বঙ্গবন্ধু টানেলের খনন কাজ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

চট্টগ্রাম থেকে আবুল কাশেম : দেশের প্রথম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের বোরিং কার্যক্রম উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার বেলা ১১টা ২০ মিনিটে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। এর পর পরই তিনি টনেলের খনন কাজ পরিদর্শন করেন। এ ছাড়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের মূল নির্মাণ কাজের উদ্বোধনও করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

কর্ণফুলীর তলদেশে নির্মাণাধীন প্রায় দশ হাজার কোটি টাকার এই টানেল উপমহাদেশের কোনো নদীর তলদেশে প্রথম টানেল। এটির নাম দেওয়া হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল। এর দৈর্ঘ্য হবে ৩ দশমিক ৪ কিলোমিটার।

নদীর তলদেশ দিয়ে দুটি টিউবে চারলেন টানেল সড়ক নির্মাণ করা হবে। টানেলের পূর্ব ও পশ্চিম পাড়ে সাড়ে ৫ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক থাকবে। উভয় পাশের সংযোগ সড়কসহ মোট দৈর্ঘ্য হবে ৯ দশমিক ৩৩ কিলোমিটার। ইতোমধ্যে প্রকল্পটির ২৪ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।

সূত্রে জানা গেছে, বাইরের কাজ প্রায় গুছিয়ে আনার পর টানেলের মূল বোরিং কাজ শুরু করা হচ্ছে। কর্ণফুলী নদীর তলদেশের মাটি থেকে কমপক্ষে ৩৬ ফুট থেকে ১০৮ ফুট পর্যন্ত গভীরে গিয়ে বোরিং করে পৃথক দুটি টিউব স্থাপন করে টানেল নির্মাণ করা হবে। একেকটি টিউবের চওড়া হবে ৩৫ দশমিক ৪৩ ফুট এবং উচ্চতা হবে ১৫.৭৪ ফুট। একটি টিউবে দুটি স্কেল বসানো থাকবে, সেই স্কেল দিয়ে দুই লেনে গাড়ি চলাচল করবে। একই রকমভাবে আরেকটি টিউব থাকবে। দুটি টিউবের মাঝে কমপক্ষে ৩৬ ফুটের ব্যবধান থাকবে।

সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, টানেল বোরিং মেশিন (টিবিএম) তিনতলা ভবনের সমান উচ্চতার। এটি গত জুলাই মাসে চীন থেকে আনা হয়। পৃথক অংশে ভাগ করে আনা এই মেশিন কর্ণফুলী নদীর পাড়ে পুনরায় জোড়া লাগিয়ে স্থাপন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে টিবিএম মেশিনের পরীক্ষা-নিরীক্ষাও সম্পন্ন হয়েছে।

কর্ণফুলীর এ পাড়ে নেভাল একাডেমির পাশ থেকে নদীর অপর পাড়ের সিইউএফএল এবং কাফকোর মাঝ বরাবর গিয়ে টানেল উঠবে। এই টানেলই চট্টগ্রামকে চীনের সাংহাইয়ের আদলে ‘ওয়ান সিটি টু টাউন’ গড়ে তোলার অপার এক সম্ভাবনা তৈরি করবে।

জানা গেছে, এই টানেল দিয়ে প্রথম বছরই ৬৩ লাখ গাড়ি চলাচল করবে। চালুর তিন বছর পর ওই সংখ্যা দাঁড়াবে ৭৬ লাখে। প্রথম বছরের ৬৩ লাখ গাড়ির মধ্যে ৫১ শতাংশ হবে কন্টেইনারবাহী ট্রেইলর এবং বিভিন্ন ধরনের ট্রাক ও ভ্যান।

বাকি ৪৯ শতাংশের মধ্যে ১৩ লাখ বাস, মিনিবাস ও মাইক্রোবাস এবং ১২ লাখ কার, জিপ ও বিভিন্ন ছোটগাড়ি চলাচল করবে। গাড়ির সংখ্যা প্রতি বছরই বৃদ্ধি পাবে। পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে এই টানেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টদের আশা।

অন্যদিকে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের মূল নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চট্টগ্রাম মহানগরের লালখান বাজার থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হবে।

রোববার বেলা পৌনে ১২টায় নগরের পতেঙ্গায় ফলক উন্মোচন করে প্রকল্পের মূল কাজের উদ্বোধন করেন তিনি। এর আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের বোরিং কাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সকালে সরাসরি পতেঙ্গার সাগর পাড়ে সভামঞ্চে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী।

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েটিতে ব্যয় হবে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা। ৪ লেনের এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েটির দৈর্ঘ্য ১৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *