তবে সে যদি আমাকে ভালো ভাবে আমার পাওনা টাকা ফেরত দেয় তাহলে শেষের পৃষ্ঠায় শুধুমাত্র তার জমা  দেওয়া টাকা ও স্বাক্ষর থাকবে। কিন্তু তার ছেলে সেটা না বুঝতে পেরে ষ্ট্যাম্পের ৫টি পেজেরই তলায় স্বাক্ষর করে দিয়েছে। তাহলে আমি তাদের নিকট পাবো ১০ লক্ষ ৫০হাজার টাকা আর তারা আমাকে কি উক্ত টাকার বিপরীতে ৪০লক্ষ টাকা দিয়েছে ? তারা আমাকে কোন টাকা দেয়নি। তাবে আমি (বিশ্বনাথ চৌধুরী) যে তাদের কাছে টাকা পাবো, সেটা মফিজুর রহমান আমার সামনা সামনি কথা বলার সময় আমি ১ঘন্টা ৫৪ সেকেন্ড রেকোডিং করি সেখানে সব কিছুই তার স্বিকার করেছে সে মামলার ভয়ে এটা করেছে।
মফিজুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি সংবাদকর্মীদের বলেন, আমি তাকে আমার ছেলের মাধ্যমে ৮ লক্ষ টাকা দিয়েছি। আর সে এখন অস্বিকার করছে। সে আদালতে গিয়েছে। আমি আদালতে যাবো। সে যদি আমার নামে পত্রিকায় নিউজ করে তাহলে আমরাও করবো !

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *